ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯: অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের ও জরিমানার ২৫% পুরস্কার পাওয়ার নিয়ম ২০২৬
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-11 · 12 min read
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ই-কমার্স, ফেসবুক পেজ, সুপারশপ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভোক্তারা প্রায় প্রতিনিয়তই নানা ধরনের প্রতারণা, ওজনে কারচুপি, কৃত্রিম সংকট, ভেজাল পণ্য এবং চটকদার মিথ্যা বিজ্ঞাপনের শিকার হচ্ছেন। অনলাইনে এক পণ্য অর্ডার দিয়ে অন্য নষ্ট পণ্য পাওয়া, মোড়কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (MRP) চেয়ে বেশি দাম রাখা কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী গছিয়ে দেওয়া একটি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রায়শই ভেবে থাকেন—সামান্য কয়েকশো বা কয়েক হাজার টাকার জন্য থানায় মামলা বা আদালতে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে সাধারণ ভোক্তাকে শক্তিশালী করার জন্য রয়েছে একটি চমৎকার বিশেষ আইন—'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯' (Consumer Rights Protection Act, 2009)। এই আইনের আওতায় কোনো কোর্ট ফি বা আইনজীবী ছাড়াই ঘরে বসে অনলাইনে মাত্র একটি ইমেইল বা ওয়েব অভিযোগের মাধ্যমে বিচার পাওয়া যায়। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক ব্যবসায়ীকে যে অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হবে, তার ২৫ শতাংশ (এক-চতুর্থাংশ) নগদ অর্থ অভিযোগকারী ভোক্তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কার হিসেবে নিজের পকেটে পাবেন! ২০২৬ সালের আধুনিক আইনি নিয়মে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড নিচে আলোচনা করা হলো।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিন
হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাই
supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ এক নজরে
১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর উদ্দেশ্য ও নাগরিক ক্ষমতায়ন
একটি মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অন্যায় আধিপত্য থেকে নাগরিকদের জীবন, স্বাস্থ্য ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করতে ২০০৯ সালে এই ঐতিহাসিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
আইনের মূল ভিত্তি:
১. নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার।
২. পণ্যের উপাদান, মেয়াদ, ব্যবহারবিধি ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার অধিকার।
৩. প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে খাঁটি পণ্য নির্বাচন করার স্বাধীনতা।
৪. প্রতারণার শিকার হলে বিনা খরচে দ্রুত প্রশাসনিক ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার পাওয়ার অধিকার।
এই আইনের মাধ্যমে 'জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর' (DNCRP) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আদালত গঠন করা হয়েছে, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি জবাবদিহিমূলক সেতু হিসেবে কাজ করে।
২. কোন কোন কাজের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করা যায়? (অপরাধের তালিকা)
আইনের ৩৭ থেকে ৫৩ ধারায় ভোক্তা অধিকার বিরোধী বেশ কয়েকটি সুস্পষ্ট অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে:
প্রধান প্রধান অপরাধসমূহ:
- ধারা ৩৭: মোড়কে পণ্যের বিক্রয়মূল্য (MRP), ওজন, তৈরির তারিখ ও মেয়াদের তারিখ স্পষ্টভাবে না লেখা।
- ধারা ৩৮: সরকার নির্ধারিত মূল্য বা প্যাকেটে লিখিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয় করা।
- ধারা ৪০: খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভেজাল মিশ্রণ করা।
- ধারা ৪১: স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ প্রক্রিয়ায় পণ্য প্রক্রিয়াকরণ।
- ধারা ৪২: নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বাটখারা বা স্কেলে কম ওজন বা পরিমাপে কারচুপি করা।
