১৩৮ এনআই অ্যাক্ট চেক ডিজঅনার মামলায় আপোষ ও সোলেহনামা করার সঠিক নিয়ম ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-11-02 · ১৩ মিনিট পড়ার সময়

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্পোরেট অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি বিচারাধীন মামলা হলো **নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারা (NI Act Section 138)** বা চেক ডিজঅনারের মামলা। এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকের মূল্যের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান থাকায় হাজার হাজার ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী চরম মানসিক ও আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। ব্যবসায়িক মন্দা, পণ্যের ঘাটতি বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে চেক বাউন্স হলেও অনেকেই জানেন না যে—**১৩৮ ধারার অপরাধ কোনো অজামিনযোগ্য খুনের মামলা নয়, এটি একটি আপোষযোগ্য অর্থনৈতিক বিরোধ**। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বহু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য কাউকে জেলে পাঠানো নয়, বরং পাওনাদারের পাওনা আদায় নিশ্চিত করা। ফলে ফৌজদারি কার্যবিধির **৩৪৫ ধারা** অনুযায়ী মামলার যেকোনো স্তরে—মামলা দায়েরের পূর্বে, চার্জ গঠনের সময়, বিচার চলাকালে এমনকি রায়ের পর আপিল পর্যায়েও—একটি বিধিবদ্ধ **আপোষনামা বা সোলেহনামা (Solenama)** দাখিল করে মামলা থেকে সম্পূর্ণ **আইনসম্মত খালাস (Acquittal)** পাওয়া যায়। এই গাইডে সোলেহনামার খসড়া প্রণয়ন, কিস্তিতে টাকা পরিশোধের শর্ত, মূল চেক আদালত থেকে ফেরত নেওয়া এবং সাজা মওকুফের যাবতীয় নিয়ম বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।

: · সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট জামিন আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ এক নজরে
📋 সূচিপত্র
  1. ১. আইনের দৃষ্টিতে চেক ডিজঅনার মামলা কেন আপোষযোগ্য (Compoundable)?
  2. ২. আপোষের বিভিন্ন পর্যায়: নোটিশ পর্যায়, বিচার চলাকালীন ও রায়ের পর আপিলে
  3. ৩. একটি নিখুঁত সোলেহনামা বা আপোষনামা দলিলের মূল শর্তসমূহ
  4. ৪. আদালতে যৌথ দরখাস্ত দাখিল ও বেকসুর খালাস (Khallas) হাসিল
  5. ৫. রায়ের পর সোলেহনামা: আপিলে ৫০% টাকা জমা মওকুফের আইনি কৌশল
  6. ৬. তুলনামূলক টেবিল: আদালতে মামলা লড়াই বনাম সোলেহনামায় আপোষের সুবিধা
  7. ৭. আদালত থেকে মূল চেক ও ডিজঅনার মেমো ফেরত নেওয়ার সঠিক নিয়ম
  8. ৮. জামানত বা সিকিউরিটি চেকের অপব্যবহার ও ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়
  9. ৯. প্রবাসীদের জন্য দেশে না এসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মারফত আপোষ
  10. ১০. বাস্তব আদালতের কেস স্টাডি: ঢাকায় ১.২ কোটি টাকার চেক মামলা সফল আপোষ
  11. ১১. সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

১. আইনের দৃষ্টিতে চেক ডিজঅনার মামলা কেন আপোষযোগ্য (Compoundable)?

চেক ডিজঅনারের মামলা ফৌজদারি আদালতে বিচার হলেও এটি খুন, ডাকাতি বা চুরির মতো সমাজবিরোধী অপরাধ নয়। এটি একটি সংবিধিবদ্ধ বাণিজ্যিক ব্যর্থতা বা Regulatory Economic Offence।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—চেক প্রদানকারী যদি পাওনাদারের দাবি মিটিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে, তবে রাষ্ট্র কাউকে অহেতুক জেলহাজতে রাখতে আগ্রহী নয়। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনার মামলা আইনত আপোষযোগ্য। বাদী ও আসামী একমত হলে আদালত মামলাটি সরাসরি নিষ্পত্তির আদেশ দিয়ে আসামীকে খালাস দিতে আইনত বাধ্য।

২. আপোষের বিভিন্ন পর্যায়: নোটিশ পর্যায়, বিচার চলাকালীন ও রায়ের পর আপিলে

একটি চেক মামলার যেকোনো পর্যায়েই উভয় পক্ষ আপোষে পৌঁছাতে পারে:

