লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-28
বাংলাদেশে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পরিবারে প্রায়শই জটিলতা ও ভাই-বোনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Muslim Personal Law) ও বাংলাদেশে প্রচলিত ভূমি বণ্টন বিধিমালা অনুযায়ী পৈতৃক সম্পত্তি কীভাবে সুনির্দিষ্টভাবে বন্টন করতে হয়, কার কতটুকু অংশ এবং মামলা না করে কীভাবে আপোস বাটোয়ারা রেজিস্ট্রি করবেন—তার সম্পূর্ণ আইনি দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো পৈতৃক সম্পত্তি বিবাদে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সরাসরি পরামর্শ পেতে ফোন করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
বাংলাদেশে পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পারিবারিক আইনের প্রয়োগ ঘটে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) এবং ইসলামী ফারায়িজ (Faraid) নীতি অনুযায়ী বাবার মৃত্যুর সাথে সাথেই তার স্থাবর (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট) ও অস্থাবর (ব্যাংক ব্যালেন্স, সোনা, শেয়ার) সম্পত্তিতে ওয়ারিশদের মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে ৩টি কাজ করা আইনি ও ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক:
এই খরচ ও ঋণ শোধ করার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, তাই সকল বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করা হবে। আপনার পৈতৃক জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় আমাদের জমি ও সম্পত্তি বিষয়ক আইন সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
ফারায়িজ আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের প্রধান ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়: শরীক বা অংশীদার (Sharers), অবশিষ্টাংশভোগী (Residuaries/Asaba), এবং দূরবর্তী আত্মীয় (Distant Kindred)।
ছেলে ও মেয়ের অনুপাত (২:১):
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার নির্দেশনানুযায়ী, সন্তান থাকলে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ অংশ পাবে। অর্থাৎ ১ জন ছেলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পাবে, ১ জন মেয়ে তার অর্ধেক পরিমাণ পাবে।
ধরি, মৃত ব্যক্তির ৩ জন ছেলে এবং ২ জন মেয়ে রয়েছে। এখানে ছেলেদের পয়েন্ট ৩ × ২ = ৬ পয়েন্ট, এবং মেয়েদের পয়েন্ট ২ × ১ = ২ পয়েন্ট। মোট পয়েন্ট = ৮। সুতরাং, মোট সম্পত্তি ৮ ভাগ হবে। প্রতিটি ছেলে পাবে ২/৮ (বা ১/৪ অংশ) এবং প্রতিটি মেয়ে পাবে ১/৮ অংশ।
স্ত্রীর অংশ:
সন্তান বা পৌত্র-পৌত্রী থাকলে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৮ (আটভাগের একভাগ) অংশ পাবেন। যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকে, তবে স্ত্রী পাবেন ১/৪ (চারভাগের একভাগ) অংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলে তারা সবাই মিলে ওই ১/৮ বা ১/৪ অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।
বাংলাদেশে বহু পরিবারে ভাইরা বোনদের ঠকিয়ে বা ফাঁকি দিয়ে পৈতৃক জমি এককভাবে ভোগদখল করে কিংবা বোনদের স্বাক্ষর ছাড়াই ভুয়া বাটোয়ারা বানিয়ে ই-নামজারি করে ফেলে। আইনত বোনকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি দণ্ডনীয় দেওয়ানী ও ফৌজদারি অপরাধ।
বোনদের আইনি পদক্ষেপ:
অনেকে সাধারণ সাদা কাগজে বা কাঁচা স্ট্যাম্পে বাটোয়ারা লিখে নিলেই ভাবেন বন্টন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ভূমি নীতি অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা দলিল না করা পর্যন্ত নামজারি খতিয়ান পৃথক করা যায় না।
বাটোয়ারা দলিলের আবশ্যকীয় তথ্য:
রেজিস্ট্রি বাটো্যায়রা দলিলের সরকারি ফি অত্যন্ত নামমাত্র (সম্পত্তির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা)। বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে প্রতিটি ওয়ারিশ নিজ নামে পৃথক খতিয়ান খুলে সরকারি খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।
বাবা তার জীবদ্দশায় নিজের নামে থাকা স্বার্জিত বা প্রাপ্ত সম্পত্তি যাকে ইচ্ছা দান (Heba) করতে পারেন। তিনি চাইলে কোনো সন্তানকে বেশি বা কম দিতে পারেন। তবে মৃত্যুর পর এই স্বাধীনতা থাকে না।
হেবা দলিলের শর্ত: রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়দের (যেমন: পিতা-পুত্র, পিতা-কন্যা, ভাই-বোন) মধ্যে হেবা করতে হলে ১০০ টাকা সরকারি ফি-তে রেজিস্ট্রি হেবা ঘোষণা দলিল করতে হয়। রেজিস্ট্রি না করা পর্যন্ত হেবা আইনিভাবে সিদ্ধ হয় না।
যদি কোনো ওয়ারিশ আপোস বাটোয়ারায় রাজি না হন বা জমি দখলে বাধা দেন, তবে দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে জমি ভাগ করার একমাত্র পথ হলো বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit)।
বাটোয়ারা মামলায় প্রধানত ২টি রায় বা ডিক্রি হয়:
পৈতৃক সম্পত্তি বন্টন, বাটোয়ারা দলিল তৈরি বা আদালতে বন্টন মামলা সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সরাসরি সহায়তা পেতে যোগাযোগ করুন।