লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-31
বাংলাদেশে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পরিবারে প্রায়শই মতভেদ, ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ এবং সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Muslim Personal Law/Faraid) ও মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী বাবার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে কার কতটুকু সুনির্দিষ্ট অংশ, ভাই ও বোনের ২:১ অনুপাতে বন্টনের গাণিতিক হিসেব এবং মামলা না করে কীভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আপোস বাটোয়ারা রেজিস্ট্রি করবেন—তার ২,৫০০+ শব্দের পূর্ণাঙ্গ আইনি গাইড নিচে দেওয়া হলো। যেকোনো পৈতৃক সম্পত্তি বিবাদে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র জমি বিশেষজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পরামর্শ পেতে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
বাবার মৃত্যুর সাথে সাথেই তার স্বনামে থাকা স্থাবর (জমি, বাড়ি, বাগান, ফ্ল্যাট) ও অস্থাবর (ব্যাংক ব্যালেন্স, শেয়ার, সোনা) সম্পত্তিতে ওয়ারিশদের মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সম্পত্তি মূল ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করার পূর্বে ৩টি কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক:
উক্ত খরচসমূহ মেটানোর পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, তাই সকল ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। আপনার পৈতৃক জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় আমাদের জমি ও ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
মুসলিম ফারায়িজ আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: (১) শরীক বা অংশীদার (Sharers), (২) অবশিষ্টাংশভোগী (Residuaries/Asaba), এবং (৩) দূরবর্তী আত্মীয় (Distant Kindred)।
মৃত বাবার সম্পত্তিতে প্রধান শরীকগণ হলেন: স্ত্রী, কন্যা, পিতা ও মাতা। তাদের নির্ধারিত নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি অবশিষ্টাংশভোগী (ছেলেদের) মধ্যে বন্টন হয়।
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার স্পষ্ট নির্দেশনানুযায়ী, সন্তান থাকলে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ অংশ পাবে। অর্থাৎ ১ জন ছেলে যে পরিমাণ জমি পাবে, ১ জন মেয়ে তার অর্ধেক পরিমাণ পাবে।
ধরি, মৃত ব্যক্তির ২ জন ছেলে এবং ৩ জন মেয়ে রয়েছে। মোট জমি ১০ বিঘা।
এখানে প্রতিটি ছেলেকে ২ পয়েন্ট এবং প্রতিটি মেয়েকে ১ পয়েন্ট হিসেবে গণ্য করা হবে।
ছেলেদের মোট পয়েন্ট = ২ জন × ২ = ৪ পয়েন্ট।
মেয়েদের মোট পয়েন্ট = ৩ জন × ১ = ৩ পয়েন্ট।
মোট শেয়ার পয়েন্ট = ৪ + ৩ = ৭ পয়েন্ট।
অতএব, জমিটি ৭ ভাগ হবে। প্রতিটি ছেলে পাবে ২/৭ অংশ (প্রায় ২.৮৫ বিঘা) এবং প্রতিটি মেয়ে পাবে ১/৭ অংশ (প্রায় ১.৪২ বিঘা)।
মৃত ব্যক্তির স্ত্রী (সন্তানদের মা) স্বামী মারা গেলে স্বামীর মোট সম্পত্তির ১/৮ (আটভাগের একভাগ) অংশের মালিক হবেন (যদি মৃতের কোনো সন্তান বা নাতি-নাতনি থাকে)। আর যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকে, তবে স্ত্রী পাবেন মোট সম্পত্তির ১/۴ (চারভাগের একভাগ) অংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলে তারা সবাই মিলে ওই ১/৮ বা ১/۴ অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।
বাংলাদেশে অনেক সময় ভাইয়েরা বোনদের বিয়ের অজুহাত দিয়ে বা ফাঁকি দিয়ে বাবার সম্পত্তি এককভাবে ভোগদখল করে কিংবা বোনদের অনুপস্থিতিতে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে একক ই-নামজারি করে ফেলে। এটি আইনত সম্পূর্ণ বেআইনি ও একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
বঞ্চিত বোনদের আইনি পদক্ষেপ:
অনেকে সাদা স্ট্যাম্পে বা হাতকাঁচা কগজে বাটোয়ারা লিখে নিলেই ভাবেন বন্টন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ভূমি আইন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা দলিল না করা পর্যন্ত সরকারি ই-নামজারি খতিয়ান পৃথক করা যায় না।
রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা দলিলের সরকারি ফি অত্যন্ত নামমাত্র (সম্পত্তির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা)। বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে প্রতিটি ওয়ারিশ নিজ নামে পৃথক খতিয়ান খুলে সরকারি খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।
যদি কোনো ওয়ারিশ আপোস বাটোয়ারায় রাজি না হন বা জমি দখলে বাধা দেন, তবে দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে জমি ভাগ করার একমাত্র পথ হলো বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit)।
বাটোয়ারা মামলায় প্রধানত ২টি রায় বা ডিক্রি হয়:
বাবা তার জীবদ্দশায় নিজের নামে থাকা স্বার্জিত বা প্রাপ্ত সম্পত্তি যাকে ইচ্ছা দান (Heba) করতে পারেন। তিনি চাইলে কোনো সন্তানকে বেশি বা কম দিতে পারেন। তবে মৃত্যুর পর এই স্বাধীনতা থাকে না। বাবা মারা যাওয়ার পর তার অবশিষ্ট সম্পত্তি ফারায়িজ নীতিতেই বন্টন হবে।
পৈতৃক সম্পত্তি বন্টন, বাটোয়ারা দলিল তৈরি বা দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা মামলা সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সরাসরি সহায়তা পেতে যোগাযোগ করুন।