বিবাহ বিচ্ছেদে স্ত্রীর খোরপোশ ও দেনমোহর আদায় ২০২৬ — পারিবারিক আদালত ও আইনি অধিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-07

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায় অথবা স্ত্রীর ভরণপোষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে? <strong>বাংলাদেশ পারিবারিক আদালত আইন অনুযায়ী বকেয়া দেনমোহর ও খোরপোশ আদায় স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য আইনগত অধিকার।</strong> আইনি সহায়তার জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দেয় তবে তিনি দেনমোহর পাবেন না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী ভুল ধারণা:

আইনগত বাস্তবতা: কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাক-ই-তাওফিজ (তালাক প্রদানের ক্ষমতা) দেওয়া থাকলে স্ত্রী তালাক গ্রহণ করলেও দেনমোহর সম্পূর্ণভাবে দাবিযোগ্য থাকে। শুধুমাত্র ‘খোলা’ (Khula) তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় দেনমোহর ত্যাগ করার লিখিত সম্মতি দেন, কেবল তখনই দেনমোহর মওকুফ হতে পারে। অন্যথায় দেনমোহর স্বামীর যেকোনো পরিস্থিতিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ।

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ (সংশোধিত) অনুসারে মামলা দায়েরের ধাপসমূহ:

  1. এখতিয়ারভুক্ত আদালত: স্ত্রী বর্তমানে যেখানে বসবাস করছেন সেই এলাকার বিজ্ঞ সহকারী জজ / পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।
  2. কোর্ট ফি: পারিবারিক মামলায় কোর্ট ফি নামমাত্র মাত্র ৫০ টাকা। দরিদ্র বা সহায়হীন নারীদের জন্য সরকারি লিগ্যাল এইড সুবিধাও রয়েছে।
  3. আরজির সাথে প্রমাণ দাখিল: মূল নিকাহনামা/কাবিননামা, তালাকের নোটিশ (যদি থাকে), সন্তানের জন্মসনদ ও স্বামীর আয়ের প্রমাণ।
  4. আপোস শুনানি (Pre-trial conciliation): আদালত সমন জারির পর প্রথমে উভয়পক্ষকে ডেকে আপোসের চেষ্টা করেন।
  5. চূড়ান্ত বিচার ও ডিক্রি: আপোস ব্যর্থ হলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দেনমোহর ও খোরপোশের ডিক্রি প্রদান করেন।

আদালত স্বামীর সামাজিক মর্যাদা ও প্রকৃত আয়ের ওপর ভিত্তি করে মাসিক খোরপোশ ধার্য করেন:

ভরণপোষণের খাত কার জন্য প্রযোজ্য সময়কাল
ইদ্দতকালীন খোরপোশ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তালাক কার্যকরের ৯০ দিন পর্যন্ত খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা
গর্ভকালীন খোরপোশ গর্ভবতী স্ত্রী সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও ভরণপোষণ
সন্তানের খোরপোশ পুত্র ও কন্যা সন্তান পুত্রের সাবালক হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত পিতা বহন করতে বাধ্য

পিতা ও মাতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলেও সন্তানের প্রতি পিতার অর্থনৈতিক দায়িত্ব কোনোভাবেই শেষ হয় না:

  • মুসলিম পারিবারিক আইন অনুসারে মা সন্তানের জিম্মাদার (Hizanat) হলেও পিতা সার্বক্ষণিক অভিভাবক (Natural Guardian)।
  • পিতার আর্থিক সচ্ছলতা অনুযায়ী সন্তানের শিক্ষা, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসার যুক্তিসঙ্গত খরচ আদালতে নির্ধারিত হয়।
  • পিতা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পিতার বেতন কর্তন বা ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ হতে পারে।

পারিবারিক আদালতে ডিক্রি হওয়ার পরও যদি স্বামী টাকা পরিশোধে টালবাহানা করে, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতের ডিক্রি জারির মামলা (Execution Case) করবেন:

আইনি কঠোর পদক্ষেপসমূহ:

  • আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করবেন।
  • টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্বামীকে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে (Civil Imprisonment) আটক রাখা যায়।
  • স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামে বিক্রি করে দেনমোহরের অর্থ আদায় করা হয়।

⚖️ দেনমোহর ও পারিবারিক অধিকার রক্ষায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

আপনার হক থেকে আপনাকে বঞ্চিত হতে দেবেন না। পারিবারিক আদালতের সঠিক ড্রাফটিং ও শুনানির মাধ্যমে দ্রুত বকেয়া দেনমোহর ও মাসিক খোরপোশ আদায় সম্ভব।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