  • লিগ্যাল নোটিশ বা সমন পর্যায়: আইনজীবী কর্তৃক ৩০ দিনের লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরপরই বা আদালতে সমন ইস্যু হওয়ার পর বাদীর সাথে বসে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম।
  • বিচারিক চলাকালীন (যুগ্ম দায়রা জজ আদালত): আসামী জামিন নেওয়ার পর যেকোনো তারিখে উভয় পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে স্বাক্ষরিত সোলেহনামা দাখিল করে তাৎক্ষণিক খালাস পাওয়া যায়।
  • রায়ের পর আপিল পর্যায়ে: ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালত যদি ১ বছরের সাজা ও জরিমানার রায় দিয়েও ফেলে, তবে দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করে সোলেহনামার ভিত্তিতে সাজা বাতিল ও খালাস লাভ করা যায়।

৩. একটি নিখুঁত সোলেহনামা বা আপোষনামা দলিলের মূল শর্তসমূহ

একটি অপেশাদার আপোষনামা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সোলেহনামা ড্রাফট করার সময় নিচের শর্তগুলো অবশ্যই রাখতে হবে:

  • মামলার পূর্ণ বিবরণ: সি.আর. বা দায়রা মামলার নম্বর, আদালতের নাম, চেকের নম্বর, ব্যাংকের নাম ও চেকের মূল টাকার অংক নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
  • দাবি নিষ্পত্তির ঘোষণা: বাদী সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করবেন যে তিনি আপোষকৃত অংক (যেমন ১ কোটির বিপরীতে সমঝোতামূলক ৭৫ লক্ষ টাকা) পে-অর্ডারের মাধ্যমে বুঝে পেয়েছেন এবং তার আর কোনো পাওনা বা দাবি নেই।
  • ভবিষ্যতে মামলা না করার অঙ্গীকার: বাদী অঙ্গীকার করবেন যে তিনি উক্ত চেকের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো দেওয়ানি অর্থ মামলা বা অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করবেন না।
  • আদালতে হাজির হয়ে প্রত্যাহারের শর্ত: বাদী স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সোলেহনামায় স্বাক্ষর করবেন এবং মামলাটি খারিজ বা খালাস করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন।

৪. আদালতে যৌথ দরখাস্ত দাখিল ও বেকসুর খালাস (Khallas) হাসিল

আদালতের মাধ্যমে আপোষ চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো হলো:

  1. ৩৪৫ ধারায় যৌথ আবেদন: উভয় পক্ষের আইনজীবীর যৌথ স্বাক্ষরে সোলেহনামা ও পে-অর্ডারের কপিসহ আদালতে আবেদন দাখিল করতে হয়।
  2. উভয় পক্ষের জবানবন্দি: বিচারক বাদী ও আসামীকে কাঠগড়ায় ডেকে জিজ্ঞাসা করেন তারা কোনো চাপ, ভয়ভীতি বা প্ররোচনা ছাড়াই স্বেচ্ছায় আপোষ করছেন কি না।
  3. আদালতের আদেশ বইতে অন্তর্ভুক্তি: বিচারক বাদীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন এবং পাওনা পরিশোধের তথ্য নথিভুক্ত করেন।
  4. খালাসের আদেশ (Acquittal): ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫(৬) ধারা মতে অপরাধটি আপোষ হয়ে যাওয়ায় আদালত আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং জামিন বন্ডের দায়িত্ব থেকে জিম্মাদারকে অব্যাহতি দেন।

৫. রায়ের পর সোলেহনামা: আপিলে ৫০% টাকা জমা মওকুফের আইনি কৌশল

১৩৮ক ধারার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, বিচারিক আদালত সাজা দিলে তার বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিল করতে হলে চেকের মূল্যের কমপক্ষে ৫০% টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়, যা অনেকের পক্ষে তাৎক্ষণিক জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কিন্তু রায়ের পর যদি উভয় পক্ষ আপোষে পৌঁছে যায়, তবে আপিল আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে দরখাস্ত দেওয়া যায় যে—'যেহেতু বিরোধটি আপোষনামার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেহেতু ৫০% টাকা জমা দেওয়ার কোনো আইনি আবশ্যকতা নেই'। আপিল আদালত সোলেহনামা গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের সাজার রায় বাতিল ঘোষণা করেন এবং আসামীকে বেকসুর খালাস দেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৬. তুলনামূলক টেবিল: আদালতে মামলা লড়াই বনাম সোলেহনামায় আপোষের সুবিধা

