লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17 · ১২ মিনিট পড়ুন
টাকা দিয়ে বৈধ দলিলমূলে জমি কিনে নিজের নামে নামজারি করে ভোগদখলে আছেন, কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখলেন আদালতের নাজির ও পুলিশ এসে জমিতে লাল নিশান টাঙিয়ে ঢোলশোহরত দিয়ে ঘোষণা করছে—‘এই জমি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে’। খোঁজ নিয়ে জানলেন জমির সাবেক মালিকের কোনো ব্যাংক ঋণ বা পারিবারিক মামলার কারণে আপনার জমিটি ক্রোকের তালিকায় চলে গেছে। এমন চরম সংকটে কীভাবে আদালত থেকে নিজের জমি অবমুক্ত বা খালাস করাবেন, তার আইনি সমাধান তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
কোনো অর্থ জারি মামলা (Money Execution), অর্থ ঋণ মামলা কিংবা পারিবারিক দেনমোহর মামলায় ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের নিশ্চয়তা হিসেবে আদালত দেনাদারের স্থাবর সম্পত্তি ‘ক্রোক’ করেন। ক্রোকের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পত্তিটির হস্তান্তর বন্ধ রাখা যেন পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করে বাদীর পাওনা পরিশোধ করা যায়।
মামলার রায় হওয়ার পূর্বেই যদি আদালত আশঙ্কা করেন যে বিবাদী তার সম্পত্তি বিক্রি করে আত্মগোপন করতে পারেন, তবে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৮ রুল ৫ অনুযায়ী আদালত রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ দেন। তবে এই ক্রোকাদেশ কোনো তৃতীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির বৈধ স্বত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না।
যদি দেনাদারের নামের ভুলের কারণে আপনার কেনা বা পৈতৃক জমি ভুলবশত ক্রোক হয়ে যায়, তবে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২১ রুল ৫৮ (Order 21 Rule 58, CPC) অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সেই আদালতে একটি ‘ক্লেইম পিটিশন’ বা দাবি আপত্তির মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। এতে নিজেকে বৈধ স্বত্বাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করে ক্রোকাদেশ থেকে জমি অবমুক্তির আবেদন জানাতে হয়।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
শুনানিতে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে প্রমাণ করতে হবে:
ক্লেইম পিটিশন দায়েরের সাথে সাথেই আদালত থেকে উক্ত জমির ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি বা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত’ (Stay on Auction) রাখার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নিতে হবে। আদালত সন্তুষ্ট হলে নিলাম কার্যক্রম বাতিল করে আপনার জমি ক্রোকমুক্ত করার চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করবেন।