চেক ডিজঅনার হলে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর সঠিক নিয়ম ও সময়সীমা: ১৩৮ ধারা এনআই অ্যাক্ট
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৭ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>ব্যবসায়িক লেনদেন, জমি কেনাবেচা বা ব্যক্তিগত ধারের পাওনা আদায়ে চেক গ্রহণ করে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যখন ব্যাংক স্লিপে লেখা থাকে—<em>'Insufficient Funds'</em> বা অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই, তখন পাওনাদারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আইনের ভাষায় একে বলা হয় <strong>চেক ডিজঅনার</strong> (Cheque Dishonour) বা চেক বাউন্স। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ (The Negotiable Instruments Act, 1881)-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক বাউন্স হওয়া একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আইনে নির্ধারিত সময়সীমা ও নিয়মের সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেই কোটি টাকার চেকেও মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে!</p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> ব্যাংকিং, এনআই অ্যাক্ট এবং আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিসে শত শত মক্কেলের অর্থ উদ্ধারে সফল আইনি পদক্ষেপ পরিচালনা করেছেন। চেক বাউন্সের নিখুঁত লিগ্যাল নোটিশ প্রস্তুত বা মামলা পরিচালনায় সরাসরি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব চেক ডিজঅনার হলে কীভাবে যথাযথ আইনি নোটিশ পাঠাতে হয়, কোন সময়সীমাগুলো রক্ষা করা বাধ্যতামূলক এবং আদালতে মামলা দায়েরের প্রতিটি ধাপ।</p>
⚡ এক নজরে জরুরি তথ্য (Quick Answer)
<strong>চেকের বৈধ মেয়াদ:</strong> চেক ইস্যু করার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।
<strong>নোটিশ পাঠানোর সময়সীমা:</strong> ব্যাংক থেকে ডিজঅনার মেমো (Dishonour Memo) পাওয়ার তারিখ থেকে ঠিক ৩০ দিনের মধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে।
<strong>নোটিশের মেয়াদ:</strong> নোটিশে চেকদাতাকে টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিতে হবে।
<strong>মামলা দায়েরের সময়সীমা:</strong> নোটিশের ৩০ দিন মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩৮ ধারায় মামলা ফাইল করতে হবে।
১. চেক ডিজঅনার কী এবং কেন ঘটে
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন কাউকে একটি নির্দিষ্ট অংকের চেক প্রদান করে এবং প্রাপক সেই চেকটি নির্ধারিত ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দেওয়ার পর ব্যাংক যখন অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে চেকটি ফেরত দেয়, তাকে চেক ডিজঅনার বলা হয়।
সাধারণত অ্যাকাউন্টে অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), স্বাক্ষর না মেলা (Signature Mismatch), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা (Account Closed) বা চেকদাতার পক্ষ থেকে পেমেন্ট স্টপ (Stop Payment) করার কারণে ব্যাংক থেকে ডিজঅনার রসিদ বা মেমো প্রদান করা হয়। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী এই প্রতিটি কারণেই মামলা দায়ের করা যায়।
২. হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (NI Act)-এর ১৩৮ ধারার মূল বিধান
দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি তার কোনো দায় বা ঋণ পরিশোধের জন্য চেক প্রদান করেন এবং সেই চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের পর ডিজঅনার হয়, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, মামলা করার পূর্বে চেকদাতাকে লিখিতভাবে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন ও টাকা পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। নোটিশ ছাড়া সরাসরি আদালতে ১৩৮ ধারার মামলা দায়ের করা যায় না।
৩. লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাধ্যতামূলক সময়সীমা
চেক ডিজঅনার মামলায় ক্যালেন্ডার তারিখ হিসাব করা জীবন-মরণ প্রশ্নের মতো। কোনো একটি তারিখে একদিনের বিলম্ব হলেও আদালত মামলা গ্রহণের এখতিয়ার হারান। সময়সীমাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ১ (ব্যাংকে চেক উপস্থাপন): চেক ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে (মেয়াদ থাকা অবস্থায় একাধিকবার উপস্থাপন করা যায়)।