- ধারা ৪৪: মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে প্ররোচিত করা।
- ধারা ৪৫: প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে সরবরাহ না করা (Failure to deliver promised goods/services)।
- ধারা ৫১: মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বা ওষুধ বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা।
৩. অনলাইন শপিং (ই-কমার্স ও এফ-কমার্স) প্রতারণায় অভিযোগের বিশেষ নিয়ম
বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়ছে ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে:
সাধারণ অনলাইন প্রতারণাসমূহ:
- ছবিতে ব্রান্ডেড অরিজিনাল গ্যাজেট দেখিয়ে বাস্তবে প্লাস্টিকের খেলনা বা নিম্নমানের ক্লোন পাঠানো।
- অগ্রিম ক্যাশ অন ডেলিভারির নামে বিকাশ/নগদে টাকা নিয়ে পেজ ব্লক করে দেওয়া।
- পণ্যে ত্রুটি থাকলে রিটার্ন বা রিফান্ড পলিসি অনুযায়ী টাকা ফেরত না দেওয়া।
অনলাইনে প্রতিকার:
ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এবং ভোক্তা আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী অনলাইন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিকাশ ট্রানজ্যাকশন আইডি, কুরিয়ার স্লিপ এবং ফেসবুক চ্যাটের স্ক্রিনশট অভিযোগের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৭৬(১) ধারায় একটি অত্যন্ত কঠোর তামাদির বিধান (Limitation Period) রাখা হয়েছে:
সময়সীমা:
যেদিন আপনি পণ্য বা সেবা ক্রয় করেছেন অথবা প্রতারণার কারণ উদ্ভূত হয়েছে, সেই দিন থেকে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হবে।
সতর্কতা:
যদি ৩১তম দিনে অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সেই অভিযোগ গ্রহণ করতে পারে না এবং আইন অনুযায়ী তা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। তাই কোনো পণ্যে প্রতারণা ধরা পড়ার সাথে সাথে কালবিলম্ব না করে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. অনলাইনে ও ইমেইলে অভিযোগ দায়েরের ধাপে ধাপে নিয়ম ২০২৬
২০২৬ সালের ডিজিটাল পোর্টালে যেভাবে ঘরে বসে অভিযোগ জমা দেবেন:
ধাপ ১: দরখাস্ত প্রস্তুতকরণ:
একটি সাদা কাগজে বা ওয়ার্ড ফাইলে মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরাবর সাধারণ দরখাস্তের মতো আবেদন লিখুন।
দরখাস্তে থাকবে:
- আবেদনকারীর পূর্ণ নাম, পিতার নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর ও বর্তমান ঠিকানা।
- যে দোকান, সুপারশপ বা অনলাইন পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তার নাম, দোকানের সাইনবোর্ডের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর বা ফেসবুক ইউআরএল।
- প্রতারণার ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও তারিখসহ সঠিক বিবরণ।
- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ এবং ক্ষতিপূরণের আবেদন।
ধাপ ২: প্রমাণপত্র স্ক্যান:
ক্যাশ মেমো, ইনভয়েস, প্যাকেটের ছবি এবং ত্রুটিযুক্ত পণ্যের ছবি স্ক্যান করুন।
ধাপ ৩: ইমেইল বা পোর্টালে প্রেরণ:
দরখাস্ত ও প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের অফিসিয়াল ইমেইল: nccc@dncrp.gov.bd অথবা dnc-consumerbd@yahoo.com-এ পাঠিয়ে দিন। অথবা সরকারের ভোক্তা ওয়েব পোর্টালে গিয়ে অনলাইন ফরম পূরণ করুন।
৬. হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিমান টিকিট বিক্রিতে প্রতারণা: বিশেষ নজরদারি
বাংলাদেশে খাদ্য ও পণ্য ক্রয়ের বাইরে সেবা খাতের (Service Sector) প্রতারণাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো এয়ারলাইন্স বা ট্রাভেল এজেন্সি অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিবর্তন বা রিফান্ড না দেওয়া, অথবা কোনো পাঁচ তারকা বা মাঝারি রেস্তোরাঁ বাসি পচা খাবার পরিবেশন করা ও খাদ্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ জোরপূর্বক আদায় করা সরাসরি ভোক্তা অধিকার আইনের ধারা ৪৫ ও ৪৭ লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ভোক্তা টিকিট বা খাবারের রসিদ সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরে নালিশ করতে পারেন। অধিদপ্তর ইতিপূর্বে একাধিক স্বনামধন্য এয়ারলাইন্স ও ফুড চেইনকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এবং অভিযোগকারীকে তার আইনানুগ ২৫% পুরস্কার প্রদান করেছে।
