আয়কর রিটার্ন দাখিলে সময় বৃদ্ধির নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17 · ১১ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

ব্যবসায়িক জটিলতা, অসুস্থতা কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে না পারার কারণে অনেকেই জাতীয় ‘ট্যাক্স ডে’ (৩০ নভেম্বর)-এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কে ভোগেন—ভারী জরিমানা ও বিলম্ব সুদের ভয় পান। অথচ আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী সঠিক সময়ে উপ-কর কমিশনারের নিকট দরখাস্ত দিয়ে বৈধভাবে ২ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নেওয়া যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের কর ও কোম্পানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

: · সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট জামিন আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
📋 সূচিপত্র
  1. আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৭৪ ধারা: রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি
  2. ট্যাক্স ডে পেরিয়ে গেলে সাধারণ জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদের হিসাব
  3. কোন কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে কর কর্মকর্তা সময় মঞ্জুর করেন?
  4. অনলাইন ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) সময় বৃদ্ধির আবেদন
  5. ম্যানুয়ালি কর সার্কেলে আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম ও রসিদ
  6. সময় বৃদ্ধির পর রিটার্ন দাখিলে করদাতার প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট
  7. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৭৪ ধারা: রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি

নতুন আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুযায়ী—কোনো করদাতা যদি যৌক্তিক কারণে কর দিবসের (৩০ নভেম্বর) মধ্যে রিটার্ন দিতে অসমর্থ হন, তবে তিনি কর দিবস শেষ হওয়ার পূর্বেই তার অধিক্ষেত্রাধীন উপ-কর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes - DCT) বরাবর লিখিত বা অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ২ (দুই) মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির অনুমোদন নিতে পারেন। পরবর্তীতে যুগ্ম বা অতিরিক্ত কর কমিশনারের অনুমতি নিয়ে আরও ২ মাস বাড়ানো সম্ভব।

ট্যাক্স ডে পেরিয়ে গেলে সাধারণ জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদের হিসাব

অনুমতি ছাড়া কর দিবস পার করে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতার ওপর প্রদেয় করের ওপর মাসিক ২% হারে সরল সুদ (Simple Interest) আরোপ করা হয় এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ ছাড় বা ট্যাক্স রিবেট পাওয়ার সুবিধা বাতিল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে করদাতা কোনো জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক সুযোগ পান।

কোন কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে কর কর্মকর্তা সময় মঞ্জুর করেন?

উপ-কর কমিশনার সাধারণত নিম্নলিখিত কারণগুলোকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেন:

  • করদাতা বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের গুরুতর অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তি থাকা।
  • করদাতা বিদেশে অবস্থান করা বা পেশাগত কারণে ভ্রমণরত থাকা।
  • ব্যাংক ট্যাক্স সার্টিফিকেট, জমি ক্রয়ের দলিল বা অডিট রিপোর্ট প্রাপ্তিতে বিলম্ব।
  • আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনিবার্য দুর্ঘটনা।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

অনলাইন ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) সময় বৃদ্ধির আবেদন

এনবিআরের অফিসিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে ‘Time Extension Application’ ট্যাবে গিয়ে করদাতা কত দিনের সময় বৃদ্ধি চান এবং কী কারণে চান তা ড্রপডাউন ও বর্ণনায় উল্লেখ করে সাবমিট করতে পারেন। সিস্টেম থেকে সাথে সাথেই একটি ট্র্যাকিং একনলেজমেন্ট কপি পাওয়া যায়।

ম্যানুয়ালি কর সার্কেলে আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম ও রসিদ

ম্যানুয়াল রিটার্ন দাখিলকারী করদাতারা তাদের নিজ কর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র দাখিল করবেন। আবেদনপত্রে করদাতার নাম, টিন (TIN) নম্বর, সার্কেল এবং সময় চাওয়ার কারণ লিখে সার্কেল কর্মকর্তার ডেস্কে জমা দিয়ে রিসিভিং কপি সংরক্ষণ করতে হবে।

সময় বৃদ্ধির পর রিটার্ন দাখিলে করদাতার প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট

  1. ট্যাক্স ডে শেষ হওয়ার আগেই সময় বৃদ্ধির আবেদন জমা দিন।
  2. মঞ্জুরকৃত বর্ধিত মেয়াদের মধ্যেই সব ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও খরচের ভাউচার চূড়ান্ত করুন।
  3. আবেদন মঞ্জুরের আদেশের কপি রিটার্ন ফরমের সাথে প্রধান সংযুক্তি হিসেবে জমা দিন।
  4. বর্ধিত সময়ে দাখিলের পর অফিসিয়াল প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংগ্রহ নিশ্চিত করুন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০