অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির নিয়ম ও মামলা ২০২৬ — ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বা কষ্টার্জিত কেনা জমি হঠাৎ অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) ‘ক’ বা ‘খ’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খাজনা-খারিজ বন্ধ হয়ে গেছে? <strong>অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুসারে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বৈধ জমি অবমুক্ত করা সম্ভব।</strong> জরুরি আইনি পরামর্শের জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর শত্রু সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) হিসেবে গণ্য হয়। সরকার ২০১১ ও ২০১৩ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সংশোধনী এনে জমিগুলোকে দুটি তফসিলে ভাগ করে:

তফসিলের ধরন বর্তমান অবস্থা আইনি প্রতিকার
‘ক’ তফসিল (Ka Schedule) সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে বা ইজারায় থাকা সম্পত্তি সরাসরি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে অবমুক্ত করতে হয়
‘খ’ তফসিল (Kha Schedule) মূল মালিক বা তাদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের ব্যক্তিগত দখলে থাকা সম্পত্তি আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘খ’ তফসিল বাতিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনালে না গিয়ে এসিল্যান্ড অফিস থেকেই অবমুক্তযোগ্য

২০১৩ সালের সংশোধিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের ধারা অনুযায়ী, ‘খ’ তফসিল সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে হলো:

  • ‘খ’ তফসিলে নাম থাকার অজুহাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কোনো বৈধ মালিকের নামজারি বা ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন না।
  • যদি কোনো তহশিলদার বা এসিল্যান্ড খারিজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী আবেদন এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (Writ of Mandamus) দায়ের করা যায়।

যদি আপনার বৈধ জমি ভুলবশত ‘ক’ তফসিলে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি ইজারায় চলে যায়, তবে জেলা জজ কোর্টে অবস্থিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (Vested Property Return Tribunal) মামলা দায়ের করতে হয়:

  1. ট্রাইব্যুনালের বিচারক: পদাধিকারবলে সংশ্লিষ্ট জেলার সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  2. আবেদনের পক্ষ: আবেদনকারী বাদী হবেন এবং জেলা প্রশাসক (Deputy Commissioner) প্রধান বিবাদী হবেন।
  3. দাবি প্রমাণের মূল ভিত্তি: মূল মালিক কখনো বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিদেশে স্থায়ী হননি এবং ১৯৭১ সালের পূর্বে বা পরে তিনি বা তার ওয়ারিশরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছেন তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা।

অর্পিত সম্পত্তির মামলা মূলত দলিলের ওপর টিকে থাকে। শুনানিতে যেসব নথি প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে:

  • সিএস (CS) ও এসএ (SA) খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি
  • আরএস (RS) বা বিএস (BS) খতিয়ান এবং নামজারি পরচা
  • মূল রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের সহি মোহরযুক্ত নকল (Certified Copy of Title Deed)
  • ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত ভোটার তালিকা ও ওয়ারিশান সনদ
  • ১৯৬৫ সালের পূর্বে ও পরবর্তীতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলাসমূহ

ট্রাইব্যুনাল উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জমি অবমুক্তির রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রির পর যা করণীয়:

আদালত স্তর আবেদনের সময়সীমা ফলাফল ও ভূমিকা
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল ট্রাইব্যুনালের রায়ের ৪৫ দিনের মধ্যে জেলা জজ আদালতে আপিল দায়ের; সরকার বা বাদী যেকোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারে
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ৯০ দিন সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে রিট পিটিশন বা সিভিল রিভিশন দায়ের করে চূড়ান্ত স্বত্ব প্রতিষ্ঠা

⚖️ অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তিতে অভিজ্ঞ আইনজীবীর আইনি সহায়তা

আপনার বংশানুক্রমিক জমি ভুল তফসিলে পড়লে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিরাট সংকট তৈরি করে। ট্রাইব্যুনাল ড্রাফটিং ও হাইকোর্টে আপিল পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