৬. অভিযোগের সাথে যে সমস্ত প্রমাণ ও বিল-ভাউচার দাখিল করা বাধ্যতামূলক
আইনে বলা হয়েছে—'দালিলিক প্রমাণ ছাড়া মৌখিক অভিযোগ ধোপে টিকবে না'।
অভিযোগের সাথে যা যা দাখিল করতে হবে:
১. ক্রয় রসিদ বা ক্যাশ মেমো (Cash Memo / Money Receipt): রসিদে দোকানের নাম, তারিখ ও পণ্যের মূল্য লেখা থাকতে হবে।
২. পণ্যের মোড়ক বা প্যাকেটের ছবি: যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ বা অতিরিক্ত মূল্যের সিল দেখা যায়।
৩. অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে: কুরিয়ার রসিদ (যেমন রেডএক্স, সুন্দরবন, স্টিডফাস্টের স্লিপ) এবং ডেলিভারিম্যানের সাথে কথোপকথন।
৪. ভিডিও প্রমাণ: প্যাকেট খোলার সময় আনবক্সিং (Unboxing) ভিডিও থাকলে তা শতভাগ অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
শুনানিতে উপস্থিতির সময় আবেদনকারীকে তার পরিচয়পত্র এবং মূল ক্রয়ের রসিদ প্রদর্শন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী যদি সরাসরি শুনানিতে অভিযোগকারীকে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিতে চায়, তবে ভোক্তা তা প্রত্যাখ্যান করে আইনের অধীনে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক জরিমানা প্রয়োগের দাবি জানাতে পারেন, যার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে জরিমানা জমা হয়ে আইনসম্মতভাবে ২৫% পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত হয়।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
৭. শুনানি ও মধ্যস্থতা (Hearing Process): অভিযুক্তকে তলব ও সাক্ষ্য গ্রহণ
অভিযোগ জমা হওয়ার পর ভোক্তা অধিদপ্তর যেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে:
১. প্রাথমিক স্ক্রুটিনি: অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক অভিযোগটি প্রাথমিক যাচাই করেন।
২. উভয় পক্ষকে নোটিশ: অভিযোগকারী ভোক্তা এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বা কোম্পানির মালিককে একটি নির্দিষ্ট দিনে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়।
৩. সরাসরি শুনানি: অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বা ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে শুনানি নেন।
৪. স্বীকারোক্তি বা প্রমাণ: ব্যবসায়ী যদি অন্যায় স্বীকার করে, অথবা প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আদেশ ও শাস্তির ডিক্রি জারি করেন।
১০. মিথ্যা অভিযোগ দাখিলের বিরুদ্ধে সতর্কতা: ধারা ৭১ অনুযায়ী সাজার ঝুঁকি
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন যেমন ক্রেতাকে বিপুল অধিকার ও আর্থিক পুরস্কারের সুযোগ দিয়েছে, তেমনই অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে হয়রানি করার বিরুদ্ধেও আইন অত্যন্ত কঠোর বিধান রেখেছে। আইনের ৭১ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যে অথবা ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন, তবে উক্ত অভিযোগকারীর অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তাই ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দাখিলের পূর্বে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার কাছে যথাযথ ক্যাশ মেমো, ছবি এবং লিখিত প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে।
৮. বিভিন্ন অপরাধের সাজার পরিমাণ: ১ থেকে ৩ বছরের জেল ও অর্থদণ্ড
আইনের বিভিন্ন ধারায় জরিমানার পরিধি:
- মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির শাস্তি (ধারা ৫১): অনধিক ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা ১ বছরের কারাদণ্ড।
- ওজনে কারচুপি (ধারা ৪২): অনধিক ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা ১ বছরের কারাদণ্ড।
- পণ্যের মূল্য বেশি রাখা (ধারা ৩৮): অনধিক ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড।
- পণ্যে ক্ষতিকর ভেজাল মিশ্রণ (ধারা ৪০): অনধিক ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা অর্থদণ্ড বা ৩ বছরের কারাদণ্ড।
- মিথ্যা বিজ্ঞাপন (ধারা ৪৪): অনধিক ২,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা ১ বছরের জেল।
গুরুতর ক্ষেত্রে অধিদপ্তর সরাসরি প্রতিষ্ঠান সিলগালা (Seized) করে দিতে পারে।
৯. জরিমানার ২৫% নগদ পুরস্কার প্রাপ্তির আইনি বিধান (ধারা ৭৬(৪))
আইনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অনুপ্রেরণামূলক ধারা হলো ৭৬(৪):
আইনের বিধান:
'এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের জন্য আদায়কৃত জরিমানার শতকরা পঁচিশ ভাগ (২৫%) অর্থ অবিলম্বে অভিযোগকারীকে প্রদান করিতে হইবে।'
বাস্তব হিসাব:
- কোনো মিষ্টির দোকান বা শপিং মলকে যদি অতিরিক্ত দাম বা ভেজালের অপরাধে ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা জরিমানা করা হয়, তবে শুনানির দিনই অভিযোগকারী ভোক্তা সরকারি কোষাগারের টাকা থেকে নগদ ২৫,০০০ টাকা পুরস্কারের চেক বা ক্যাশ বুঝে পাবেন।
- দুই লাখ টাকা জরিমানা হলে ভোক্তা পাবেন ৫০,০০০ টাকা!
এটি সচেতন নাগরিকদের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি অসাধারণ আইনি প্রণোদনা।
ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক জরিমানার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ক্রেতার আরও দুটি আইনি প্রতিকার রয়েছে:
১. ভোক্তা অধিকার স্পেশাল কোর্টে ফৌজদারি মামলা:
অধিদপ্তরের পাশাপাশি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করা যায়।
২. দেওয়ানি আদালতে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা:
নষ্ট ওষুধ বা ভেজাল খাবার খেয়ে যদি কোনো ব্যক্তি স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হন বা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তবে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে টর্টের অধীনে ক্ষতিপূরণ মামলা (Damage Suit) দায়ের করা যায়।
১১. করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলমের চেম্বারের গাইডলাইন
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম বড় হাতিয়ার হলেও অনেকে সঠিক ড্রাফটিং ও প্রমাণের অভাবে বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলম সাহেবের চেম্বারের বাণিজ্যিক সেবা:
- বড় বাণিজ্যিক প্রতারণা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আইনসম্মত অভিযোগ ড্রাফটিং ও লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ।
- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শুনানিতে অভিযোগকারীর পক্ষে বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব।
- খাদ্য ও ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মোকদ্দমা পরিচালনা।
- চেম্বার যোগাযোগের ঠিকানা: রুম নং ২০৮ ও ২১৪, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন, পুরাতন কোর্ট চত্বর, ঢাকা। ফোন: ০১৭১১-৯৪৬১৯৮ / ০১৭৩১৮৪১৯১৯।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করতে কি কোনো ফি লাগে?
না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করতে কোনো সরকারি ফি বা কোর্ট ফি লাগে না; এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়।
অভিযোগকারী কীভাবে জরিমানার ২৫% টাকা পান?
আইনের ৭৬(৪) ধারা অনুযায়ী শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে টাকা আদায় করার সাথে সাথে তার ২৫ শতাংশ অর্থ সরাসরি অভিযোগকারীকে হস্তান্তর করা হয়।
প্রতারণা হওয়ার কতদিনের মধ্যে অভিযোগ করতে হয়?
পণ্য ক্রয় বা প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার তারিখ থেকে কঠোরভাবে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হয়।
ফেসবুক পেজে অর্ডার করে ঠকলে কি বিচার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। চ্যাটের স্ক্রিনশট, বিকাশ পেমেন্ট নম্বর এবং কুরিয়ারের ট্র্যাকিং স্লিপ সংযুক্ত করে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দিলে ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগ করার পর কতদিনে সমাধান হয়?
অভিযোগ জমা হওয়ার পর সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০