লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13
আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর হঠাৎ ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস (DCT) বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে ব্যাংক ব্যালেন্স অমিল, জমি-ফ্ল্যাট কেনা কিংবা অঘোষিত আয়ের অডিট নোটিশ আসলে অনেকেই মারাত্মক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সময়মতো সঠিক ব্যাখ্যা দিলে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা বা হয়রানি ছাড়াই ফাইল নিষ্পত্তি সম্ভব। অডিট শুনানি মোকাবেলার বাস্তব কৌশল তুলে ধরেছেন কর পরামর্শক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
বর্তমানে এনবিআর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বিআরটিএ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডাটাবেজের সাথে করদাতার টিআইএন (TIN) যুক্ত করে রেখেছে। আপনি যদি রিটার্নে বছরে ৫ লাখ টাকা আয় দেখান অথচ আপনার ব্যাংক একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা ক্রেডিট হয়, কিংবা ৫০ লাখ টাকার জমি রেজিস্ট্রি করেন—এনবিআরের সেন্ট্রাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইলটি অডিটের জন্য সিলেক্ট করে নোটিশ জারি করে।
করদাতারা ভয় পেয়ে দুটি মারাত্মক ভুল করেন:
নতুন আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় কর কর্মকর্তা করদাতাকে সুনির্দিষ্ট উৎস, পারিবারিক ব্যয় এবং অর্থবর্ষের সমস্ত খরচের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেন। এই চিঠির উত্তর লিখিতভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে আইন ও নথিপত্রের রেফারেন্সসহ প্রস্তুত করতে হয়।
ব্যাংকে বিপুল লেনদেন মানেই যে তা আয়—এমনটি নয়। ব্যবসার টার্নওভার, ঋণের টাকা, রিফান্ড বা আত্মীয়ের নিকট থেকে পাওয়া আমানতের প্রতিটি এন্ট্রির বিপরীতে ব্যাংকিং রিসিট ও চেকের কপি উপস্থাপন করলে কর কর্মকর্তা সেটিকে করযোগ্য নিট আয় হিসেবে গণ্য করতে পারেন না।
যদি সম্পদটি পিতা, মাতা বা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের নিকট থেকে উপহার (Gift) হিসেবে পেয়ে থাকেন, তবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেভিট এবং দাতার ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিন। পৈতৃক কৃষিজমির আয় হলে খতিয়ান ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করলে আইনের আওতায় তা বৈধ করমুক্ত বা রেয়াতি আয় হিসেবে গৃহীত হয়।
আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিটি হিসাবের সঠিক রিকনসিলিয়েশন (Reconciliation Sheet) উপস্থাপন করা হলে কর কর্মকর্তা সন্তুষ্ট হয়ে আয়কর আইন অনুযায়ী কোনো বাড়তি জরিমানা ছাড়াই ফাইলটির আনুষ্ঠানিক কর নির্ধারণী আদেশ (Assessment Order) প্রদান করেন।
ডিসিটি যদি অন্যায়ভাবে বাড়তি ট্যাক্স ধার্য করেন, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে কর কমিশনার (আপিল)-এর নিকট আপিল করা যায় এবং পরবর্তীতে আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল ও মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।