লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, কোনো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করে সিকিউরিটি দিয়ে বের করে দেওয়া বাংলাদেশে বহু কর্পোরেট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত অনিয়ম। অনেকেরই বছরের পর বছর কাজ করার পর জমানো প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও সার্ভিস বেনিফিটের লাখ লাখ টাকা মেরে দেওয়া হয়। অথচ ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষের এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে শ্রম আদালত থেকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের অকাট্য অধিকার রয়েছে। বাস্তব আইনি রূপরেখা তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
শ্রম আইনের ২৬, ২৭ ও ২৮ ধারা অনুযায়ী—কোনো স্থায়ী শ্রমিক বা কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ করতে হলে মালিকপক্ষকে অবশ্যই অন্তত ১২০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হবে, অথবা নোটিশের পরিবর্তে সমপরিমাণ মূল বেতন প্রদান করতে হবে। এছাড়া অসদাচরণের অভিযোগে বরখাস্ত করতে হলে আনুষ্ঠানিক শোকজ নোটিশ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি (Domestic Inquiry) গঠন করা বাধ্যতামূলক।
আইন অনুযায়ী চাকরি অবসানের সাথে সাথে কর্মচারীকে প্রতি পূর্ণ বছরের চাকরির জন্য ৩০ দিনের মূল মজুরি হারে গ্র্যাচুইটি, অর্জিত ছুটির সমপরিমাণ নগদ অর্থ এবং ভবিষ্য তহবিলের (PF) মালিকের অংশসহ শতভাগ পরিশোধ করতে মালিক আইনত বাধ্য। এগুলো আটকে রাখা সরাসরি শ্রম আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শ্রম আদালতে যাওয়ার আগে একটি আইনি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হয়। চাকরিচ্যুতির কারণ ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) বা মালিক বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ‘গ্রিভ্যান্স নোটিশ’ (Grievance Petition) পাঠাতে হবে। মালিক ১৫ দিনের মধ্যে কোনো সুরাহা না দিলে বা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরবর্তী আইনি ধাপ শুরু হয়।
মালিকের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় শ্রম আদালতে শ্রম আইনের ৩৩(৩) ধারা মোতাবেক সরাসরি মামলা দায়ের করতে হয়। এখানে মনে রাখতে হবে—শ্রম আইনের তামাদি অত্যন্ত কঠোর; সময় পেরিয়ে গেলে আদালত আবেদন গ্রহণ নাও করতে পারেন।
বিজ্ঞ শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান (যিনি একজন জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক) শুনানি শেষে নিম্নলিখিত চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করতে পারেন: