লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10
<p>কোনো কারণ দর্শানো বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ কোম্পানি বা কারখানা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, অথবা বছরের পর বছর জমানো গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির টাকা আটকে রেখেছে? <strong>বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী বিজ্ঞ শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করে বকেয়া সম্পূর্ণ বেতন ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা শ্রমিকের সংবিধিবদ্ধ অধিকার।</strong> শ্রম আইন পরামর্শের জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (Bangladesh Labour Act, 2006)-এ কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতির ক্ষেত্রে তিনটি ভিন্ন আইনি ধারা রয়েছে:
| অপসারণের ধরন | প্রযোজ্য ধারা | শর্ত ও ক্ষতিপূরণ |
|---|---|---|
| টার্মিনেশন (Termination by Employer) | ২৬ ধারা | বিনা কারণে ছাঁটাই করতে হলে ১২০ দিনের নোটিশ বা সমপরিমাণ মূল বেতন + প্রতি বছরের চাকরির জন্য ৩০ দিনের ক্ষতিপূরণ |
| ডিসচার্জ (Discharge) | ২২ ধারা | শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টের ভিত্তিতে অব্যাহতি; ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য |
| বরখাস্ত (Dismissal) | ২৩ ও ২৪ ধারা | গুরুতর অসদাচরণের (Misconduct) দায়ে; তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক |
শ্রম আদালতে যাওয়ার আগে শ্রম আইনের ৩৩ ধারা অনুসারে গ্রিভেন্স নোটিশ (Grievance Notice) পাঠানো আইনত বাধ্যতামূলক:
চাকরিচ্যুতির কারণ ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নিয়োগকারী মালিক বরাবর লিখিত আপত্তি পাঠাতে হবে। মালিক নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন। মালিক যদি জবাব না দেন বা প্রত্যাখ্যাত করেন, তবে সেই ৩০ দিন পার হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা ফাইল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আদালত মামলা গ্রহণ করতে পারেন না।
শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে নিচের আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হয়:
চাকরি যেভাবেই শেষ হোক না কেন, কর্মীর নিম্নলিখিত পাওনা আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ:
শ্রম আদালত শুনানি শেষে কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা সম্পূর্ণ বকেয়া আর্থিক পাওনা পরিশোধের রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে (Labour Appellate Tribunal) ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে।
কোম্পানির ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করবেন না। ৩৩ ধারার গ্রিভেন্স নোটিশ ও শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করে আপনার ন্যায্য পাওনা আদায়ে আজই পরামর্শ নিন।