লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13
ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত লেনদেনে চেক বাউন্স হওয়ার পর সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বড় যে বিভ্রান্তিতে পড়েন তা হলো—মামলাটি কি এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় হবে, নাকি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা হবে? এই একটি ভুল ধারায় মামলা করার কারণে অনেক পাওনাদার বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও নিজের টাকা ফেরত পান না। বাস্তব কেস স্টাডি ও আদালতের সঠিক পথ বাতলে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. Shah Alam</a>।
কোর্টে আসা একজন ব্যবসায়ীর ঘটনা উল্লেখ করা যায়। তিনি এক সহযোগীকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়ে সিকিউরিটি চেক নিয়েছিলেন। চেক ডিজঅনার হওয়ার পর স্থানীয় এক মধ্যস্থতাকারীর পরামর্শে তিনি ৩০ দিনের লিগ্যাল নোটিশ না পাঠিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা ঠুকে দেন। ৩ বছর মামলা চলার পর আসামি পক্ষ আদালতে প্রমাণ করে যে—এটি চেক লেনদেন ছিল, কোনো প্রতারণা নয়। আদালত মামলাটি খালাস করে দেন। ততদিনে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার নির্ধারিত সময়ও তামাদি হয়ে গেছে। এক ভুলের কারণে ব্যবসায়ীটি নিঃস্ব হওয়ার মুখে পড়েন।
আইনের চোখে দুটি ধারার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা:
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্টের সবচেয়ে কঠোর নিয়ম হলো সময়সীমা (Limitation Period)। ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনারের স্লিপ (Dishonour Memo) পাওয়ার তারিখ থেকে ঠিক ৩০ দিনের মধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত লিগ্যাল নোটিশ জারি করতে হবে। ৩১তম দিনে নোটিশ পাঠালে আদালত সেই মামলা সরাসরি খারিজ করে দিতে বাধ্য।
যদি ভুলবশত ৩০ দিনের নোটিশের সময় পার হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত হবেন না। বিকল্প দুটি কার্যকর রাস্তা রয়েছে:
১৩৮ ধারার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—বিচারিক আদালত আসামিকে সাজা দিলে, আসামি যদি দায়রা জজ বা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে চায়, তবে আপিল দায়েরের পূর্বশর্ত হিসেবে চেকে উল্লেখিত মোট টাকার ৫০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগার বা চালানের মাধ্যমে আদালতে জমা দিতেই হয়। এতে পাওনাদারের টাকার নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
মামলা ফাইল করার সময় ফাইলে প্রস্তুত রাখবেন: