বাটোয়ারা মামলার কোর্ট ফি কত? ২০২৬ সম্পূর্ণ হিসাব, সময়কাল ও প্রক্রিয়া

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

জমি বা সম্পত্তি ভাগ নিয়ে পরিবারে বিরোধ হলে দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit) দায়ের করতে হয়। কিন্তু কোর্ট ফি কত, আইনজীবীর খরচ কত, মামলা শেষ হতে কত বছর লাগে — এই তথ্যগুলো না জানলে মামলায় ঢুকতে ভয় লাগে। সব তথ্য বাংলায় বিস্তারিত দেওয়া হলো। পরামর্শ পেতে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।

যখন সম্পত্তিতে একাধিক সহ-মালিক আছেন এবং তারা নিজেদের মধ্যে আপোসে সম্পত্তি ভাগ করতে পারছেন না, তখন দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit) দায়ের করা যায়।

কখন বাটোয়ারা মামলা করবেন:

  • ভাই-বোন, উত্তরাধিকারীরা আপোসে সম্পত্তি ভাগ করতে রাজি না হলে
  • কোনো সহ-মালিক অন্যদের অংশ দিতে অস্বীকার করলে
  • জমিতে একা অথবা অন্যায়ভাবে দখল নিলে
  • মৌখিক বণ্টন বৈধ করতে রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা করতে কেউ রাজি না হলে

বাংলাদেশে বাটোয়ারা মামলার কোর্ট ফি সম্পত্তির বাজার মূল্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ফি কাঠামো নিম্নরূপ:

সম্পত্তির মূল্য আনুমানিক কোর্ট ফি
১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৩০০ - ৫০০ টাকা
১-৫ লক্ষ টাকা ৫০০ - ২,০০০ টাকা
৫-২০ লক্ষ টাকা ২,০০০ - ৫,০০০ টাকা
২০-৫০ লক্ষ টাকা ৫,০০০ - ১৫,০০০ টাকা
৫০ লক্ষ+ টাকা ১৫,০০০ - ৫০,০০০ টাকা

উল্লেখ্য: কোর্ট ফি সাথে প্রসেস ফি (সাক্ষী তলবের জন্য) আলাদাভাবে দিতে হয়।

বাটোয়ারা মামলায় আইনজীবীর ফি মামলার জটিলতা ও সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভর করে:

  • সহকারী জজ আদালত: ১০,০০০ - ৫০,০০০ টাকা (রিটেইনার ফি)
  • জেলা জজ আদালত (আপিল): ২০,০০০ - ৮০,০০০ টাকা
  • প্রতিটি শুনানি: ১,০০০ - ৫,০০০ টাকা
  • অ্যাডভোকেট কমিশনার ফি: ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা
  • জরিপ খরচ: ৩,০০০ - ১৫,০০০ টাকা

খরচের ধরন আনুমানিক পরিমাণ
কোর্ট ফি ৩০০ - ৫০,০০০ টাকা
আইনজীবী ফি (সম্পূর্ণ মামলা) ২০,০০০ - ১,০০,০০০ টাকা
অ্যাডভোকেট কমিশনার ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা
জরিপ ও মাপজোখ ৩,০০০ - ১৫,০০০ টাকা
অন্যান্য (প্রসেস, নোটিশ ইত্যাদি) ২,০০০ - ১০,০০০ টাকা
মোট আনুমানিক খরচ ৩০,০০০ - ২,০০,০০০ টাকা

বাটোয়ারা মামলা সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়। মামলার ধাপ:

  1. আরজি দাখিল: সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের
  2. সমন জারি: বিবাদীকে নোটিশ পাঠানো (১-৩ মাস)
  3. সাক্ষ্যগ্রহণ: উভয় পক্ষের সাক্ষী ও দলিল উপস্থাপন
  4. প্রাথমিক ডিক্রি: কে কতটুকু পাবে — আদালত নির্ধারণ করেন (১-৩ বছর)
  5. অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ: সরজমিনে জমি মেপে অংশ চিহ্নিত
  6. চূড়ান্ত ডিক্রি: চূড়ান্ত রায় ও বণ্টন নিশ্চিত (আরও ১-৩ বছর)

মামলার পরিবর্তে আপোস বাটোয়ারা দলিল করলে খরচ অনেক কম:

  • সাব-রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি ফি: মাত্র ৫০০ - ৩,০০০ টাকা
  • আইনজীবী ফি: ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা
  • সময়: মাত্র ১-৭ দিন

💡 পরামর্শ: সম্ভব হলে আপোসে বাটোয়ারা দলিল করুন। এতে সময়, অর্থ ও পারিবারিক সম্পর্ক তিনটিই রক্ষা পায়।

⚖️ বাটোয়ারা মামলায় সরাসরি সহায়তা

বাটোয়ারা মামলা দায়ের, আপোস দলিল বা সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সহায়তা নিন।

📞 কল করুন: 01712655546 💬 WhatsApp 📍 চেম্বার ঠিকানা