লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
বিমানের টিকিট কেটে বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার পর হঠাৎ যদি জানানো হয়—‘আপনার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আপনি যেতে পারবেন না’—তখন চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট রায় অনুযায়ী আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া কেবল চিঠি দিয়ে কোনো নাগরিকের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া সংবিধান পরিপন্থী। এই বেআইনি নিষেধাজ্ঞা অপসারণের পথ বাতলে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—আইনানুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাচল, দেশে বসবাস ও ত্যাগ এবং বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার। বিচারিক আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছাড়া নিছক নির্বাহী আদেশে কাউকে বন্দি করা বা দেশত্যাগে বাধা দেওয়া সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন।
সাধারণত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের বিশেষ শাখা (SB), সিআইডি বা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠিয়ে স্টপ-লিস্ট তৈরি করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছেন—তদন্ত চলাকালীন কোনো ব্যক্তির বিদেশ গমনে বাধা দিতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ থাকতে হবে; তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজ ক্ষমতায় চিঠি পাঠিয়ে দেশত্যাগে বাধা দিতে পারেন না।
আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো—কাউকে বিদেশযাত্রায় বাধা দিতে হলে তদন্ত সংস্থাকে উপযুক্ত আদালতে আবেদন করতে হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়ে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। একতরফাভাবে গোপনে কারো নাম নো-ফ্লাই বা স্টপ-লিস্টে দেওয়া বেআইনি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।
যদি বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আপনাকে ফ্লাইটে উঠতে না দিয়ে অফলোড করে, তবে বিনয়ের সাথে তাদের কাছে অফলোডের কারণ সংবলিত ‘অফলোড স্লিপ’ বা লিখিত নোটিশ দেখতে চান। পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস ও এয়ারলাইন্সের লিখিত বিবরণ সংগ্রহ করে দ্রুত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।
অবৈধ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ও দ্রুততম প্রতিকার হলো সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করা। হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি করে জরুরি ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বেআইনি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে বিদেশ ভ্রমণের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা এবং রুল জারি করানো যায়।