আদালতে জমি ক্রোক হলে অবমুক্ত করার নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

টাকা দিয়ে বৈধ দলিলমূলে জমি কিনে নিজের নামে নামজারি করে ভোগদখলে আছেন, কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখলেন আদালতের নাজির ও পুলিশ এসে জমিতে লাল নিশান টাঙিয়ে ঢোলশোহরত দিয়ে ঘোষণা করছে—‘এই জমি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে’। খোঁজ নিয়ে জানলেন জমির সাবেক মালিকের কোনো ব্যাংক ঋণ বা পারিবারিক মামলার কারণে আপনার জমিটি ক্রোকের তালিকায় চলে গেছে। এমন চরম সংকটে কীভাবে আদালত থেকে নিজের জমি অবমুক্ত বা খালাস করাবেন, তার আইনি সমাধান তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

আদালত কখন এবং কেন সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) করেন?

কোনো অর্থ জারি মামলা (Money Execution), অর্থ ঋণ মামলা কিংবা পারিবারিক দেনমোহর মামলায় ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের নিশ্চয়তা হিসেবে আদালত দেনাদারের স্থাবর সম্পত্তি ‘ক্রোক’ করেন। ক্রোকের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পত্তিটির হস্তান্তর বন্ধ রাখা যেন পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করে বাদীর পাওনা পরিশোধ করা যায়।

দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৮ রুল ৫: রায়পূর্ব ক্রোক (Attachment before Judgment)

মামলার রায় হওয়ার পূর্বেই যদি আদালত আশঙ্কা করেন যে বিবাদী তার সম্পত্তি বিক্রি করে আত্মগোপন করতে পারেন, তবে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৮ রুল ৫ অনুযায়ী আদালত রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ দেন। তবে এই ক্রোকাদেশ কোনো তৃতীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির বৈধ স্বত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না।

অর্ডার ২১ রুল ৫৮: নির্দোষ ক্রেতা বা তৃতীয় পক্ষের দাবির আপত্তি (Claim Petition)

যদি দেনাদারের নামের ভুলের কারণে আপনার কেনা বা পৈতৃক জমি ভুলবশত ক্রোক হয়ে যায়, তবে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২১ রুল ৫৮ (Order 21 Rule 58, CPC) অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সেই আদালতে একটি ‘ক্লেইম পিটিশন’ বা দাবি আপত্তির মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। এতে নিজেকে বৈধ স্বত্বাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করে ক্রোকাদেশ থেকে জমি অবমুক্তির আবেদন জানাতে হয়।

আদালতে জমি অবমুক্তির জন্য প্রমাণের ৩টি মূল চাবিকাঠি

শুনানিতে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে প্রমাণ করতে হবে:

  • ক্রোকাদেশ জারি হওয়ার পূর্বেই আপনি সম্পূর্ণ বৈধ মূল্যে জমিটি সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন।
  • জমির নামজারি খতিয়ান আপনার নামে সম্পন্ন এবং আপনি সরকারের খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করছেন।
  • জমিতে আপনার প্রকৃত ও শান্তিপূর্ণ দখল রয়েছে এবং আপনি মামলার কোনো পক্ষ বা ঋণখেলাপী নন।

জমি নিলাম বিক্রি স্থগিত রাখার জরুরি আদালতের আদেশ

ক্লেইম পিটিশন দায়েরের সাথে সাথেই আদালত থেকে উক্ত জমির ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি বা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত’ (Stay on Auction) রাখার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নিতে হবে। আদালত সন্তুষ্ট হলে নিলাম কার্যক্রম বাতিল করে আপনার জমি ক্রোকমুক্ত করার চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করবেন।

জমি ক্রোক থেকে রক্ষার স্টেপ-বাই-স্টেপ প্র্যাকটিক্যাল চেকলিস্ট

  1. যে আদালতের আদেশে ক্রোক হয়েছে সেই মামলার নম্বর ও আদালতের নাম বের করুন।
  2. ক্রোকাদেশের সার্টিফায়েড নকল এবং আপনার সাফ-কবলা ও নামজারি দলিল প্রস্তুত করুন।
  3. দেরি না করে দেওয়ানি আদালতে অর্ডার ২১ রুল ৫৮ অনুযায়ী আপত্তি মোকদ্দমা দিন।
  4. আদালত থেকে অবমুক্তির আদেশের কপি স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠিয়ে বালামে এন্ট্রি করান।