জামিননামা (Bail Bond) দাখিলের নিয়ম ২০২৬: জামিনদার (Surety)-এর শর্ত, বন্ডের স্ট্যাম্প ফি ও রিলিজ অর্ডার
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-11
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় কোনো আসামির পক্ষে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনের আদেশ লাভ করা একটি বিরাট বিজয় হলেও, আদেশ হওয়ামাত্রই কিন্তু আসামি কারাগার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পান না। আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়, তাকে আইনের ভাষায় বলা হয় 'জামিননামা দাখিল' বা 'Bail Bond Submission'। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC)-এর ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত মূল্যের একটি জামিন বন্ড সম্পাদন করতে হয় এবং আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে একজন বা দুইজন স্থানীয় নির্ভরযোগ্য 'জামিনদার' (Surety) হাজির করতে হয়। এরপর আদালত জামিননামা গ্রহণ (Accept) করে সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপার বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক 'রিলিজ অর্ডার' (Release Order বা মুক্তি পরোয়ানা) প্রেরণ করেন। জামিননামা প্রস্তুত বা জামিনদারের যাচাইকরণে সামান্য ত্রুটি হলে জামিন আদেশ থাকার পরও আসামিকে অতিরিক্ত দিন জেলহাজতে পচতে হতে পারে। ২০২৬ সালের আধুনিক নিয়মে জামিননামা দাখিল, জামিনদারের আইনি বাধ্যবাধকতা ও আসামির কারামুক্তির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো।
১. জামিননামা (Bail Bond) কী এবং কেন এটি দাখিল করা বাধ্যতামূলক?
একটি ফৌজদারি মামলায় জামিন কোনো স্থায়ী খালাস নয়; এটি বিচার চলাকালীন সময়ে শর্ত সাপেক্ষে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি। তাই আদালত যখন একজন আসামিকে জামিন দেন, তখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং মামলার পরবর্তী প্রতিটি তারিখে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক আর্থিক ও আইনি নিশ্চয়তাপত্র গ্রহণ করা হয়।
এই নিশ্চয়তাপত্রকেই বলা হয় 'জামিননামা' বা 'Bail Bond'।
জামিননামা মূলত একটি চুক্তি, যেখানে আসামি এবং তার জামিনদারগণ আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেন যে—আসামিকে নির্দিষ্ট অংকের টাকার জামানতে মুক্তি দেওয়া হোক, এবং মামলার পরবর্তী প্রতিটি ধার্য তারিখে আসামি আদালতে সশরীরে হাজির থাকবে। যদি আসামি কখনো পালিয়ে যায় বা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে, তবে সেই বন্ডের অর্থ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এই আইনি বন্ড দাখিল ব্যতীত জেল কর্তৃপক্ষ কোনো বন্দিকে এক সেকেন্ডের জন্যও মুক্তি দিতে পারে না।
২. ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৯ ও ৫০০: বন্ডের আইনি উপাদানসমূহ
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ৪৯৯-এ জামিননামার আইনি শর্তাবলি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে:
- ধারা ৪৯৯(১): কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পূর্বে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক এবং এক বা একাধিক উপযুক্ত জামিনদার কর্তৃক আদালত বা পুলিশ অফিসারের নির্দেশিত অঙ্কের টাকার একটি বন্ড সম্পাদিত হইতে হইবে।
- সময় ও স্থানের শর্ত: বন্ডে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে আসামি কখন, কোথায় এবং কোন আদালতে হাজিরা প্রদান করিবে।
- ধারা ৫০০(১): জামিন বন্ড যথাযথভাবে সম্পাদিত ও দাখিল হওয়ার সাথে সাথেই বন্দি ব্যক্তিকে কারাগার হইতে অবমুক্ত করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ কার্যকর হইবে।
