⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈবাহিক বিচ্ছেদ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রায়শই দেখা যায়—বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে বা মুসলিম শরিয়াহ মতে বিয়ের পর বিদেশে সংসার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সেখানকার আদালতে (যেমন আমেরিকার স্টেট কোর্ট, লন্ডনের ডিক্রি অ্যাবসলিউট বা কানাডার সুপিরিয়র কোর্ট) ডিভোর্স সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই বিদেশি ডিভোর্সের কাগজ হাতে নিয়ে বাংলাদেশে এসে যখন কোনো পক্ষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে যায় কিংবা দেনমোহর ও সন্তানের অভিভাবকত্বের প্রশ্ন ওঠে, তখন তারা এক বিরাট আইনি জটিলতায় পড়েন: **বিদেশে পাওয়া ডিভোর্স ডিক্রি বাংলাদেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর বা বৈধ হয় না**। দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর **১৩ ধারা (Section 13 CPC)** এবং **মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭ ধারা** অনুযায়ী বিদেশি তালাকের বৈধতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি রায়ের ওপর ভিত্তি করে দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ‘দ্বৈত বিবাহ’ (Bigamy) হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই পূর্ণাঙ্গ গাইডে বিদেশি ডিভোর্স বৈধ করা ও চ্যালেঞ্জ করার যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক ডিভোর্স কার্যকর চুক্তি নেই। তাই যেকোনো বিদেশি আদালতের রায়কে দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ১৩ ধারা-র কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ১৩ ধারা অনুযায়ী নিচের ৬টি ক্ষেত্রে বিদেশি ডিভোর্স বাতিল বলে গণ্য হবে:
১৩(ক) এখতিয়ারের অভাব: যে বিদেশি আদালত রায় দিয়েছে, তাদের যদি ওই ব্যক্তির ওপর আন্তর্জাতিক এখতিয়ার না থাকে (যেমন পক্ষগণ সেখানকার প্রকৃত অধিবাসী বা ডমিসাইল নয়)।
১৩(খ) মেধার ভিত্তিতে না হওয়া: মামলাটির গুণাগুণ, তথ্যপ্রমাণ বা লিখিত বক্তব্য পরীক্ষা ছাড়া নিছক যান্ত্রিকভাবে রায় দেওয়া হলে।
১৩(গ) বাংলাদেশের আইন অস্বীকার: যদি রায়টি আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা বাংলাদেশের প্রযোজ্য মুসলিম বা ব্যক্তিগত আইন মানতে অস্বীকার করে।
১৩(ঘ) প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার পরিপন্থী: অপর পক্ষকে কোনো বৈধ সমন বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গোপনে একতরফা রায় দেওয়া হলে।
১৩(ঙ) জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত: বিদেশি জজের কাছে মিথ্যা ঠিকানা দিয়ে বা মিথ্যা শপথ করে রায় নিলে।
১৩(চ) বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী দাবি: রায়টি যদি এমন কিছু সমর্থন করে যা বাংলাদেশের আইনে দণ্ডনীয় বা পাবলিক পলিসির বিরোধী।
২. মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ এর ৭ ধারা: নোটিশ ও ৯০ দিনের নোটিশ বিধান
