বায়নার টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি দিচ্ছে না? সুনির্দিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়নে (Specific Performance) দেওয়ানি মামলা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১২ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

জমি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য লাখ লাখ টাকা বায়না (Earnest Money) দিয়ে রেজিস্ট্রি বায়ানানামা করার পর দেখা যায়—জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতা নানা বাহানা শুরু করেছে, বাকি টাকা নিতে চাচ্ছে না এবং গোপনে অন্য ক্রেতার কাছে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্রেতাকে কীভাবে আদালতের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি দিতে বাধ্য করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আইনি গাইড দিয়েছেন দেওয়ানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

: · জমি রেজিস্ট্রি ও দলিল আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্করেজিস্ট্রেশন ফি ১% + স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫% (দলিলে প্রদর্শিত মূল্যের ওপর)
স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাটস্থানীয় সরকার কর ২%–৩% + ভ্যাট ১.৫%–৪.৫% (অবস্থানভেদে)
উৎসে কর (Gain Tax / TDS)এলাকা ও মৌজা রেট অনুযায়ী ১% থেকে ৮% (আয়কর আইন ২০২৩)
হেবা দলিলের সরকারি খরচরক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে নামমাত্র ফি (প্রায় ১,৫০০–২,৫০০ টাকা)
অফিসিয়াল ভূমি ও দলিল পোর্টালland.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd
📋 সূচিপত্র
  1. রেজিস্টার্ড বায়ানানামা দলিলের আইনি বাধ্যবাধকতা
  2. বিক্রেতা টালবাহানা শুরু করলে ক্রেতার প্রথম আইনি পদক্ষেপ
  3. আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ ও অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের সদিচ্ছা প্রকাশ
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে 'চুক্তি বাস্তবায়ন' (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমা
  5. মামলা চলাকালীন সময়ে যাতে জমি অন্য কারও কাছে বিক্রি না হয়: নিষেধাজ্ঞা
  6. বিক্রেতা আদালতে না আসলে আদালত নিজেই যেভাবে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন
  7. বায়না করার সময় যে ৩টি বিষয় দলিলের ভেতর অবশ্যই রাখতে হবে
  8. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

রেজিস্টার্ড বায়ানানামা দলিলের আইনি বাধ্যবাধকতা

রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮-এর ১৭(ক) ধারা অনুসারে—স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য যেকোনো বায়নানামা দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা আইনত বাধ্যতামূলক। নোটারি পাবলিক বা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাধারণ বায়না চুক্তি আদালতে জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। একটি রেজিস্টার্ড বায়ানার মাধ্যমে ক্রেতা ওই জমিতে অখণ্ডনীয় আইনগত স্বার্থ (Equitable Interest) লাভ করেন।

বিক্রেতা টালবাহানা শুরু করলে ক্রেতার প্রথম আইনি পদক্ষেপ

বায়না দলিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে যখন দেখবেন বিক্রেতা ফোন ধরছে না বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসতে চাইছে না, তখন অলস বসে থাকবেন না। কারণ বায়ানার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বিক্রেতা দাবি করবে যে ক্রেতাই টাকা না দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং বায়নার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে!

আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ ও অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের সদিচ্ছা প্রকাশ

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বিক্রেতাকে একটি আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করুন যে আপনি অবশিষ্ট সমুদয় টাকা (পে-অর্ডারের বিবরণসহ) পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন এবং অমুক তারিখে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থেকে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। নোটিশের নির্দিষ্ট দিনে নিজে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থেকে সাব-রেজিস্ট্রারের ডায়েরিতে হাজিরা এন্ট্রি করে রাখুন।

যুগ্ম জেলা জজ আদালতে 'চুক্তি বাস্তবায়ন' (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমা

বিক্রেতা রেজিস্ট্রি দিতে ব্যর্থ হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ধারা ১২ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ‘সুনির্দিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়ন’ (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তামাদি আইন ১৯০৮ অনুসারে বায়ানার মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে এই মামলা দায়ের করা আবশ্যক।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

মামলা চলাকালীন সময়ে যাতে জমি অন্য কারও কাছে বিক্রি না হয়: নিষেধাজ্ঞা

মামলা দায়েরের দিনই দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ রুল ১ ও ২ অনুযায়ী জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করতে হবে। আদালত ইনজাংশন দিয়ে দিলে বিক্রেতা মামলা চলাকালীন জমিটি আর কারও কাছে বিক্রয়, বায়না বা হস্তান্তর করতে পারবে না।

বিক্রেতা আদালতে না আসলে আদালত নিজেই যেভাবে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন

মামলার বিচারে ডিক্রি পাওয়ার পর যদি বিক্রেতা তবুও রেজিস্ট্রি অফিসে এসে সই না দেয়, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ক্রেতা অবশিষ্ট টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে আদালতে জমা দেবেন। এরপর বিজ্ঞ বিচারক বা আদালতের নাজির স্বয়ং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থেকে ক্রেতার অনুকূলে আদালতের ক্ষমতাবলে ‘আদালতি কবলা দলিল’ রেজিস্ট্রি করে দেন এবং পুলিশের সহায়তায় জমিতে দখল বুঝিয়ে দেন।

বায়না করার সময় যে ৩টি বিষয় দলিলের ভেতর অবশ্যই রাখতে হবে

ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে বায়ানানামা ড্রাফটে রাখুন:

  1. একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন: ৬ মাস)।
  2. স্পষ্ট শর্ত যে—ক্রেতা প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতা রেজিস্ট্রি না দিলে ক্রেতা আদালতে ১২ ধারায় মামলা করে দখলসহ রেজিস্ট্রি নেওয়ার অধিকারী হবেন।
  3. অনুমোদিত কোনো ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে বায়নার টাকা লেনদেন করুন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০