বিদেশে থাকা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব দেশে ফারায়েজ বণ্টনের নিয়ম ২০২৬ — সাকসেশন সার্টিফিকেট ও প্রবেট

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৫ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে কর্মরত কোনো প্রবাসী বাংলাদেশী স্বজন মারা যাওয়ার পর তার বিদেশি ব্যাংকে থাকা কষ্টার্জিত টাকা, পেনশন ও সম্পত্তি দেশে আনতে জটিলতায় পড়েছেন? <strong>সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ এবং মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী জেলা জজ আদালত থেকে সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সত্যায়নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ বাংলাদেশে আনা সম্ভব।</strong> উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · ভূমি ও উত্তরাধিকার আইনজীবী ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইনমুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ও ফারায়েজ আইন (হানাফি ফিকহ)
ছেলে ও মেয়ের অনুপাত২ : ১ (প্রত্যেক পুত্র ১ কন্যার দ্বিগুণ অংশ পাবে — সূরা নিসা ৪:১১)
স্ত্রীর ও স্বামীর অংশসন্তান থাকলে স্ত্রী ১/৮ অংশ (১২.৫%), স্বামী ১/৪ অংশ (২৫%)
মায়ের ও বাবার অংশসন্তান থাকলে মা ১/৬ অংশ (১৬.৬৭%) এবং বাবা ১/৬ অংশ
সরকারি খতিয়ান ও নামজারি পোর্টালland.gov.bd, eporcha.gov.bd ও dlrms.land.gov.bd
⚡ প্রবাসীর বৈদেশিক সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব উদ্ধারের ৫টি ধাপ
  • সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অফিসিয়াল ডেথ সার্টিফিকেট ও কনস্যুলার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করুন
  • ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন থেকে মূল ওয়ারিশান সনদ (Heirship Certificate) উত্তোলন করুন
  • মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ অনুযায়ী সাকসেশন মামলা দায়ের করুন
  • আদালত সব ওয়ারিশের ফারায়েজ অংশ নির্ধারণ করে ব্যাংক হিসাব ও তহবিলের সাকসেশন ডিক্রি প্রদান করবেন
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের প্রত্যয়ন নিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ বাংলাদেশে আনুন
📋 সূচিপত্র
  1. ১. বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও পেনশনের জন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট কেন অপরিহার্য?
  2. ২. সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) বনাম লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
  3. ৩. জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও কোর্ট ফি
  4. ৪. মুসলিম ফারায়েজ অনুসারে বিদেশি সম্পদের সুনির্দিষ্ট অংশ বণ্টন
  5. ৫. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে নথিপত্র বৈধকরণ (Apostille / Attestation)
  6. ৬. সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ উত্তরাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীর পরামর্শ

১. বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও পেনশনের জন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট কেন অপরিহার্য?

বিদেশের কোনো ব্যাংক বা কর্মসংস্থান কর্তৃপক্ষ কোনো মৃত প্রবাসীর অর্থ কোনো ওয়ারিশের সাধারণ আবেদনে সরাসরি হস্তান্তর করে না:

  • আইনগত জটিলতা এড়ানো: আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিয়ম (Anti-Money Laundering Laws) অনুসারে ব্যাংক নিশ্চিত হতে চায় যে বাংলাদেশে থাকা সকল ওয়ারিশের আইনসম্মত স্বীকৃতি আছে।
  • আদালতের সার্টিফিকেট ছাড়া টাকা অবমুক্ত হয় না: মৃত ব্যক্তির বাংলাদেশের বা বিদেশের যেকোনো ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বীমা ও শেয়ার তোলার জন্য একমাত্র বৈধ আইনি নথি হলো আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate)।

২. সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) বনাম লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

উত্তরাধিকার আইনে সম্পদের ধরনের ওপর নির্ভর করে সঠিক আবেদন নির্বাচন করতে হয়:

