চেক ডিজনার মামলা ২০২৬: ১৩৮ ধারায় পাওনা টাকা আদায় ও আইনি নোটিশ পাঠানোর সম্পূর্ণ নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-24

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত ধারের টাকা পরিশোধের জন্য চেক দেওয়া অত্যন্ত প্রচলিত মাধ্যম। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যাক ড্রাফট বা পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে চেক ডিজনার (Cheque Dishonour/Bounce) হলে টাকা আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (NI Act, 1881)-এর ১৩৮ ধারায় মামলা করে শতভাগ টাকা আদায় ও অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করা যায়। চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত যেকোনো আইনি সহায়তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পরামর্শ নিন।

চেক ডিজনার (Cheque Dishonour) কী এবং কেন হয়?

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টাকা পরিশোধের জন্য চেকের পাতা স্বাক্ষর করে দিলে এবং গ্রাহক তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ব্যাংক টাকা না দিয়ে ফেরত দিলে তাকে **চেক ডিজনার** বা চেক বাউন্স বলে।

ডিজনার হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:

  • অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা (Insufficient Funds)।
  • হিসাবধারী কর্তৃক পেমেন্ট বন্ধ করার অনুরোধ (Stop Payment Instruction)।
  • স্বাক্ষরের অমিল (Signature Mismatch)।
  • অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা ফ্রিজ থাকা (Account Closed/Frozen)।

ব্যাংক যখন চেক ফেরত দেয়, তখন মেমোতে (Return Memo) ডিজনারের স্পষ্ট কারণ উল্লেখ থাকে। এটি মামলার প্রথম আইনি ভিত্তি।

১৩৮ ধারায় মামলার প্রাথমিক শর্ত ও সময়সীমা (Timeline)

এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সামান্য একদিনের দেরি হলেও মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে।

আইনি সময়সূচি (Strict Timeline):

  1. চেক ব্যাংকে উপস্থাপন: চেকের মেয়াদের (ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস) মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
  2. আইনি নোটিশ জারির মেয়াদ: চেক ডিজনার হওয়ার তারিখ থেকে **৩০ দিনের মধ্যে** দেনাদারকে লিখিত আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে।
  3. টাকা পরিশোধের সময়: নোটিশ পাওয়ার পর দেনাদারকে টাকা পরিশোধের জন্য **৩০ দিন সময়** দিতে হবে।
  4. মামলা করার মেয়াদ: ৩০ দিন পার হওয়ার পর পরবর্তী **৩০ দিনের মধ্যে** আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

সঠিক সময়সীমা মেনে চলা ও আইনি নোটিশ জারির জন্য একজন অভিজ্ঞ কর্পোরেট ও অর্থ আইনজীবী নিয়োগ করা জরুরি।

আইনি নোটিশ (Legal Notice) পাঠানোর সঠিক নিয়ম ও ফরম্যাট

১৩৮ ধারায় মামলা করার পূর্বশর্ত হলো দেনাদারকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে (Registered Post with AD) আইনি নোটিশ বা 'লিগ্যাল নোটিশ' পাঠানো।

আইনি নোটিশে যা থাকতে হবে:

  • চেকের বিবরণ (নম্বর, তারিখ, ব্যাংক ও ব্রাঞ্চের নাম)।
  • পাওনা টাকার পরিমাণ ও দেনার কারণ।
  • ব্যাংক কর্তৃক ডিজনার মেমোর তারিখ ও কারণ।
  • নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের আহ্বান।
  • নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলে আদালতে ১৩৮ ধারায় মামলা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও নোটিশ জারি করা যায় যদি দেনাদার ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকে বা নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া

নোটিশের ৩০ দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়।

মামলার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:

  • মূল চেক (Original Cheque) এবং ডিজনার মেমো।
  • রেজিস্টার্ড লিগ্যাল নোটিশের কপি এবং ডাকপ্রাপ্তির রসিদ (AD Receipt)।
  • পাওনা টাকা সংক্রান্ত চুক্তিপত্র বা লেনদেনের প্রমাণ (যদি থাকে)।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবির কপি।

চেক ডিজনার মামলার শাস্তি, জরিমানা ও টাকা আদায়ের নিয়ম

১৩৮ ধারায় আদালত মামলা শেষে আসামীর বিরুদ্ধে কঠোর সাজা ও আর্থিক জরিমানার নির্দেশ প্রদান করে থাকেন।

শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ:

  • কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ১ (এক) বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড।
  • অর্থদণ্ড: চেকের সমপরিমাণ বা **চেকের উল্লিখিত টাকার ৩ (তিন) গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড**।
  • টাকা আদায়: আদায়কৃত অর্থদণ্ড থেকে আদালত সরাসরি পাওনাদারকে চেকের সমপরিমাণ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়।

চেক ডিজনার মামলায় আসামীর জামিন ও আইনি প্রতিরক্ষা

আসামীর সমন বা ওয়ারেন্ট জারি হলে তাকে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে হয়। চেক ডিজনার মামলা জামিনযোগ্য (Bailable)।

আসামীর আইনি প্রতিরক্ষা (Defense Points):

  • চেকটি সিকিউরিটি (Security Cheque) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, কোনো দেনা শোধের জন্য নয়।
  • আইনি নোটিশ নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পৌঁছায়নি বা জারি হয়নি।
  • চেকের স্বাক্ষর জাল বা ব্ল্যাঙ্ক চেক চুরি করে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে দক্ষ ফৌজদারি আইনজীবীর মাধ্যমে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

চেক লেনদেনে সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলার বিশেষ টিপস

টাকা লেনদেনের সময় যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য কিছু সাধারণ টিপস মেনে চলুন:

  • যেকোনো চেক গ্রহণের সময় স্বাক্ষরের পাশাপাশি তারিখ ও টাকার পরিমাণ কথায় ও অংকে সঠিকভাবে লেখান।
  • চেক গ্রহণের সপক্ষে একটি রসিদ বা স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তিপত্র বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট রাখুন।
  • ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া বা নেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।

অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী — ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও হাইকোর্টে চেক ডিজনার মামলায় পাওনা টাকা আদায়ে দীর্ঘদিনের সফলতা অর্জন করেছেন। আপনার পাওনা টাকা আদায়ে সরাসরি আইনি পরামর্শ নিন।

⚖️ পাওনা টাকা আদায়ের আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ: আপনার ডিজনার হওয়া চেকের টাকা দ্রুত আদায়ে সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সরাসরি আইনি সহায়তা পান। সরাসরি কথা বলতে যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।