লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১০ মিনিট পড়ুন
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেটে অসাবধানতাবশত ভুল নম্বরে টাকা চলে যাওয়া কিংবা ওটিপি ও লটারির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এখন প্রতিদিনের ঘটনা। কাস্টমার কেয়ারে দৌড়াদৌড়ি করে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। বিজ্ঞ আদালতের আইনি আদেশের মাধ্যমে কীভাবে অভিযুক্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করিয়ে টাকা উদ্ধার করবেন, তার উপায় বাতলে দিয়েছেন প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল | pcc.police.gov.bd (বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল) |
| সরকারি চালান ফি | ৫০০ টাকা (সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি চালান কোড: ১-২২০১-০০০১-২৬৮১ বা অনলাইন পেমেন্ট) |
| প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | পাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি (মেয়াদ ন্যূনতম ৩ মাস) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) |
| ভেরিফিকেশন ও ডেলিভারি সময় | সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস (থানা ভেরিফিকেশন ও SP/DC কাউন্টার সাইনসহ) |
| অনলাইন স্ট্যাটাস চেক | pcc.police.gov.bd পোর্টালে পাসপোর্ট বা রেফারেন্স নম্বর দিয়ে চেক |
আইনের চোখে ভুল করে অন্য নম্বরে টাকা চলে যাওয়া এবং ইচ্ছাকৃত প্রতারণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কেউ যদি আপনার ভুলবশত পাঠানো টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে, তবে তা দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারা মতে ‘অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি আত্মসাৎ’ (Dishonest Misappropriation of Property) হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর যদি আপনাকে ফোন করে ওটিপি চেয়ে বা নকল কর্মকর্তা সেজে টাকা হাতিয়ে নেয়, তবে তা সাইবার প্রতারণা ও দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার মারাত্মক আমলযোগ্য অপরাধ।
ঘটনা ঘটার সাথে সাথে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এমএফএস হেল্পলাইনে (বিকাশ ১৬২৪৭ বা নগদ ১৬১৬৭) কল করে লেনদেন আইডি (TrxID), সময় ও প্রেরক-প্রাপক নম্বর জানিয়ে অভিযোগ রেজিস্টার করুন। কাস্টমার কেয়ার সাময়িকভাবে প্রাপকের ওয়ালেটের আউটগোয়িং ট্রানজেকশন হোল্ড করে রাখতে পারে, তবে আদালতের আদেশ ছাড়া তারা কাউকে টাকা ফেরত দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না।
দেরি না করে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি বিস্তারিত জিডি করুন। জিডিতে স্পষ্ট উল্লেখ করবেন:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৪ ধারায় আবেদন পেশ করতে হবে। আদালত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট এমএফএস কোম্পানিকে প্রতারক বা ভুল প্রাপকের অ্যাকাউন্টটি অবিলম্বে ‘ফ্রিজ’ বা জব্দ রাখার সরকারি নির্দেশ দেন, যাতে সে কোনো ক্যাশ-আউট বা কেনাকাটা করতে না পারে।
যদি প্রাপক টাকা ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বা ফোন বন্ধ করে পালিয়ে বেড়ায়, তবে বিজ্ঞ আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে পেনাল কোডের ৪০৩/৪২০ ধারায় সরাসরি সি.আর মামলা দায়ের করতে হয়। আদালত জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ট্র্যাকিং করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আসামি আদালতে হাজির হয়ে টাকা ফেরত দিলে অথবা তদন্ত শেষে টাকা জব্দ থাকা অবস্থায় আদালতের ‘জিম্মানামা’ (Custody / Bond Order) আদেশের মাধ্যমে ব্যাংক বা বিকাশ কর্তৃপক্ষ প্রকৃত মালিকের অ্যাকাউন্টে টাকা রিফান্ড ট্রান্সফার করে দেয়।