চেক ডিজঅনার মামলা বাংলাদেশ: আইনি প্রক্রিয়া ও প্রতিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

ব্যবসায়িক লেনদেনে চেক ডিজঅনার একটি গুরুতর সমস্যা। বাংলাদেশের আলোচনা যোগ্য দলিল আইন ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সুযোগ দেয় — একই সাথে দেওয়ানি আদায়ের পথও খোলা থাকে।

চেক ডিজঅনার কখন হয়?

ব্যাংক নিম্নলিখিত কারণে চেক ফেরত দিতে পারে:

  • অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স (Insufficient Funds)
  • স্বাক্ষরের অমিল
  • অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা凍結
  • তারিখ সংক্রান্ত ত্রুটি
  • পেমেন্ট বন্ধের নির্দেশ (Stop Payment Order)

সকল কারণেই ১৩৮ ধারায় মামলা করা যায় তবে মূল কারণ হিসেবে অপর্যাপ্ত ব্যালেন্সের মামলা সবচেয়ে শক্তিশালী। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ব্যাংকের ফেরতের কারণ বিশ্লেষণ করে সর্বোত্তম পথ নির্ধারণ করবেন।

আলোচনা যোগ্য দলিল আইনের ধারা ১৩৮

ধারা ১৩৮ অনুযায়ী চেক ডিজঅনার হলে প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়। শাস্তি: ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা চেকের পরিমাণের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়। মামলার শর্তগুলো:

  • চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে চেকের মেয়াদের মধ্যে
  • ডিজঅনারের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত নোটিশ দিতে হবে
  • নোটিশের ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ না পেলে ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে

চেক ডিজঅনার নোটিশ: সময় ও পদ্ধতি

নোটিশ দেওয়া চেক মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক নোটিশ না দিলে মামলা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

নোটিশে থাকতে হবে:

  • চেকের তারিখ, নম্বর ও পরিমাণ
  • ডিজঅনারের তারিখ ও কারণ
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের দাবি
  • পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থার সতর্কতা

নোটিশ রেজিস্টার্ড ডাক ও কুরিয়ার উভয়ে পাঠানো উচিত — পাঠানোর প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া

নোটিশের পরেও পরিশোধ না পেলে ৩০ দিনের মধ্যে:

  1. সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি দরখাস্ত করুন
  2. চেক, ব্যাংকের প্রত্যাখ্যান পত্র এবং নোটিশের প্রমাণ সংযুক্ত করুন
  3. আদালত সমন জারি করবেন আসামির বিরুদ্ধে
  4. আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ হবে

ফৌজদারি চাপের কারণে অধিকাংশ চেক মামলা আদালতে শুনানির আগেই আপোষে মিটে যায়।

দেওয়ানি মনি স্যুট: আলাদা পথ

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে দেওয়ানি আদালতে অর্থ আদায়ের মামলা (Money Suit) করা যায়। এই মামলায় চেকের পরিমাণ, সুদ ও মামলার খরচ আদায়ের আদেশ পাওয়া যায়।

দেওয়ানি মামলায় আসামির সম্পদ (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি) ক্রোক করার আবেদনও করা যায় — এটি দ্রুত আদায়ে কার্যকর।

আপোষ ও সমঝোতা

চেক মামলা শুরু হলে অনেক প্রদানকারী দ্রুত সমঝোতায় রাজি হন। আপোষে পাওয়ার সুযোগ থাকে:

  • মূল চেকের পরিমাণ
  • মামলার খরচ
  • ক্ষতিপূরণ

সমঝোতা হলে আদালতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মামলা প্রত্যাহার করা যায়। অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম চেক মামলায় দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের জন্য পরিচিত।

চেক ডিজঅনার এড়ানোর উপায়

চেক দেওয়ার আগে সতর্কতা:

  • চেক দেওয়ার আগে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নিশ্চিত করুন
  • বিলম্বিত তারিখের চেক দেওয়ার সময় লিখিত চুক্তি রাখুন
  • চেকে সঠিকভাবে তারিখ, পরিমাণ ও স্বাক্ষর দিন
  • প্রয়োজনে ব্যাংক ট্রান্সফার বা ডিডি ব্যবহার করুন