কোনো বিদেশি আদালতের ডিক্রি যতই নিখুঁত হোক না কেন, বিবাহিত পক্ষ যদি বাংলাদেশি মুসলিম নাগরিক হন, তবে তাদের জন্য মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭ ধারা পরিপালন বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বহু নজির অনুযায়ী—স্ত্রী বা স্বামী তালাক দিলে তার লিখিত নোটিশ স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে হবে এবং তার একটি অনুলিপি অপর পক্ষকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে দিতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৯০ দিন সালিশি পরিষদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলবে। এই ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত তালাক আইনত কার্যকর হয় না। বিদেশে ডিভোর্স করে দেশে এই নোটিশ না পাঠালে বিয়েটি বাংলাদেশে অটুট রয়ে গেছে বলে ধরা হবে।
৩. একতরফা বিদেশি ডিভোর্স ও সমন জালিয়াতির মারাত্মক পরিণতি
প্রবাসী স্বামীদের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যায়—স্ত্রী বাংলাদেশে থাকা সত্ত্বেও বিদেশে আমেরিকার কাউন্টি কোর্ট বা কানাডায় মামলা করে বলে দেওয়া হয় 'স্ত্রীর বর্তমান ঠিকানা অজানা'। এরপর স্থানীয় পত্রিকায় একতরফা নোটিশ দেখিয়ে একটি ডিফল্ট ডিভোর্স ডিক্রি বের করা হয়।
বাংলাদেশের আইনে এমন প্রতারণামূলক একতরফা বিদেশি রায় সম্পূর্ণ মূল্যহীন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূল নীতি 'Audi alteram partem' (অপর পক্ষের কথা শোন) লঙ্ঘিত হওয়ায় দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩(ঘ) ও ১৩(ঙ) ধারা মতে এই রায় অবৈধ। ভুক্তভোগী স্ত্রী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে মামলা করে এই রায় সরাসরি খারিজ করিয়ে নিতে পারেন।
৪. দেনমোহর, খোরপোশ ও সন্তানের কাস্টডির ওপর প্রভাব
পশ্চিমা আদালতের ডিভোর্সে প্রায়ই উভয় পক্ষের সম্পদ ৫০-৫০ ভাগ করার আদেশ দেওয়া হয়, যার মধ্যে দেনমোহরের কোনো উল্লেখ থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে:
দেনমোহর একটি অলঙ্ঘনীয় ঋণ: পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এবং মুসলিম আইন মতে দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার। বিদেশি আদালত যাই বলুক না কেন, স্ত্রী দেশে পারিবারিক আদালতে মামলা করে তার কাবিননামার পূর্ণ দেনমোহর আদায় করতে পারবেন।
সন্তানের হেফাজত (Hizanat): বিদেশি আদালত স্বামীকে একতরফা সন্তানের কাস্টডি দিলেও সন্তান যদি বাংলাদেশে থাকে, তবে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ (Guardians and Wards Act 1890) অনুযায়ী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতই বাচ্চার কল্যাণের কথা বিবেচনা করে চূড়ান্ত অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করবে।
৫. দ্বিতীয় বিয়ে ও ৪৯৪ ধারার দ্বৈত বিবাহ মামলা (৭ বছরের জেল)
অপ্রমাণিত বা অসম্পূর্ণ বিদেশি ডিভোর্সের ওপর ভরসা করে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে করা একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ:
যেহেতু প্রথম বিয়েটি বাংলাদেশে আইনত ভাঙেনি, তাই দ্বিতীয় বিয়েটি দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী দ্বৈত বিবাহ (Bigamy) হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথম স্ত্রী বা স্বামী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
৬. দেশভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ইউএসএ, ইউকে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া
বিভিন্ন দেশের বিচার ব্যবস্থা ও রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশে বৈধতার ঝুঁকি ভিন্ন হয়:
দেশের নাম
ডিভোর্সের নথি
১৩ ধারা সিপিসি গ্রহণযোগ্যতা
৭ ধারার নোটিশ লাগবে কি?
দেশে বাতিলের ঝুঁকি
আমেরিকা (USA)
State Court Dissolution of Marriage
উভয় পক্ষ অংশ নিলে গ্রহণযোগ্য
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক ৯০ দিনের নোটিশ
একতরফা হলে বাতিলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি
যুক্তরাজ্য (UK)
Decree Absolute / Final Order
আপোষমূলক হলে গ্রহণযোগ্য
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক ৯০ দিনের নোটিশ
মাঝারি; দূতাবাসের সত্যায়ন আবশ্যক
কানাডা (Canada)
Certificate of Divorce
দ্বিপাক্ষিক উপস্থিতি থাকলে বৈধ
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক ৯০ দিনের নোটিশ
মাঝারি; দেনমোহর নিষ্পত্তির ওপর নির্ভরশীল
অস্ট্রেলিয়া (Australia)
Family Court Divorce Order
প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার মানলে বৈধ
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক ৯০ দিনের নোটিশ
বিকল্প সমন জারি করা থাকলে বাতিলের ঝুঁকি বেশি
৭. ধাপে ধাপে বিদেশি ডিভোর্স ডিক্রি বাংলাদেশে বৈধ করার সঠিক নিয়ম
ভবিষ্যতে সব ধরণের আইনি ঝামেলা ও ফৌজদারি মামলা থেকে মুক্ত থাকতে নিচের নিয়মাবলি অনুসরণ করুন:
দূতাবাসের সত্যায়ন: বিদেশি আদালতের সার্টিফায়েড ডিভোর্স ডিক্রি সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাই কমিশন থেকে সত্যায়িত করিয়ে নিন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) ঢাকা: বাংলাদেশে এনে সেগুনবাগিচাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার উইং থেকে কাউন্টার-অ্যাটেস্টেশন সম্পন্ন করুন।
সিটি কর্পোরেশনে নোটিশ প্রদান: বিয়ের রেজিস্ট্রেশন যে এলাকায় হয়েছিল, সেই এলাকার সিটি কর্পোরেশন মেয়র বা ইউপি চেয়ারম্যানকে বিদেশি ডিক্রির কপিসহ ১৯৬১ সালের আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক তালাক নোটিশ পাঠান এবং অপর পক্ষকে অনুলিপি দিন।
৯০ দিনের সার্টিফিকেট গ্রহণ: সালিশি পরিষদের নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন থেকে তালাক কার্যকরের চূড়ান্ত সনদপত্র সংগ্রহ করুন।
পারিবারিক আদালতে ডিক্লেয়ারেশন (ঐচ্ছিক কিন্তু সুপারিশকৃত): সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঢাকার পারিবারিক আদালতে একটি ডিক্লেয়ারেশন মামলা করে বিদেশি তালাকের পূর্ণ স্বীকৃতিমূলক আদালতের ডিক্রি হাসিল করুন।
৮. জালিয়াতিপূর্ণ বিদেশি তালাক বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ করার উপায়
আপনি যদি জানতে পারেন যে আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনাকে না জানিয়ে গোপনে বিদেশে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একতরফা ডিভোর্স করিয়েছে, তবে তাৎক্ষণিক করণীয়:
পারিবারিক আদালতে মামলা: পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর আওতায় মামলা করে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩ ধারার ব্যত্যয় দেখিয়ে বিদেশি রায়টি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণার আর্জি জানান।
দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি: একই মামলায় কাবিননামার পূর্ণ বকেয়া দেনমোহর এবং বিগত দিনগুলোর খোরপোশের ডিক্রি চান।
দ্বিতীয় বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা: বিবাদী যাতে বাংলাদেশে এসে অন্য কোথাও বিয়ে করতে না পারে সেজন্য আদালতে জরুরি দরখাস্ত দিয়ে বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ নিন।
৯. প্রবাসীদের জন্য আইনি পরামর্শ ও করণীয়
বিদেশে ডিভোর্স কার্যক্রম শুরু করার সময় প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
বিদেশে মামলা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনেও একই সময়ে ৭ ধারার তালাক নোটিশ পাঠান, যাতে উভয় দেশের ৯০ দিনের মেয়াদ সমান্তরালে শেষ হয়।
কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা অফিসিয়াল ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ করে লিখিত রসিদ সংগ্রহে রাখুন।
সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিরোধ থাকলে সন্তানকে জোরপূর্বক দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না, এতে কিডন্যাপিংয়ের ফৌজদারি মামলায় পাসপোর্ট ব্লক হতে পারে।
ঢাকার ধানমন্ডির এক তরুণী টেক্সাস প্রবাসী এক প্রকৌশলীর সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের তিন বছর পর স্বামী টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি আদালতে মামলা করে মিথ্যা দাবি করেন যে স্ত্রীর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আদালত স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একতরফা ডিভোর্স মঞ্জুর করেন।
