আয়কর অডিট নোটিশ ও উপ-কর কমিশনারের শুনানি ২০২৬ — সেকশন ১২০/১২৪ নোটিশের জবাব ও আপিল

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর সার্কেল অফিস থেকে হঠাৎ উপ-কর কমিশনারের (DCT) অডিট নোটিশ বা অতিরিক্ত কর দাবির পত্র পেয়ে আতঙ্কিত? <strong>আয়কর আইন ২০২৩ অনুসারে যথাযথ আইনি নোটিশের জবাব এবং হিসাবনিকাশ পেশ না করলে একতরফা অযৌক্তিক কর নির্ধারণ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঝুঁকি থাকে।</strong> আয়কর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

নতুন আয়কর আইন ২০২৩ (Income Tax Act 2023) কার্যকর হওয়ার পর এনবিআর অটোমেটেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে অডিট সিলেকশন পরিচালনা করে থাকে। সাধারণত যেসব কারণে ফাইল অডিটে পড়ে:

  • ব্যাংক লেনদেনের সাথে আয়ের অমিল: রিটার্নে প্রদর্শিত বার্ষিক আয়ের তুলনায় ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন বা ক্রেডিট প্রবাহ থাকা।
  • সম্পদ ও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রদর্শনহীনতা: ফ্ল্যাট, গাড়ি বা জমি ক্রয় করা সত্ত্বেও সম্পদ বিবরণীতে (IT-10B) তার সুনির্দিষ্ট তহবিলের উৎস না থাকা।
  • আগের বছরের চেয়ে আকস্মিক আয় হ্রাস: পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্য টার্নওভার বা মুনাফা কম প্রদর্শন করা।
  • অপ্রদর্শিত মূলধনি লাভ বা বৈদেশিক রেমিট্যান্স: রেমিট্যান্স বা শেয়ার বিক্রির সঠিক ব্যাংকিং রসিদ দাখিল না করা।

করদাতাদের সার্কেল অফিস থেকে সাধারণত নিচের ধারাসমূহে নোটিশ প্রদান করা হয়:

আইনি ধারা নোটিশের উদ্দেশ্য করণীয় ও আইনি সময়সীমা
ধারা ১২০ (তথ্য ও প্রমাণাদি তলব) আয়-ব্যয়ের সমর্থনে ভাউচার, ক্যাশ বুক ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাওয়া সাধারণত ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হিসাব বই জমা দিতে হয়
ধারা ১২৪ (বকেয়া কর ও পেনাল্টি নোটিশ) সময়মতো রিটার্ন বা তথ্য না দেওয়ার কারণে জরিমানা ধার্যের নোটিশ শুনানিতে যৌক্তিক কারণ দর্শিয়ে জরিমানা মওকুফের আবেদন করা
ধারা ১৩০ (রি-অ্যাসেসমেন্ট / গোপন আয় পুনর্মূল্যায়ন) পূর্বে গোপন রাখা আয়ের তথ্য এনবিআরের কাছে এলে ফাইল পুনরায় খোলা বিজ্ঞ ট্যাক্স লইয়ারের মাধ্যমে পূর্বের নথিপত্রের আলোকে ব্যাখ্যা উপস্থাপন

উপ-কর কমিশনারের সামনে শুনানিতে হাজির হওয়ার পূর্বে আইনজীবীর সহায়তায় নিচের রেকর্ডগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

📄 ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক হিসাব

  • সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সবকটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সুদের সার্টিফিকেট
  • ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট, লাভ-ক্ষতির হিসাব ও ব্যালেন্স শিট
  • ভ্যাট দাখিলা ও চালানের সার্টিফাইড কপি
  • অডিট রিপোর্ট (কোম্পানি করদাতার জন্য বিধিবদ্ধ অডিট)

💰 ব্যক্তিগত সম্পদ ও দায়

  • স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের রেজিস্ট্রি কবলা দলিলের কপি
  • গৃহনির্মাণ বা বাণিজ্যিক ঋণের ব্যাংক লেজার
  • পারিবারিক ব্যয় ও উপহারের ব্যাংক লেনদেন স্টেটমেন্ট
  • সঞ্চয়পত্র বা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ রসিদ

শুনানি শেষে উপ-কর কমিশনার একটি আনুষ্ঠানিক অ্যাসেসমেন্ট অর্ডার (Assessment Order) এবং ডিমান্ড নোটিশ জারি করেন। যদি করদাতার আইনজীবী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন, তবে ফাইলটি নো-ডিমান্ড (No Demand) হিসেবে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট হলে কমিশনার কাল্পনিক আয় যোগ করে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাতে পারেন।

যদি উপ-কর কমিশনার অন্যায়ভাবে করের অংক বাড়িয়ে দেন, তবে করদাতা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন:

আপিল ফোরাম আবেদনের সময়সীমা পূর্বশর্ত ও প্রক্রিয়া
কমিশনার অব ট্যাক্সেস (আপিল) ডিমান্ড নোটিশ জারির ৪৫ দিনের মধ্যে বিতর্কিত করের নির্ধারিত অংশ (সাধারণত ১০%) পরিশোধ সাপেক্ষে আপিল দায়ের
আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (TAT) কমিশনার (আপিল)-এর আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে স্বাধীন জুডিশিয়াল ফোরাম; অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও জুডিশিয়াল সদস্য সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ট্রাইব্যুনাল আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে আইনের কোনো ব্যাখ্যাগত প্রশ্ন (Reference Application) উত্থাপন করে রিট ও ট্যাক্স বেঞ্চে প্রতিকার

⚖️ আয়কর নোটিশ ও শুনানিতে অভিজ্ঞ আইনি ডিফেন্স

আয়কর অডিট নোটিশ অবহেলা করলে একতরফা অযৌক্তিক কর ধার্য হতে পারে। এনবিআর সার্কেল শুনানিতে অংশ নেওয়া, কর হ্রাস ও হাইকোর্টে রেফারেন্স পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