যদি জামিনের আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো বিশেষ শর্ত থাকে (যেমন পাসপোর্ট জমা দেওয়া, নির্দিষ্ট এলাকা ত্যাগ না করা, বা সপ্তাহে একবার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হাজিরা দেওয়া)—তবে সেই শর্তগুলোও জামিননামার বয়ানে হুবহু যুক্ত করতে হয়।
৩. জামিনদার (Surety)-এর যোগ্যতা ও আবশ্যিক শর্তাবলী ২০২৬
আদালতে যে কেউ চাইলেই জামিনদার হতে পারেন না। আদালত জামিনদারের গ্রহণযোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করেন:
একজন বৈধ জামিনদারের প্রধান শর্তাবলী:
১. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের নাগরিক: জামিনদারকে অবশ্যই ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
২. স্থানীয় বাসিন্দা (Local Resident): আদালত সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের জামিনদার হিসেবে অগ্রাধিকার দেন যাতে আসামি পালালে জামিনদারকে সহজে চিহ্নিত করা যায়।
৩. আর্থিকভাবে সচ্ছল: জামিন আদেশে যে পরিমাণ বন্ডের অর্থ (যেমন ১০,০০০ টাকা, ৫০,০০০ টাকা বা ১ লাখ টাকা) উল্লেখ থাকে, জামিনদারের সেই পরিমাণ আর্থিক দায় বহন করার মতো সামর্থ্য থাকতে হয়।
৪. রক্তের আত্মীয় বা বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি: পিতা, মাতা, ভাই, বোন, স্বামী/স্ত্রী, চাচা বা নিকটাত্মীয় হলে আদালত সহজে জামিনদার হিসেবে গ্রহণ করেন। রক্তসম্পর্কহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে চাকরিজীবী, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন প্রয়োজন হয়।
৫. পেশাদার ভুয়া জামিনদার নিষিদ্ধ: টাকার বিনিময়ে ভুয়া জামিনদার হওয়া আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। ধরা পড়লে জালিয়াতির ধারায় জামিনদার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের আদেশ হয়।
৪. জামিনদারের প্রয়োজনীয় নথিপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও স্থানীয় পরিচয়
জামিননামা ফাইলিংয়ের দিন জামিনদারকে নিম্নোক্ত কাগজপত্র সাথে আনতে হয়:
- জামিনদারের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ফটোকপি।
- সাম্প্রতিক তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত রঙিন ছবি।
- স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণপত্র: বিদ্যুৎ বিলের কপি, হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা পৌরসভা/ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্ব সনদ।
- পেশার প্রমাণপত্র: ব্যবসায়ী হলে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, চাকরিজীবী হলে প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড ও পে-স্লিপ, অথবা ভূমির মালিক হলে জমির হালনাগাদ দাখিলা/খতিয়ান।
- আসামির সাথে সম্পর্কের বিবরণ: জামিনদার আসামির কে হন এবং কেন তিনি আসামির জিম্মা নিচ্ছেন তার সুস্পষ্ট বিবরণ।
৫. জামিননামার স্ট্যাম্প ফি ও প্রস্তুতকরণ পদ্ধতি (Drafting of Bail Bond)
আদালত ফি আইন এবং কোর্ট প্র্যাকটিস অনুযায়ী জামিননামা প্রস্তুত করা হয়:
১. ফরম ও স্ট্যাম্প: সরকার নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের ওপর আদালত কর্তৃক অনুমোদিত নির্ধারিত জামিননামা ফরমেটে এটি টাইপ করতে হয়।
২. বন্ডের পরিমাণ: বিজ্ঞ আদালতের জামিন আদেশে যত টাকা নির্ধারণ করা থাকে (যেমন: '১০,০০০ টাকার বেল বন্ডে দুইজন স্থানীয় জামিনদারের জিম্মায় জামিন মঞ্জুর হইল')—ঠিক সেই অংকের স্ট্যাম্প ও বন্ড ড্রাফট করতে হয়।
৩. স্বাক্ষর ও টিপসই: জামিননামার নির্ধারিত স্থানে আসামির পক্ষে তার নিযুক্ত আইনজীবী এবং জামিনদার নিজে স্বাক্ষর ও টিপসই প্রদান করবেন।
৪. ওকালতনামা ও কোর্ট ফি: প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি ও অ্যাডভোকেট ক্লার্কের এন্ট্রি সিল সহ ফাইলটি প্রস্তুত করা হয়।
৬. আদালতে জামিনদার ভেরিফিকেশন ও জবানবন্দি পরীক্ষা
জামিননামা প্রস্তুতের পর আইনজীবীর মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট আদালতের এজলাসে দাখিল করা হয়।
আদালতের এজলাসে কী ঘটে?
