বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালতে ঋণ আদায়: আইনি গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-16

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালতে মামলা হয়। অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষায়িত আদালতে হাজার হাজার কোটি টাকার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

অর্থঋণ আদালত কী?

অর্থঋণ আদালত হল অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত দেওয়ানি আদালত, যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়ের মামলা পরিচালনার জন্য তৈরি। সাধারণ দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এই আদালত দ্রুত বিচারের সুযোগ দেয়।

অর্থঋণ আদালতে সমন পেলে অবিলম্বে একজন দেওয়ানি আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অর্থঋণ আদালতের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

অর্থঋণ আদালতের মামলা ডিক্রি পর্যন্ত প্রক্রিয়া:

  1. মামলা-পূর্ব নোটিশ: ব্যাংককে মামলার আগে ঋণগ্রহীতাকে দাবিনামা পাঠাতে হবে।
  2. আরজি দাখিল: ব্যাংক আদালতে আরজি দেয়।
  3. সমন জারি: আদালত বিবাদী ও জামিনদারদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে।
  4. লিখিত জবাব: বিবাদীকে সমন প্রাপ্তির ৮ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে — না দিলে একতরফা শুনানি হবে।
  5. সম্পত্তি ক্রোক আদেশ: মধ্যবর্তী পদক্ষেপে সম্পদ ক্রোক হতে পারে।
  6. বিচার ও সাক্ষ্য: উভয় পক্ষ সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
  7. ডিক্রি: প্রমাণিত হলে মূলধন ও সুদের ডিক্রি প্রদান।

আসামির প্রতিরক্ষার অধিকার

ঋণগ্রহীতার বৈধ প্রতিরক্ষার সুযোগ রয়েছে — তবে লিখিত জবাবে তা তুলে ধরতে হবে:

  • ঋণের পরিমাণ বিতর্ক: সুদ ও চার্জের হিসাব চ্যালেঞ্জ করুন।
  • আগে পরিশোধের প্রমাণ: বিবেচনায় না নেওয়া রসিদ উপস্থাপন করুন।
  • পদ্ধতিগত ত্রুটি: মামলা-পূর্ব নোটিশ না দেওয়া বা ভুল এলাকার আদালতে মামলা।
  • তামাদি মেয়াদ: মামলা নির্ধারিত সময়সীমার পরে হলে বাতিলযোগ্য।

আপিলের পদ্ধতি

অর্থঋণ আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। তবে আপিলকারীকে ডিক্রিকৃত অর্থের ৫০% জমা দিয়ে আপিল করতে হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই শর্ত মওকুফের আবেদন করা যায়।

অ্যাডভোকেট শাহ আলম অর্থঋণ আদালত এবং হাই কোর্টে উভয় প্রকার মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। জরুরি মামলায় যোগাযোগ করুন।