লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-26
ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত ধারের বিপরীতে পাওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে একাউন্টে টাকা না থাকায় প্রত্যাখ্যাত (Dishonoured) হলে দ্রুততম সময়ে টাকা আদায়ের জন্য <strong>দ্যা নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৮৮১ (NI Act)-এর ১৩৮ ধারায়</strong> মামলা করতে হয়। এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো চেক ডিজঅনার হওয়ার <strong>৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ</strong>। নোটিশ পাঠাতে এক দিনও দেরি হলে পুরো মামলাটি তামাদিতে বাতিল হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ এনআই অ্যাক্ট আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর এই নির্দেশিকায় নোটিশের খসড়া ও টাকা আদায়ের ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো। চেম্বার হটলাইন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a>।
ব্যাংক কাউন্টারে চেক উপস্থাপন করার পর অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds) থাকলে ব্যাংক কর্মকর্তা আপনাকে মূল চেক এবং ব্যাংকের সিলযুক্ত ডিজঅনার মেমো (Dishonour Slip) প্রদান করবেন। এই দুটি নথি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে কারণ এগুলো মামলার মূল ভিত্তি।
নোটিশে চেকের নম্বর, তারিখ, ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, ডিজঅনারের কারণ ও তারিখ এবং পাওনা টাকার সুস্পষ্ট বিবরণ থাকতে হবে। নোটিশটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ/ডি (Acknowledgement Due) সহকারে প্রেরণ করতে হবে অথবা বহুল প্রচারিত জাতীয় বাংলা দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে।
দেনাদার যদি নোটিশ গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায় বা ঠিকানা পরিবর্তন করে, তবে আইনের চোখে ডাকপিয়নের "গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি" বা "প্রাপ্ত হয়নি" রিপোর্টই নোটিশ জারি হিসেবে গণ্য হবে (General Clauses Act-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী)।
৩০ দিনের নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দাখিল করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামির প্রতি সমন জারি করেন এবং সমন অমান্য করলে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেন।
বিচার শেষে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের মূল টাকার ৩ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে সরাসরি বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়।
এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি দায়রা আদালতে আপিল করতে চাইলে তাকে চেকের মূল টাকার কমপক্ষে ৫০% অর্থ আদালতে ক্যাশ ডিপোজিট বা পে-অর্ডারে জমা দিতে হয়, যা বাদীর অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
চেক ডিজঅনারের লিগ্যাল নোটিশ ড্রাফটিং ও বিজ্ঞ আদালতে টাকা উদ্ধারের মোকদ্দমায় অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সরাসরি আইনি পরামর্শ নিন। যোগাযোগ: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।