লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
মারাত্মক কোনো অপরাধের আসামি জামিনে মুক্ত হয়েই যদি বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় বা সাক্ষীদের ভয় দেখাতে শুরু করে, তবে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, জামিন কোনো নিরঙ্কুশ অধিকার নয়। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে যেকোনো সময় আসামির জামিন বাতিল করে তাকে পুনরায় জেলে পাঠানো যায়। আইনি উপায় ব্যাখ্যা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার ৫ উপধারা (Section 497(5), CrPC) অনুযায়ী—যে আদালত কোনো আসামিকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন, সেই আদালত অথবা দায়রা জজ আদালত কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ ন্যায়বিচারের স্বার্থে যেকোনো সময় আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত নজির অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে জামিন বাতিল করা হয়:
আসামি হুমকি দিলে সাথে সাথে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। এছাড়া হুমকি দেওয়া মোবাইল কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত বিবৃতি সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি ছাড়া মৌখিক অভিযোগে আদালত জামিন বাতিলের কঠোর আদেশ দেন না।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দিয়ে থাকলে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমা (Criminal Misc Case) করে জামিন বাতিলের দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। আর জামিন যদি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে হয়ে থাকে, তবে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চেই ৪৯৮ ধারা বা ফৌজদারি রিভিশনে জামিন বাতিলের আবেদন উপস্থাপন করতে হয়।
শুনানির সময় বিজ্ঞ আইনজীবীকে আদালতের সামনে তুলে ধরতে হয় যে—আসামির স্বাধীন চলাচলের কারণে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং ভিকটিমের জীবনের ওপর গুরুতর হুমকি তৈরি হয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট হলে আসামির জামিননামা (Bail Bond) বাতিল করে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেন।