লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-07
<p>স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায় অথবা স্ত্রীর ভরণপোষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে? <strong>বাংলাদেশ পারিবারিক আদালত আইন অনুযায়ী বকেয়া দেনমোহর ও খোরপোশ আদায় স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য আইনগত অধিকার।</strong> আইনি সহায়তার জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দেয় তবে তিনি দেনমোহর পাবেন না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী ভুল ধারণা:
আইনগত বাস্তবতা: কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাক-ই-তাওফিজ (তালাক প্রদানের ক্ষমতা) দেওয়া থাকলে স্ত্রী তালাক গ্রহণ করলেও দেনমোহর সম্পূর্ণভাবে দাবিযোগ্য থাকে। শুধুমাত্র ‘খোলা’ (Khula) তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় দেনমোহর ত্যাগ করার লিখিত সম্মতি দেন, কেবল তখনই দেনমোহর মওকুফ হতে পারে। অন্যথায় দেনমোহর স্বামীর যেকোনো পরিস্থিতিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ।
পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ (সংশোধিত) অনুসারে মামলা দায়েরের ধাপসমূহ:
আদালত স্বামীর সামাজিক মর্যাদা ও প্রকৃত আয়ের ওপর ভিত্তি করে মাসিক খোরপোশ ধার্য করেন:
| ভরণপোষণের খাত | কার জন্য প্রযোজ্য | সময়কাল |
|---|---|---|
| ইদ্দতকালীন খোরপোশ | তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী | তালাক কার্যকরের ৯০ দিন পর্যন্ত খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা |
| গর্ভকালীন খোরপোশ | গর্ভবতী স্ত্রী | সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও ভরণপোষণ |
| সন্তানের খোরপোশ | পুত্র ও কন্যা সন্তান | পুত্রের সাবালক হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত পিতা বহন করতে বাধ্য |
পিতা ও মাতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলেও সন্তানের প্রতি পিতার অর্থনৈতিক দায়িত্ব কোনোভাবেই শেষ হয় না:
পারিবারিক আদালতে ডিক্রি হওয়ার পরও যদি স্বামী টাকা পরিশোধে টালবাহানা করে, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতের ডিক্রি জারির মামলা (Execution Case) করবেন:
আপনার হক থেকে আপনাকে বঞ্চিত হতে দেবেন না। পারিবারিক আদালতের সঠিক ড্রাফটিং ও শুনানির মাধ্যমে দ্রুত বকেয়া দেনমোহর ও মাসিক খোরপোশ আদায় সম্ভব।