লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যক্তিগত ধারদেনা বা পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চেক প্রদান করার পর ব্যাংক থেকে সেই চেক বাউন্স বা ডিজঅনার (Cheque Dishonour) হওয়া বাংলাদেশে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। ব্যাংক একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা বা সই না মেলার কারণে চেক ডিজঅনার হলে ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (Negotiable Instruments Act, 1881)-এর ১৩৮ ধারায় মামলা করা যায়। মামলার সময়সীমা বা নোটিশ পাঠাতে ১ দিন ভুল হলেও মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ আইন অনুযায়ী চেক ডিজঅনার মামলার নিখুঁত ধাপসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যুকৃত চেক ব্যাংকে ক্যাশ করার জন্য জমা দেওয়ার পর যদি ব্যাংক একাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকার কারণে (Insufficient Funds) বা একাউন্ট বন্ধ থাকার কারণে চেক ফেরত দেয়, তবে তাকে আইনি ভাষায় চেক ডিজঅনার (Cheque Dishonour) বলা হয়।
Negotiable Instruments Act, 1881 এর 138 ধারা অনুযায়ী পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জেনেশুনে ডিজঅনার হওয়া চেক প্রদান করা একটি মারাত্মক জামিনঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।
এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারার মামলায় সময়সীমা বা তামাদি আইন (Limitation) অত্যন্ত কঠোর। যেকোনো এক ধাপে দেরি হলে মামলা সরাসরি খারিজ হয়ে যাবে:
চেক বাউন্স করলে ব্যাংক একটি লাল বা নীল রঙের Cheque Return Memo / Dishonour Slip প্রদান করে। এই স্লিপে ডিজঅনারের কারণ (যেমন: Account Insufficient Funds) এবং তারিখ পরিষ্কার লেখা থাকে। এই স্লিপটি মামলার মূল প্রমাণপত্র।
ডিজঅনার স্লিপ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে চেক প্রদানকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে। নোটিশে চেকে উল্লেখিত সমুদয় টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশটি ৩টি উপায়ে পাঠানো যায়: (১) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে AD সহ, (২) জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, অথবা (৩) সরাসরি হাতে হাতে প্রাপ্তিস্বীকার সই নিয়ে।
নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামি টাকা না দিলে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) বা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় সিআর মামলা দায়ের করতে হয়।
আদালতে মূল চেক, ব্যাংকের ডিজঅনার স্লিপ, লিগ্যাল নোটিশের কপি এবং ডাক রসিদ (Post Receipt) জমা দিতে হয়।
আদালতে ১৩৮ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির নিম্নলিখিত শাস্তি হতে পারে:
আদালত কর্তৃক আদায়কৃত জরিমানার টাকা থেকে চেকের সমপরিমাণ টাকা সরাসরি অভিযোগকারী বা পাওনাদারকে প্রদান করার বিধান রয়েছে (Section 138(1))।
যদি আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়, তবে আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায়:
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।