অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির নিয়ম ও মামলা ২০২৬ — ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৫ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বা কষ্টার্জিত কেনা জমি হঠাৎ অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) ‘ক’ বা ‘খ’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খাজনা-খারিজ বন্ধ হয়ে গেছে? <strong>অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুসারে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বৈধ জমি অবমুক্ত করা সম্ভব।</strong> জরুরি আইনি পরামর্শের জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
mutation.land.gov.bd, land.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd
মোট সরকারি নামজারি ফি
১,১৭০ টাকা (কোর্ট ফি ২০ + নোটিশ ৫০ + রেকর্ড সংশোধন ১,০০০ + খতিয়ান ১০০ টাকা)
নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়
সাধারণত ২৮ কার্যদিবস (প্রবাসীদের জন্য দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ ব্যবস্থা)
ভূমি সেবা হটলাইন
১৬১২২ (কল সেন্টার) — ২৪ ঘণ্টা সরকারি ভূমি তথ্য ও অভিযোগ
অনলাইন খতিয়ান ও ডিসিআর
অনলাইন পেমেন্টের পর কিউআর কোডযুক্ত ই-খতিয়ান ও DCR ডাউনলোড
⚡ অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির ৫টি জরুরি আইনি ধাপ
জমিটি ‘ক’ তফসিল নাকি ‘খ’ তফসিল তা সরকারি গেজেট দেখে নিশ্চিত হন
‘খ’ তফসিলভুক্ত জমি আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাতিল ঘোষিত হওয়ায় এসিল্যান্ড অফিসে সরাসরি নামজারি ও খাজনা দাখিলা চাওয়া যায়
‘ক’ তফসিলভুক্ত জমির ক্ষেত্রে জেলা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (যুগ্ম জেলা জজ আদালত) নির্দিষ্ট মেয়াদে অবমুক্তির পিটিশন দাখিল করতে হয়
মূল সিএস, এসএ, আরএস পরচা, ওয়ারিশান সনদ এবং মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিক চেইন অব ডকুমেন্টস পেশ করুন
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হলে জেলা জজ সমন্বয়ে গঠিত প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে আপিল করার বিধান রয়েছে
১. অর্পিত সম্পত্তি কী এবং ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিলের পার্থক্য
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর শত্রু সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) হিসেবে গণ্য হয়। সরকার ২০১১ ও ২০১৩ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সংশোধনী এনে জমিগুলোকে দুটি তফসিলে ভাগ করে:
তফসিলের ধরন
বর্তমান অবস্থা
আইনি প্রতিকার
‘ক’ তফসিল (Ka Schedule)
সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে বা ইজারায় থাকা সম্পত্তি
সরাসরি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে অবমুক্ত করতে হয়
‘খ’ তফসিল (Kha Schedule)
মূল মালিক বা তাদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের ব্যক্তিগত দখলে থাকা সম্পত্তি
আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘খ’ তফসিল বাতিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনালে না গিয়ে এসিল্যান্ড অফিস থেকেই অবমুক্তযোগ্য
২. ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমির বর্তমান আইনগত অবস্থান (স্বয়ংক্রিয় অবমুক্তি)
২০১৩ সালের সংশোধিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের ধারা অনুযায়ী, ‘খ’ তফসিল সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে হলো:
‘খ’ তফসিলে নাম থাকার অজুহাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কোনো বৈধ মালিকের নামজারি বা ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন না।
যদি কোনো তহশিলদার বা এসিল্যান্ড খারিজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী আবেদন এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (Writ of Mandamus) দায়ের করা যায়।
৩. ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি অবমুক্তিতে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার নিয়ম
যদি আপনার বৈধ জমি ভুলবশত ‘ক’ তফসিলে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি ইজারায় চলে যায়, তবে জেলা জজ কোর্টে অবস্থিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (Vested Property Return Tribunal) মামলা দায়ের করতে হয়:
ট্রাইব্যুনালের বিচারক: পদাধিকারবলে সংশ্লিষ্ট জেলার সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আবেদনের পক্ষ: আবেদনকারী বাদী হবেন এবং জেলা প্রশাসক (Deputy Commissioner) প্রধান বিবাদী হবেন।
দাবি প্রমাণের মূল ভিত্তি: মূল মালিক কখনো বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিদেশে স্থায়ী হননি এবং ১৯৭১ সালের পূর্বে বা পরে তিনি বা তার ওয়ারিশরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছেন তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
আপনার বংশানুক্রমিক জমি ভুল তফসিলে পড়লে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিরাট সংকট তৈরি করে। ট্রাইব্যুনাল ড্রাফটিং ও হাইকোর্টে আপিল পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি কি বিক্রি করা সম্ভব?
না, ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্তভাবে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং এর হস্তান্তর আইনত নিষিদ্ধ ও বাতিল।
‘খ’ তফসিলের জমির নামজারি করতে এসিল্যান্ড অস্বীকার করলে কী করব?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে ‘খ’ তফসিল বাতিল বিষয়ে। এ পরিপত্র সংযুক্ত করে এসিল্যান্ডে আবেদন এবং কাজ না হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা হাইকোর্টে রিট করা যায়।
ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি পাওয়ার কতদিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করতে হয়?
ট্রাইব্যুনাল বা আপিল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত ডিক্রির সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড বরাবর মিস কেস খুলে অনতিবিলম্বে নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন করিয়ে নিতে হয়।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০