হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে কত টাকা লাগে? ২০২৬ সম্পূর্ণ খরচের তালিকা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10 · ১২ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>গ্রেফতার হওয়ার আগেই জামিন নেওয়া সম্ভব — এটিকে বলা হয় <strong>আগাম জামিন</strong> বা Anticipatory Bail। বাংলাদেশে অনেকেই জানেন না যে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে আসলে কত টাকা খরচ হয়। অসাধু মধ্যস্থতাকারীরা প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনি ঠকবেন না। বিস্তারিত জানতে <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a>-এর সাথে এখনই যোগাযোগ করুন অথবা কল করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a>।</p>

⚡ আগাম জামিনের খরচ — সংক্ষিপ্ত উত্তর
  • কোর্ট ফি: ৫০০ – ২,০০০ টাকা (মামলার ধরন অনুযায়ী)
  • আইনজীবী ফি (হাইকোর্ট): সাধারণত ১০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি
  • সেশন কোর্টে আবেদন করলে খরচ অপেক্ষাকৃত কম: ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা
  • জামিনদার লাগবে এবং তার সম্পদের দলিল জমা দিতে হবে
  • সাধারণত ৩ – ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানি হয়
📋 সূচিপত্র
  1. আগাম জামিন কী?
  2. কে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন?
  3. কোথায় আবেদন করবেন — সেশন কোর্ট নাকি হাইকোর্ট?
  4. হাইকোর্টে আগাম জামিনের সম্পূর্ণ খরচের তালিকা
  5. সেশন কোর্টে আগাম জামিনের খরচ
  6. আগাম জামিনের আবেদনের ধাপসমূহ
  7. জামিনের শর্তাবলী
  8. জামিন বাতিল হতে পারে কখন?
  9. আইনজীবীর পরামর্শ নিন

১. আগাম জামিন কী?

আগাম জামিন (Anticipatory Bail) হলো এমন একটি আইনি সুরক্ষা যা একজন ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার আগেই আদালত থেকে নিতে পারেন। বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure, 1898)-এর ধারা ৪৯৮ ও ৪৯৯ অনুযায়ী এই সুবিধা প্রদান করা হয়।

📌 আগাম জামিনের মূল উদ্দেশ্য

  • মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারের ভয় থেকে মুক্তি
  • গ্রেফতার হওয়ার আগেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা
  • আসামির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করা
  • অযৌক্তিক পুলিশি হয়রানি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা

এটি মূলত দুটি পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়: (১) যখন কেউ জানতে পারেন যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, এবং (২) যখন থানা পুলিশ কাউকে অকারণে গ্রেফতারের হুমকি দেয়।

২. কে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন?

বাংলাদেশের আইনে যেকোনো ব্যক্তি যিনি আশঙ্কা করছেন যে তাকে জামিনঅযোগ্য অপরাধে গ্রেফতার করা হতে পারে, তিনি আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন।

বিষয়বিবরণ
আবেদনকারীযেকোনো ব্যক্তি যিনি গ্রেফতারের আশঙ্কায় আছেন
অপরাধের ধরনজামিনঅযোগ্য (Non-bailable) অপরাধ হতে হবে
শর্তএখনও গ্রেফতার হননি এমন ব্যক্তি
প্রতিনিধিত্বঅবশ্যই নিবন্ধিত আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে

⚠️ যারা আবেদন করতে পারবেন না: যারা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন তারা আগাম জামিন নিতে পারবেন না — তাদের নিয়মিত জামিনের (Regular Bail) আবেদন করতে হবে।

৩. কোথায় আবেদন করবেন — সেশন কোর্ট নাকি হাইকোর্ট?