১. জামিনদারের ডাক: আদালতের পেশকার বা বেঞ্চ সহকারী জামিনদারের নাম ধরে ডাক দেন। জামিনদারকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।
২. বিচারকের সরাসরি প্রশ্ন: বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারক জামিনদারকে সরাসরি প্রশ্ন করেন:
- 'আসামি আপনার কী হয়?'
- 'আসামি কোথায় থাকে এবং ঘটনার বিবরণ আপনি জানেন কি না?'
- 'আসামি যদি পরবর্তী তারিখে না আসে তবে আপনি বন্ডের পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে পারবেন কি না?'
৩. এনআইডি মেলানো: বেঞ্চ সহকারী মূল এনআইডির সাথে জামিননামায় সংযুক্ত ফটোকপি মিলিয়ে দেখেন।
৪. গ্রহণযোগ্যতার আদেশ: বিচারক সন্তুষ্ট হলে জামিননামার ওপর 'Bail Bond Accepted' লিখে সই ও সিলমোহর প্রদান করেন।
৭. রিলিজ অর্ডার (Release Order) বা মুক্তি পরোয়ানা তৈরি ও সিলমোহরকরণ
জামিননামা গৃহীত হওয়ার পরপরই আদালতের জেনারেল রেকর্ড অফিস (GRO) বা পেশকার শাখা থেকে একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও সুরক্ষিত আইনি নথি প্রস্তুত করা হয়, যার নাম 'রিলিজ অর্ডার' (Release Order) বা 'খালাস পরোয়ানা'।
রিলিজ অর্ডারে যা থাকে:
- মামলার নম্বর, ধারা এবং বিজ্ঞ আদালতের নাম।
- বন্দির পূর্ণ নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও হাজতি নম্বর (UT নম্বর)।
- জামিন মঞ্জুরের আদেশের তারিখ ও বিস্তারিত।
- বিচারকের স্বাক্ষর এবং আদালতের বিশেষ বিচারিক সিলমোহর (Embossed Seal)।
এই পরোয়ানাটি আদালতের অফিসিয়াল সিলগালা খামে বন্ধ করা হয় যাতে পথিমধ্যে কেউ কোনো প্রকার ঘষামাজা বা জালিয়াতি করতে না পারে।
৮. জেলা কারাগার বা কেন্দ্রীয় কারাগারে রিলিজ অর্ডার প্রেরণের পদ্ধতি ও সময়সীমা
রিলিজ অর্ডার তৈরি হওয়ার পর তা কারাগারে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট প্রশাসনিক চ্যানেল রয়েছে:
ডেলিভারি চ্যানেল:
১. কোর্ট পুলিশের মাধ্যমে ডাক: প্রতিদিন বিকেলে আদালতের স্পেশাল পুলিশ কনস্টেবল বা কোর্ট ডিউটি অফিসার সিলগালা খাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কারাগার বা জেলা কারাগারে যান।
২. বিশেষ বাহক (Special Messenger): অতি জরুরি ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীর সহকারী বা স্পেশাল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে দিনের বেলায় রিলিজ অর্ডার জেলগেটে পৌঁছানো যায়।
কারাগারে যাচাই ও মুক্তি:
কারাগারের রেকর্ড রুম আদালতের সিলমোহর ও বিচারকের স্বাক্ষর তাদের সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের (Specimen Signature) সাথে মিলিয়ে দেখে। কোনো অমিল না থাকলে এবং অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকলে, সাধারণত সেদিন সন্ধ্যার পূর্বে অথবা পরদিন সকালে বন্দিকে জেলগেটের বাইরে মুক্ত করে দেওয়া হয়।
৯. জামিনের শর্ত ভঙ্গ হলে জামিনদারের আইনি ঝুঁকি: ৫১৪ ধারায় বন্ড বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ড
অনেকে আত্মীয়তার খাতিরে বা আবেগের বশে কোনো ভাবনা-চিন্তা না করেই জামিনদার হয়ে যান। কিন্তু আসামি যদি জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায় বা আদালতে হাজিরা না দেয়, তবে জামিনদারের ওপর মারাত্মক আইনি বিপদ নেমে আসে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৪ ধারা (Section 514 CrPC):
১. বন্ড বাজেয়াপ্ত (Forfeiture of Bond): আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকলে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং সাথে সাথে জামিননামা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন।
২. কারণ দর্শানোর নোটিশ: আদালত জামিনদারকে নোটিশ দেন—'কেন বন্ডের সমুদয় অর্থ আপনার কাছ থেকে আদায় করা হইবে না?'
