লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৬ মিনিট
<p>আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর সার্কেল অফিস থেকে হঠাৎ উপ-কর কমিশনারের (DCT) অডিট নোটিশ বা অতিরিক্ত কর দাবির পত্র পেয়ে আতঙ্কিত? <strong>আয়কর আইন ২০২৩ অনুসারে যথাযথ আইনি নোটিশের জবাব এবং হিসাবনিকাশ পেশ না করলে একতরফা অযৌক্তিক কর নির্ধারণ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঝুঁকি থাকে।</strong> আয়কর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
নতুন আয়কর আইন ২০২৩ (Income Tax Act 2023) কার্যকর হওয়ার পর এনবিআর অটোমেটেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে অডিট সিলেকশন পরিচালনা করে থাকে। সাধারণত যেসব কারণে ফাইল অডিটে পড়ে:
করদাতাদের সার্কেল অফিস থেকে সাধারণত নিচের ধারাসমূহে নোটিশ প্রদান করা হয়:
| আইনি ধারা | নোটিশের উদ্দেশ্য | করণীয় ও আইনি সময়সীমা |
|---|---|---|
| ধারা ১২০ (তথ্য ও প্রমাণাদি তলব) | আয়-ব্যয়ের সমর্থনে ভাউচার, ক্যাশ বুক ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাওয়া | সাধারণত ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হিসাব বই জমা দিতে হয় |
| ধারা ১২৪ (বকেয়া কর ও পেনাল্টি নোটিশ) | সময়মতো রিটার্ন বা তথ্য না দেওয়ার কারণে জরিমানা ধার্যের নোটিশ | শুনানিতে যৌক্তিক কারণ দর্শিয়ে জরিমানা মওকুফের আবেদন করা |
| ধারা ১৩০ (রি-অ্যাসেসমেন্ট / গোপন আয় পুনর্মূল্যায়ন) | পূর্বে গোপন রাখা আয়ের তথ্য এনবিআরের কাছে এলে ফাইল পুনরায় খোলা | বিজ্ঞ ট্যাক্স লইয়ারের মাধ্যমে পূর্বের নথিপত্রের আলোকে ব্যাখ্যা উপস্থাপন |
উপ-কর কমিশনারের সামনে শুনানিতে হাজির হওয়ার পূর্বে আইনজীবীর সহায়তায় নিচের রেকর্ডগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
শুনানি শেষে উপ-কর কমিশনার একটি আনুষ্ঠানিক অ্যাসেসমেন্ট অর্ডার (Assessment Order) এবং ডিমান্ড নোটিশ জারি করেন। যদি করদাতার আইনজীবী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন, তবে ফাইলটি নো-ডিমান্ড (No Demand) হিসেবে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট হলে কমিশনার কাল্পনিক আয় যোগ করে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাতে পারেন।
যদি উপ-কর কমিশনার অন্যায়ভাবে করের অংক বাড়িয়ে দেন, তবে করদাতা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন:
| আপিল ফোরাম | আবেদনের সময়সীমা | পূর্বশর্ত ও প্রক্রিয়া |
|---|---|---|
| কমিশনার অব ট্যাক্সেস (আপিল) | ডিমান্ড নোটিশ জারির ৪৫ দিনের মধ্যে | বিতর্কিত করের নির্ধারিত অংশ (সাধারণত ১০%) পরিশোধ সাপেক্ষে আপিল দায়ের |
| আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (TAT) | কমিশনার (আপিল)-এর আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে | স্বাধীন জুডিশিয়াল ফোরাম; অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও জুডিশিয়াল সদস্য সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি |
| সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ | ট্রাইব্যুনাল আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে | আইনের কোনো ব্যাখ্যাগত প্রশ্ন (Reference Application) উত্থাপন করে রিট ও ট্যাক্স বেঞ্চে প্রতিকার |
আয়কর অডিট নোটিশ অবহেলা করলে একতরফা অযৌক্তিক কর ধার্য হতে পারে। এনবিআর সার্কেল শুনানিতে অংশ নেওয়া, কর হ্রাস ও হাইকোর্টে রেফারেন্স পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
নোটিশ অমান্য করলে উপ-কর কমিশনার একতরফাভাবে 'বেস্ট জাজমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট' (Best Judgment Assessment) করে কয়েকগুণ বেশি কর ও জরিমানা ধার্য করতে পারেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারেন।
না, করদাতা চাইলে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী বা সনদপ্রাপ্ত আয়কর আইনজীবীকে (ITP / Tax Advocate) নোটারি ক্ষমতাপত্র (Power of Attorney) দিয়ে শুনানিতে পাঠাতে পারেন।
আপিল আবেদন গ্রহণ করে কমিশনার (আপিল) বা ট্রাইব্যুনাল যদি কর আদায়ে স্থগিতাদেশ (Stay of Demand) প্রদান করেন, তবে কর বিভাগ ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে পারে না।