বিদেশে থাকা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব দেশে ফারায়েজ বণ্টনের নিয়ম ২০২৬ — সাকসেশন সার্টিফিকেট ও প্রবেট

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে কর্মরত কোনো প্রবাসী বাংলাদেশী স্বজন মারা যাওয়ার পর তার বিদেশি ব্যাংকে থাকা কষ্টার্জিত টাকা, পেনশন ও সম্পত্তি দেশে আনতে জটিলতায় পড়েছেন? <strong>সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ এবং মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী জেলা জজ আদালত থেকে সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সত্যায়নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ বাংলাদেশে আনা সম্ভব।</strong> উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

বিদেশের কোনো ব্যাংক বা কর্মসংস্থান কর্তৃপক্ষ কোনো মৃত প্রবাসীর অর্থ কোনো ওয়ারিশের সাধারণ আবেদনে সরাসরি হস্তান্তর করে না:

  • আইনগত জটিলতা এড়ানো: আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিয়ম (Anti-Money Laundering Laws) অনুসারে ব্যাংক নিশ্চিত হতে চায় যে বাংলাদেশে থাকা সকল ওয়ারিশের আইনসম্মত স্বীকৃতি আছে।
  • আদালতের সার্টিফিকেট ছাড়া টাকা অবমুক্ত হয় না: মৃত ব্যক্তির বাংলাদেশের বা বিদেশের যেকোনো ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বীমা ও শেয়ার তোলার জন্য একমাত্র বৈধ আইনি নথি হলো আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate)।

উত্তরাধিকার আইনে সম্পদের ধরনের ওপর নির্ভর করে সঠিক আবেদন নির্বাচন করতে হয়:

আইনি প্রত্যয়ন প্রযোজ্য ক্ষেত্র আদালত
সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) ব্যাংক ব্যালেন্স, গ্র্যাচুইটি, শেয়ার, বন্ড ও অস্থাবর আর্থিক তহবিল উত্তোলনে যুগ্ম জেলা জজ আদালত / জেলা জজ আদালত
লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Letter of Administration) মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ফ্ল্যাট, বাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি বণ্টনে জেলা জজ আদালত
প্রবেট (Probate of Will) মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় কোনো উইল বা অসিয়ত রেখে গিয়ে থাকলে তা কার্যকর করতে জেলা জজ আদালত

সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হয়:

  1. আরজি দাখিল: মৃত ব্যক্তির সমস্ত ওয়ারিশদের নাম, বয়স, সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বর ও তহবিলের সুনির্দিষ্ট অংক উল্লেখ করে আরজি প্রস্তুত।
  2. কোর্ট ফি পরিশোধ: কোর্ট ফি অ্যাক্ট অনুযায়ী আর্থিক পরিমাণের ওপর নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ১% থেকে সর্বোচ্চ নির্ধারিত সিলিং পর্যন্ত) কোর্ট ফি প্রদান।
  3. পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও আপত্তি গ্রহণ: আদালত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেন যাতে কোনো গোপন ওয়ারিশ বা পাওনাদার থাকলে নির্দিষ্ট দিনে আপত্তি জানাতে পারেন।
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদান: বিজ্ঞ জজ আবেদনকারীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের অংশের অংক উল্লেখ করে সিলমোহরযুক্ত সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

মৃত ব্যক্তির সমস্ত দেনা-পাওনা ও কাফন-দাফনের খরচ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পূর্ণ বৈদেশিক তহবিল ইসলামি ফারায়েজ অনুসারে বণ্টিত হয়:

  • স্ত্রী পাবেন মোট অবশিষ্ট সম্পদের ১/৮ অংশ (সন্তান থাকলে)।
  • পিতা ও মাতা প্রত্যেকে পাবেন ১/৬ অংশ করে।
  • অবশিষ্ট সম্পূর্ণ অর্থ পুত্র ও কন্যা সন্তানের মধ্যে ২:১ অনুপাতে বণ্টিত হবে।

আদালতের সার্টিফিকেট পাওয়ার পর বিদেশের ব্যাংকে অর্থ ছাড়ের জন্য নিচের সরকারি অনুমোদন সম্পন্ন করতে হয়:

  • আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি ও সাকসেশন সার্টিফিকেট আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভেরিফিকেশন।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA, Consular Wing) আন্তর্জাতিক উইং থেকে লাল সিলমোহরে কাউন্টার অ্যাটেস্টেশন।
  • সংশ্লিষ্ট দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাস কর্তৃক কনস্যুলার অনুমোদন।

⚖️ প্রবাসীর বৈদেশিক সম্পদ ও সাকসেশন মামলায় নির্ভরতার প্রতীক

প্রবাসী স্বজনের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ যাতে বিদেশের ব্যাংকে আটকে নষ্ট না হয়, তা নিরাপদে দেশে আনার জন্য সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