মামলা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে আপোষের সুবিধা কতটা ফলপ্রসূ তা নিম্নের টেবিলে স্পষ্ট:

বিবেচ্য বিষয়আদালতে মামলা চালিয়ে যাওয়াসোলেহনামা করে আপোষ করা
সময়সীমা৩ থেকে ৫ বছর বা তদূর্ধ্বমাত্র ২ থেকে ৪ সপ্তাহ
আর্থিক ঝুঁকিচেকের দ্বিগুণ জরিমানা ও আইনি খরচপারস্পরিক সমঝোতায় ডিসকাউন্টে নিষ্পত্তি
জেলে যাওয়ার ঝুঁকি১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ভয়কোনো জেলহাজতের ঝুঁকি নেই; সসম্মানে খালাস
আপিলে ৫০% জমাবাধ্যতামূলক ৫০% নগদ ডিপোজিটআদালত কর্তৃক মওকুফ ও সরাসরি রায় বাতিল
মূল চেক উদ্ধারবছরের পর বছর আদালতের নথিতে আটকে থাকেমূল চেক তুলে এনে ছিঁড়ে ফেলা বা সিল মারা যায়

৭. আদালত থেকে মূল চেক ও ডিজঅনার মেমো ফেরত নেওয়ার সঠিক নিয়ম

টাকা পরিশোধ করে আপোষ করার পরও একটি মারাত্মক ভুল অনেকে করেন—তারা আদালত থেকে মূল চেকটি ফেরত নেন না। আদালতের রেকর্ড রুমে পুরোনো চেক থেকে গেলে ভবিষ্যতে কোনো অসাধু ব্যক্তি তা অপব্যবহার করতে পারে।

খালাসের আদেশের দিনই বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারায় জিম্মার দরখাস্ত (Jimma Petition) দিতে হয়। আদালত মূল চেক ও ডিজঅনার মেমোটি আসামী বা আইনজীবীর জিম্মায় প্রদানের আদেশ দেন। চেকটি পাওয়ার পর তার ওপর লাল কালিতে 'CANCELLED & SETTLED' লিখে কেটে দেওয়া নিরাপদ।

৮. জামানত বা সিকিউরিটি চেকের অপব্যবহার ও ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়

ব্যবসায়িক লেনদেন, ফ্ল্যাট কেনা বা ব্যক্তিগত সুদে টাকা নেওয়ার সময় অনেকেই ফাঁকা চেক (Blank Security Cheque) জমা রাখেন। সম্পূর্ণ টাকা শোধ করার পরও অসৎ পাওনাদাররা চেকে কোটি টাকার অংক বসিয়ে মামলা ঠুকে দেয়।

এক্ষেত্রে আপোষ করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে:

  • পাওনাদারের কাছে আপনার স্বাক্ষরিত যতগুলো চেক বা স্ট্যাম্প জমা আছে, সবগুলোর সিরিয়াল নম্বর সোলেহনামায় উল্লেখ করতে হবে।
  • সোলেহনামায় স্পষ্ট লিখতে হবে—উক্ত নম্বরের সকল চেক অকার্যকর ও বাতিল বলে গণ্য হলো এবং পাওনাদার এগুলো কোথাও ব্যবহার করলে তা প্রতারণা ও আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে।
  • একটি কাউন্টার ইনডেমনিটি বন্ড নেওয়া উচিত, যাতে পাওনাদার কোনো অতিরিক্ত চেক প্রকাশ পেলে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে।

৯. প্রবাসীদের জন্য দেশে না এসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মারফত আপোষ

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা অনেক সময় জানতে পারেন যে দেশে ব্যবসায়িক অংশীদার তাদের বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় মামলা করে ওয়ারেন্ট বের করিয়ে রেখেছে। দেশে এসে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে অনেকেই পালিয়ে বেড়ান।

প্রবাসীদের দেশে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে পাঠালে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাদীপক্ষের সাথে বসে সমঝোতা করতে পারেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে সমঝোতার টাকা পরিশোধ করে আদালতে যৌথ সোলেহনামা দাখিল করিয়ে প্রবাসীকে সম্পূর্ণ খালাস করিয়ে নেওয়া এবং ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করানো সম্পূর্ণ সম্ভব।