আইনি প্রত্যয়ন প্রযোজ্য ক্ষেত্র আদালত
সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate) ব্যাংক ব্যালেন্স, গ্র্যাচুইটি, শেয়ার, বন্ড ও অস্থাবর আর্থিক তহবিল উত্তোলনে যুগ্ম জেলা জজ আদালত / জেলা জজ আদালত
লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Letter of Administration) মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ফ্ল্যাট, বাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি বণ্টনে জেলা জজ আদালত
প্রবেট (Probate of Will) মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় কোনো উইল বা অসিয়ত রেখে গিয়ে থাকলে তা কার্যকর করতে জেলা জজ আদালত

৩. জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও কোর্ট ফি

সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হয়:

  1. আরজি দাখিল: মৃত ব্যক্তির সমস্ত ওয়ারিশদের নাম, বয়স, সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বর ও তহবিলের সুনির্দিষ্ট অংক উল্লেখ করে আরজি প্রস্তুত।
  2. কোর্ট ফি পরিশোধ: কোর্ট ফি অ্যাক্ট অনুযায়ী আর্থিক পরিমাণের ওপর নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ১% থেকে সর্বোচ্চ নির্ধারিত সিলিং পর্যন্ত) কোর্ট ফি প্রদান।
  3. পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও আপত্তি গ্রহণ: আদালত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেন যাতে কোনো গোপন ওয়ারিশ বা পাওনাদার থাকলে নির্দিষ্ট দিনে আপত্তি জানাতে পারেন।
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদান: বিজ্ঞ জজ আবেদনকারীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের অংশের অংক উল্লেখ করে সিলমোহরযুক্ত সার্টিফিকেট প্রদান করেন।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৪. মুসলিম ফারায়েজ অনুসারে বিদেশি সম্পদের সুনির্দিষ্ট অংশ বণ্টন

মৃত ব্যক্তির সমস্ত দেনা-পাওনা ও কাফন-দাফনের খরচ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পূর্ণ বৈদেশিক তহবিল ইসলামি ফারায়েজ অনুসারে বণ্টিত হয়:

  • স্ত্রী পাবেন মোট অবশিষ্ট সম্পদের ১/৮ অংশ (সন্তান থাকলে)।
  • পিতা ও মাতা প্রত্যেকে পাবেন ১/৬ অংশ করে।
  • অবশিষ্ট সম্পূর্ণ অর্থ পুত্র ও কন্যা সন্তানের মধ্যে ২:১ অনুপাতে বণ্টিত হবে।

৫. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে নথিপত্র বৈধকরণ (Apostille / Attestation)

আদালতের সার্টিফিকেট পাওয়ার পর বিদেশের ব্যাংকে অর্থ ছাড়ের জন্য নিচের সরকারি অনুমোদন সম্পন্ন করতে হয়:

  • আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি ও সাকসেশন সার্টিফিকেট আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভেরিফিকেশন।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA, Consular Wing) আন্তর্জাতিক উইং থেকে লাল সিলমোহরে কাউন্টার অ্যাটেস্টেশন।
  • সংশ্লিষ্ট দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাস কর্তৃক কনস্যুলার অনুমোদন।

৬. সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ উত্তরাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীর পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

প্রবাসীর বৈদেশিক সম্পদ ও সাকসেশন মামলায় নির্ভরতার প্রতীক

প্রবাসী স্বজনের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ যাতে বিদেশের ব্যাংকে আটকে নষ্ট না হয়, তা নিরাপদে দেশে আনার জন্য সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সাকসেশন মামলা করতে কতদিন সময় লাগে?

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির পর ৩০ দিন সময় দেওয়া হয় আপত্তির জন্য। কোনো পক্ষ আপত্তি না জানালে সাধারণত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

কোনো ওয়ারিশ বিদেশে থাকলে কি মামলায় বাধা আসবে?

না, বিদেশে থাকা ওয়ারিশ সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অন্যান্য ওয়ারিশদের অনুকূলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা অনাপত্তিপত্র পাঠালে কোনো সমস্যা হয় না।

বিদেশি ব্যাংক কি সরাসরি বাংলাদেশে টাকা পাঠায়?

হ্যাঁ, দূতাবাসের মাধ্যমে সাকসেশন সার্টিফিকেট যাচাইয়ের পর বিদেশি ব্যাংক সুইফট (SWIFT) ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ওয়ারিশদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে দেয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০