আগাম জামিনের আবেদন দুটি আদালতে করা যায়। কোথায় আবেদন করবেন তা নির্ভর করে মামলার গুরুত্ব, জরুরিতা এবং খরচ বহন করার সক্ষমতার উপর।

🏛️ সেশন কোর্ট

  • প্রথম ধাপের আদালত
  • তুলনামূলক কম খরচ
  • দ্রুত শুনানি পাওয়া যায়
  • স্থানীয়ভাবে আবেদন সম্ভব
  • সেশন জজ কর্তৃক আদেশ দেওয়া হয়

⚖️ হাইকোর্ট বিভাগ

  • উচ্চ আদালত — অধিক কার্যকর
  • সেশন কোর্ট প্রত্যাখ্যান করলে আসতে হয়
  • বিশেষ বা জটিল মামলায় সরাসরি আবেদন
  • তুলনামূলক বেশি খরচ
  • ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট ভবনে আবেদন

সাধারণ নিয়ম হলো — প্রথমে সেশন কোর্টে আবেদন করুন। সেশন কোর্ট প্রত্যাখ্যান করলে বা পরিস্থিতি জটিল হলে হাইকোর্টে যান।

৪. হাইকোর্টে আগাম জামিনের সম্পূর্ণ খরচের তালিকা

হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার মোট খরচ নির্ভর করে মামলার জটিলতা, আইনজীবীর অভিজ্ঞতা এবং মামলা পরিচালনার সময়কালের উপর।

খরচের খাতন্যূনতমসর্বোচ্চমন্তব্য
কোর্ট ফি (Court Fee)৫০০ টাকা২,০০০ টাকামামলার ধরন অনুযায়ী
আইনজীবী রিটেইনার ফি১০,০০০ টাকা৫০,০০০+ টাকাসিনিয়র আইনজীবীর ক্ষেত্রে বেশি
আর্জি (Petition) প্রস্তুতি২,০০০ টাকা৮,০০০ টাকাটাইপিং, মুদ্রণ ও আনুষঙ্গিক
নথি সংগ্রহ ও যাচাই৫০০ টাকা৩,০০০ টাকাFIR কপি, মামলার কাগজপত্র
প্রতি তারিখ শুনানি ফি২,০০০ টাকা১০,০০০ টাকাপ্রতিটি শুনানির তারিখের জন্য
পরিবহন ও আনুষঙ্গিক৫০০ টাকা২,০০০ টাকাঢাকার বাইরে থেকে এলে বেশি
মোট আনুমানিক খরচ১৩,৫০০ টাকা৭৫,০০০+ টাকামামলার জটিলতার উপর নির্ভরশীল

💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের ফি অনেক বেশি হতে পারে। তবে জুনিয়র বা মধ্যম অভিজ্ঞতার আইনজীবীর মাধ্যমেও কার্যকর জামিন পাওয়া সম্ভব।

৫. সেশন কোর্টে আগাম জামিনের খরচ

সেশন কোর্টে আগাম জামিন অনেক বেশি সাশ্রয়ী। যদি মামলাটি জটিল না হয়, প্রথমে সেশন কোর্টেই চেষ্টা করা উচিত।

খরচের খাতআনুমানিক পরিমাণ
কোর্ট ফি২০০ – ৫০০ টাকা
আইনজীবী ফি (সম্পূর্ণ মামলা)৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা
আর্জি ও নথি প্রস্তুতি১,০০০ – ৩,০০০ টাকা
আনুষঙ্গিক খরচ৫০০ – ১,৫০০ টাকা
মোট আনুমানিক৬,৭০০ – ২০,০০০ টাকা

৬. আগাম জামিনের আবেদনের ধাপসমূহ

আগাম জামিনের আবেদন একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় করতে হয়। নিচে ৬টি ধাপ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১

আইনজীবী নিয়োগ করুন

অভিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবী নিয়োগ করুন যিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন মামলায় দক্ষ।

২

প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন

FIR-এর কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ঘটনার বিবরণ, জামিনদারের তথ্য ও সম্পদের দলিল সংগ্রহ করুন।

৩

পিটিশন প্রস্তুত করুন

আইনজীবী আগাম জামিনের আর্জি তৈরি করবেন — মামলার বিস্তারিত, গ্রেফতারের আশঙ্কার কারণ ও জামিনের যুক্তি সহ।

৪

কোর্টে দাখিল করুন

হাইকোর্ট রেজিস্ট্রি অফিসে পিটিশন ও কোর্ট ফি জমা দিন। মামলা নম্বর সংগ্রহ করুন।

৫

শুনানিতে অংশ নিন

নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকুন। সাধারণত ৩-১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম শুনানি হয়।

৬

জামিন আদেশ গ্রহণ করুন

আদালত জামিন মঞ্জুর করলে জামিননামা সম্পন্ন করুন এবং আদেশের কপি সংগ্রহ করুন।

৭. আগাম জামিনের শর্তাবলী

আদালত সাধারণত শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। এই শর্তগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

📋 সাধারণ জামিনের শর্তসমূহ

  • তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত হাজির থাকা
  • দেশ ছেড়ে যেতে না পারা (Passport জমা দিতে হতে পারে)
  • মামলা সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা
  • নির্দিষ্ট জামিনদার (Surety) প্রদান করা
  • আদালতের প্রতিটি তারিখে হাজির থাকা
  • মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র নষ্ট না করা
  • অপরাধ না করা

💰 জামিনদারের সম্পদের প্রয়োজনীয়তা

জামিনদারকে সাধারণত স্থাবর সম্পত্তির দলিল (জমি বা বাড়ির কাগজপত্র) বা ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হয়। সম্পদের মূল্য মামলার ধরন ও আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে।

৮. জামিন বাতিল হতে পারে কখন?

আগাম জামিন পাওয়ার পরেও কিছু কারণে তা বাতিল হতে পারে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

❌ জামিন বাতিলের কারণ

  • আদালতের শর্ত লঙ্ঘন করলে
  • সাক্ষীদের ভয় দেখালে বা প্রভাবিত করলে
  • দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করলে
  • পুনরায় অপরাধমূলক কাজ করলে
  • নির্ধারিত তারিখে কোর্টে না আসলে

✅ জামিন বহাল রাখতে

  • সকল শর্ত মেনে চলুন
  • প্রতিটি তারিখে কোর্টে আসুন
  • আইনজীবীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন
  • পুলিশের কাছে যথাসময়ে হাজির হন
  • দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিন

৯. আইনজীবীর পরামর্শ নিন

⚖️ আগাম জামিন বিষয়ে সরাসরি সহায়তা

গ্রেফতারের আশঙ্কায় আছেন? অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম হাইকোর্ট ও সেশন কোর্টে আগাম জামিনের মামলায় বিশেষজ্ঞ। সঠিক আইনি পরামর্শ নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।

📞 কল করুন: 01712655546 💬 WhatsApp 📍 চেম্বার ঠিকানা

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে মোট কত টাকা খরচ হয়?

হাইকোর্টে আগাম জামিনের মোট খরচ সাধারণত ১৩,৫০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। এর মধ্যে কোর্ট ফি ৫০০-২,০০০ টাকা, আইনজীবীর ফি ১০,০০০-৫০,০০০+ টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচ অন্তর্ভুক্ত।

আগাম জামিন পেতে কতদিন সময় লাগে?

সাধারণত আবেদন দাখিলের ৩ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম শুনানি হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে 'অর্জেন্ট হিয়ারিং'-এর আবেদন করা যেতে পারে।

আগাম জামিনের আর্জি কীভাবে লিখতে হয়?

আগাম জামিনের আর্জিতে অবশ্যই থাকতে হবে: আবেদনকারীর পরিচয়, মামলার বিবরণ (FIR নম্বর, ধারা), গ্রেফতারের আশঙ্কার কারণ, নিরপরাধিতার যুক্তি, জামিনদারের তথ্য এবং প্রার্থিত ত্রাণ। এটি অবশ্যই একজন নিবন্ধিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে।

আগাম জামিনের কী কী শর্ত থাকতে পারে?

সাধারণ শর্তগুলো: পুলিশের কাছে নিয়মিত হাজিরা, দেশ ছেড়ে যেতে না পারা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা, জামিনদার প্রদান এবং প্রতিটি আদালত তারিখে উপস্থিত থাকা।

সেশন কোর্ট প্রত্যাখ্যান করলে কি হাইকোর্টে যাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, সেশন কোর্ট আগাম জামিন প্রত্যাখ্যান করলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। সেশন কোর্টের আদেশের কপি সংযুক্ত করে হাইকোর্টে নতুন আবেদন দাখিল করতে হবে।

আগাম জামিন ও নিয়মিত জামিনের পার্থক্য কী?

আগাম জামিন গ্রেফতারের আগে নেওয়া হয়, নিয়মিত জামিন গ্রেফতারের পরে। আগাম জামিন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, আর নিয়মিত জামিন হলো গ্রেফতারের পর আটক থেকে মুক্তির উপায়।

আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০