ছয় মাস পর স্বামী ঢাকায় এসে এক শিল্পপতির মেয়েকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্ত্রী আমাদের চেম্বারের শরণাপন্ন হলে আমরা দ্রুত নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিই:
টেক্সাসের মামলার সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে আদালতে প্রমাণ করা হয় যে স্বামী যে সময় স্ত্রীকে 'নিখোঁজ' দাবি করেছেন, ঠিক সেই সময়েই তিনি স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত মেসেজ দিচ্ছিলেন।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩(ঘ) (প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন) ও ১৩(ঙ) (জালিয়াতি) ধারায় ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
একই সাথে কাবিননামার ২৫ লক্ষ টাকার বকেয়া দেনমোহরের দাবি যুক্ত করা হয়।
পারিবারিক আদালত থেকে জরুরি শুনানি শেষে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ওপর তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করানো হয়।
স্বামী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করলে দণ্ডবিধির ৪৯৪/১০৯ ধারায় দ্বৈত বিবাহের মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার এবং আমেরিকার এইচ-১বি ভিসা হারানোর ভয়ে স্বামী আদালতে এসে সম্পূর্ণ ২৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য হন এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিয়মতান্ত্রিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বিদেশে হওয়া ডিভোর্স কি বাংলাদেশে সরাসরি কার্যকর হয়?
না। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩ ধারা মোতাবেক বিদেশি আদালতের রায় যাচাই করা হয় এবং মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী ৯০ দিনের নোটিশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তা বাংলাদেশে কার্যকর হয় না।
একতরফা বিদেশি ডিভোর্স কি বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ করা যায়?
হ্যাঁ। অপর পক্ষকে নোটিশ না দিয়ে গোপনে প্রাপ্ত একতরফা বিদেশি ডিভোর্স প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হওয়ায় দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩(ঘ) ধারা মতে পারিবারিক আদালতে মামলা করে সরাসরি বাতিল ঘোষণা করানো যায়।
বিদেশি ডিভোর্সে কি কাবিননামার দেনমোহর মাফ হয়ে যায়?
না। বাংলাদেশের আইনে দেনমোহর একটি অলঙ্ঘনীয় আইনগত ঋণ। বিদেশি আদালত যাই বলুক না কেন, স্ত্রী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে মামলা করে সম্পূর্ণ দেনমোহর আদায় করতে পারেন।
বিদেশের ডিভোর্স সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করলে কী শাস্তি হতে পারে?
প্রথম বিয়ে বাংলাদেশে আইনগতভাবে শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়েটি অবৈধ হবে এবং দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
বিদেশি ডিভোর্স পেপার বাংলাদেশে সত্যায়ন করার নিয়ম কী?
বিদেশি বিচারিক নথি প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর, এরপর সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার উইং থেকে সত্যায়িত করাতে হয়।
আমেরিকা বা ইউকে আদালত সন্তানের কাস্টডি দিলে কি বাংলাদেশে তা মানা বাধ্যতামূলক?
না। সন্তান যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে, তবে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ অনুযায়ী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতই বাচ্চার সার্বিক কল্যাণের ভিত্তিতে কাস্টডি নির্ধারণের স্বাধীন এখতিয়ার রাখে।
প্রবাসী ব্যক্তি কি দেশে না এসে বিদেশি ডিভোর্স চ্যালেঞ্জ করতে পারেন?
হ্যাঁ। প্রবাসী স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়িত করে দেশে পারিবারিক আদালতের আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।
সিটি কর্পোরেশন বা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ দেওয়া কেন বাধ্যতামূলক?
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। এই প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো মুসলিম তালাক বাংলাদেশে আইনসিদ্ধ হয় না।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০