ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়লে সিকিউরিটি জামানত ফেরতের নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

নিয়ম মেনে ১ বা ২ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে বাসা ছাড়ার সময় অনেক বাড়িওয়ালা রং করার অযৌক্তিক অজুহাত দেখিয়ে কিংবা ফ্যান-লাইটের কাল্পনিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে ভাড়াটিয়ার কষ্টার্জিত সিকিউরিটি জামানত (Advance Money)-এর লক্ষাধিক টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করেন। অনেকেই নিরুপায় হয়ে টাকা ছেড়ে দিয়ে চলে যান। অথচ বাংলাদেশের আইনে বাড়িওয়ালার এই আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি। জামানতের টাকা আদায়ের আইনি পথ স্পষ্ট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কী বলে?

১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী—কোনো বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এক মাসের ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো প্রকার প্রিমিয়াম, সালামি বা অগ্রিম জামানত সরাসরি গ্রহণ করতে পারেন না। যদি চুক্তির ভিত্তিতে কোনো জামানত নেওয়াও হয়ে থাকে, তবে চুক্তি সমাপ্তি ও ঘর হস্তান্তরের মুহূর্তে সকল বকেয়া ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল সমন্বয় করে অবশিষ্ট টাকা তাৎক্ষণিক ফেরত দিতে বাড়িওয়ালা আইনত বাধ্য।

বাড়িওয়ালা কি ইচ্ছামতো অতিরিক্ত জামানত নিতে পারেন?

বাস্তবে ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে ৩ থেকে ৬ মাসের সমপরিমাণ ভাড়া অগ্রিম নেওয়া হয়। তবে আইন অনুযায়ী এই অতিরিক্ত অর্থ বাড়িওয়ালার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি একটি ‘Trust’ বা আমানত। বাড়িওয়ালা যদি এই টাকা আত্মসাৎ করতে চান, তবে তা ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ (দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বাসার সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি (Normal Wear & Tear) বনাম বাড়িওয়ালার অবৈধ কর্তন

আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে দেয়ালে রঙের স্বাভাবিক মলিনতা বা ফেইড হওয়া হলো ‘স্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি’ (Normal Wear & Tear), যার খরচ বাড়িওয়ালাকেই বহন করতে হয়। ভাড়াটিয়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো ইচ্ছাকৃত না ভাঙলে কেবল চুনকাম বা রঙের খরচের নামে পুরো অ্যাডভান্স কেটে রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নীতিবিবর্হিত।

জামানতের টাকা ফেরত না দিলে প্রথম আইনি পদক্ষেপ: রেজিস্টার্ড লিগ্যাল নোটিশ

বাসার চাবি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বা বাসা ছাড়ার ১৫ দিনের মধ্যে বাড়িওয়ালা টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ‘লিগ্যাল নোটিশ’ পাঠান। নোটিশে ব্যাংকিং লেনদেনের হিসাব এবং বাসা ছাড়ার নোটিশের কপি সংযুক্ত করে ৭ বা ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিন।

রেন্ট কন্ট্রোলার (সহকারী জজ আদালত)-এ প্রতিকার চাওয়ার নিয়ম

প্রতিটি জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য সহকারী জজ আদালত ‘ভাড়া নিয়ন্ত্রক’ (Rent Controller) হিসেবে কাজ করেন। বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে জামানত ফেরতের এবং জরিমানা আরোপের সুস্পষ্ট আবেদন দায়ের করা যায়।

টাকা আদায়ে দেওয়ানি মানি স্যুট (Money Suit) দায়ের

জামানতের বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হলে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে অর্থ উদ্ধারের জন্য উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতে মানি স্যুট (Money Suit) দায়ের করা যায়। আদালত বাড়িওয়ালার স্থাবর সম্পত্তি বা ব্যাংক হিসাবের ওপর ক্রোকাদেশ জারি করে ভাড়াটিয়ার টাকা সুদসহ আদায়ের নির্দেশ দেন।

ভাড়া নেওয়ার সময় ও ছাড়ার সময় ভাড়াটিয়ার সতর্কতামূলক চেকলিস্ট

  1. অবশ্যই ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দ্বিপাক্ষিক বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পাদন করুন।
  2. অ্যাডভান্সের টাকা সবসময় ব্যাংক ট্রান্সফার, চেক বা রসিদের মাধ্যমে প্রদান করুন।
  3. বাসা ছাড়ার সময় ঘরের প্রতিটি রুমের পূর্ণ ভিডিও ও ছবি তুলে মেমোরিতে সংরক্ষণ রাখুন।
  4. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির শেষ পরিশোধিত বিলের কপি বাড়িওয়ালাকে দিয়ে রিসিভিং সই নিন।