৩. মালামাল ক্রোক ও কারাদণ্ড: জামিনদার যদি আসামিকে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হন বা জরিমানার টাকা পরিশোধ না করেন, তবে দেওয়ানি দেনার মতো জামিনদারের স্থাবর সম্পত্তি নিলামে তুলে অর্থ আদায় করা হয় এবং জামিনদারকে অনধিক ৬ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।
১০. ক্যাশ বেল (Cash Bail) ও ব্যক্তিগত বন্ড (Personal Recognizance Bond) কী?
বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে নিয়মিত জামিনদারের বিকল্প হিসেবে আদালত দুটি পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন:
১. ক্যাশ বেল (Cash Bail):
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো ক্ষেত্রে জামিনদার খুঁজে পেতে বিলম্ব হলে আদালত আসামিকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরাসরি আদালতে একটি নির্দিষ্ট অংকের নগদ টাকা জমা রাখার অনুমতি দিতে পারেন। মামলা শেষ হলে এবং আসামি শর্ত ভঙ্গ না করলে উক্ত নগদ টাকা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়া যায়।
২. ব্যক্তিগত মুচলেকা বা পিআর বন্ড (Personal Recognizance / PR Bond):
মামলা যদি অত্যন্ত লঘু প্রকৃতির হয় এবং আসামি অত্যন্ত দরিদ্র, অসহায় বা নারী/বৃদ্ধ হন, তবে আদালত কোনো আর্থিক জামিনদার ছাড়াই আসামির নিজস্ব ব্যক্তিগত বন্ডে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে মুক্তির আদেশ দিতে পারেন।
১১. অন্য মামলায় শোন অ্যারেস্ট (Shown Arrest) থাকলে জামিননামার পরিণতি
একটি অত্যন্ত সাধারণ পরিস্থিতি হলো—একজন আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা (যেমন ৩টি বা ৪টি মামলা) চলমান রয়েছে। একটি মামলায় জামিন হওয়ার পর জামিননামা দাখিল করে রিলিজ অর্ডার জেলে পাঠানো হলো।
আইনগত জটিলতা:
জেল কর্তৃপক্ষ যদি দেখে যে আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় আদালতের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (P/W) বা গ্রেফতারি পরোয়ানা পেন্ডিং রয়েছে, তবে তারা আসামিকে জেল থেকে বাইরে বের হতে দেবে না। তাকে ওই দ্বিতীয় মামলায় 'শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়ে আটক রাখা হবে। তাই একাধিক মামলায় জড়িত আসামির ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলায় পৃথকভাবে জামিন আদেশ ও রিলিজ অর্ডার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কারাগার থেকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না।
১২. বিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলমের চেম্বারের আইনি গাইডলাইন
জামিন পাওয়ার পর এক মুহূর্তের বিলম্বও কোনো আসামির পরিবারের জন্য দুঃসহ যন্ত্রণার। জামিননামা দাখিল ও রিলিজ অর্ডার জেলগেটে পৌঁছানোর কাজটি চরম সতর্কতা ও গতিশীলতার সাথে পরিচালনা করতে হয়।
অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলম সাহেবের চেম্বারের পেশাদার সেবা:
- জামিন আদেশের পরপরই ত্রুটিমুক্ত জামিননামা স্ট্যাম্প ড্রাফটিং ও কোর্ট ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা।
- জামিনদারদের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিজ্ঞ আদালতের কাঠগড়ায় নির্বিঘ্নে হাজিরা সম্পাদন।
- স্পেশাল কোর্ট মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) বা কাশিমপুর কারাগারে দ্রুত রিলিজ অর্ডার পাঠানো।
- একাধিক মামলায় শোন অ্যারেস্ট বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট থাকলে দ্রুত জামিনের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
- চেম্বার যোগাযোগের ঠিকানা: রুম নং ২০৮ ও ২১৪, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন, পুরাতন কোর্ট এলাকা, ঢাকা। ফোন: ০১৭১১-৯৪৬১৯৮ / ০১৭৩১৮৪১৯১৯।