১০. বাস্তব আদালতের কেস স্টাডি: ঢাকায় ১.২ কোটি টাকার চেক মামলা সফল আপোষ

মতিঝিলের এক বৃহৎ ইলেকট্রনিক্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে না পেরে পাইকারি ডিলারের তিনটি চেকে ১.২ কোটি টাকা বাউন্স করে। ডিলার ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনটি পৃথক সি.আর. মামলা দায়ের করে ওয়ারেন্ট জারি করায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যেকোনো সময় গ্রেফতারের ঝুঁকিতে পড়েন।

কোম্পানি আমাদের আইনি চেম্বারের শরণাপন্ন হলে আমরা দ্রুত নিম্নোক্ত কৌশল বাস্তবায়ন করি:

  1. প্রথমে দায়রা আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে গ্রেফতার ঠেকানো হয়।
  2. উভয় পক্ষকে নিয়ে চেম্বারে কমার্শিয়াল মিডিয়েশন বা সমঝোতা বৈঠক আহ্বান করা হয় এবং ব্যাংকিং সংকটের বাস্তব প্রমাণাদি তুলে ধরা হয়।
  3. দীর্ঘ আলোচনার পর ১.২ কোটি টাকার বিপরীতে ৯০ লক্ষ টাকায় এককালীন আপোষ চূড়ান্ত হয়, যা তিন কিস্তিতে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।
  4. একটি নিখুঁত সোলেহনামা দলিল প্রস্তুত করে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ও পে-অর্ডারের বিবরণ সংযুক্ত করা হয়।
  5. সর্বশেষ কিস্তির পে-অর্ডার পরিশোধের দিন বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় যৌথ আবেদন দাখিল করা হয়।
  6. আদালত সোলেহনামা গ্রহণ করে আসামিকে তিনটি মামলা থেকেই পূর্ণ বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং আদালতের নথি থেকে মূল চেক তিনটি তুলে নিয়ে আমাদের আইনজীবীর উপস্থিতিতে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১৩৮ এনআই অ্যাক্ট চেক ডিজঅনার মামলা কি আদালতের বাইরে আপোষ করা সম্ভব?

হ্যাঁ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনার মামলা আইনগতভাবে আপোষযোগ্য। উভয় পক্ষ সোলেহনামা দলিলের মাধ্যমে যেকোনো পর্যায়ে মামলা আপোষ ও প্রত্যাহার করতে পারে।

চেক মামলায় আপোষ হলে কি আসামী সম্পূর্ণ খালাস পায়?

হ্যাঁ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫(৬) ধারা অনুযায়ী অপরাধ আপোষ হলে আসামী বেকসুর খালাস (Acquittal) লাভ করেন, ফলে তার কোনো ফৌজদারি রেকর্ড থাকে না।

রায়ের পর বা সাজা হওয়ার পর কি আপোষ করা যায়?

হ্যাঁ। বিচারিক আদালতে ১ বছরের সাজা হলেও দায়রা আদালত বা হাইকোর্টে আপিল চলাকালীন সোলেহনামা দাখিল করে সাজার রায় বাতিল ও খালাস নেওয়া যায়।

চেকের মূল টাকার চেয়ে কম টাকায় কি আপোষ করা বৈধ?

হ্যাঁ। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেকোনো অংকে (এমনকি চেকের মূল্যের চেয়ে কম টাকায়) আপোষনামা সম্পাদন করতে পারেন। এতে কোনো আইনি বাধা নেই।

আপোষের পর মূল চেক কীভাবে আদালত থেকে ফেরত আনতে হয়?

মামলা নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারায় জিম্মার দরখাস্ত দাখিল করে আদালতের রেকর্ড থেকে মূল চেক ও ডিজঅনার মেমো ফেরত নেওয়া যায়।

প্রবাসী ব্যক্তি কি দেশে না এসে চেক মামলা আপোষ করতে পারেন?

হ্যাঁ। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে দেশে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা দিয়ে সোলেহনামা সম্পাদন করা যায়।

আপিলের জন্য বাধ্যতামূলক ৫০% টাকা জমা কি আপোষে মওকুফ হয়?

হ্যাঁ। আপিল চলাকালে সোলেহনামা দাখিল করা থাকলে আপিল আদালত সমঝোতা গ্রহণ করে ৫০% নগদ ডিপোজিট ছাড়াই আপিল মঞ্জুর ও খালাসের আদেশ দেন।

সোলেহনামা দলিলের জন্য কত টাকার স্ট্যাম্প প্রয়োজন হয়?

সাধারণত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সুস্পষ্ট শর্তাবলী উল্লেখ করে নোটারি বা বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে সোলেহনামা দলিল সম্পাদন করতে হয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০