ধাপ ২ (লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো): ব্যাংক থেকে চেক বাউন্সের ব্যাংক মেমো হাতে পাওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতার ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে।
ধাপ ৩ (পরিশোধের সময়সীমা): নোটিশ প্রাপকের হাতে পৌঁছানোর (বা প্রাপ্তির প্রত্যাশিত তারিখ) পর থেকে তাকে টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে।
ধাপ ৪ (মামলা দায়ের): নোটিশের ৩০ দিন সময়সীমা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হবে।
৪. একটি কার্যকর লিগ্যাল নোটিশে কী কী তথ্য থাকা আবশ্যক
একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ তৈরি করা আবশ্যক। নোটিশে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে থাকতে হবে:
চেকদাতার পুরো নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা।
কী বাবদ বা কোন লেনদেনের প্রেক্ষিতে চেকটি দেওয়া হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
চেক নম্বর, হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখা এবং চেকে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ (অংকে ও কথায়)।
কোন তারিখে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছিল এবং কোন তারিখে ব্যাংক মেমোর মাধ্যমে কী কারণে বাউন্স হয়েছে।
সুস্পষ্টভাবে ৩০ দিনের সময় দিয়ে পাওনা পরিশোধের দাবি এবং নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে ১৩৮ ধারায় মামলা দায়েরের সতর্কবার্তা।
রেজিস্টার্ড ডাক (Registered Post with AD): এটি আদালতের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম ও অকাট্য প্রমাণ। একনলেজমেন্ট ডিউ (AD) রসিদ আদালতে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হয়।
কুরিয়ার সার্ভিস বা সরাসরি রসিদ: অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে দ্রুতগতির কুরিয়ারের মাধ্যমেও নোটিশ পাঠানো যায়।
জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি: যদি চেকদাতা ঠিকানা পরিবর্তন করে আত্মগোপন করেন বা রেজিস্ট্রি চিঠি ফেরত আসে, তবে সুপ্রিম কোর্টের নজির অনুযায়ী একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় বাংলা দৈনিকে লিগ্যাল নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা যায়।
৬. নোটিশের পর টাকা না দিলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা ফাইলিং
নোটিশের ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যদি চেকদাতা পাওনা পরিশোধ না করেন, তবে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা এবং প্রয়োজনে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করতে হয়:
বাদীকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিতে হয় (ধারা ২০০ CrPC)।
আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে সমন (Summons) অথবা সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেন।
আসামি আদালতে হাজির হলে তাকে জামিন নিতে হয় এবং পরবর্তীতে চার্জ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
৭. চেক ডিজঅনার মামলার শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ
এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনারের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর:
কারাদণ্ড: দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন।
আর্থিক জরিমানা: চেকে উল্লেখিত অংকের সর্বোচ্চ তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।
অর্থ উদ্ধার: আদালত যে জরিমানা ধার্য করেন, তার মধ্য থেকে চেকে দাবিকৃত সমুদয় অর্থ বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৮. অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের চেম্বারের আইনি পরামর্শ
চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতায় সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোটি টাকার বৈধ চেকও বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই চেক বাউন্স হওয়ার সাথে সাথেই অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করা উচিত। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম লিগ্যাল নোটিশ ড্রাফটিং, ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং হাইকোর্টে রিভিশন বা কোয়াশমেন্ট শুনানিতে মক্কেলদের পক্ষে অবিচল ভূমিকা পালন করেন।
চেক বাউন্স সংক্রান্ত যেকোনো নোটিশ পাঠানো বা মামলা করতে সরাসরি যোগাযোগ করুন:
⚖️ চেক বাউন্স ও ১৩৮ ধারার মামলার জন্য আইনি সহায়তা নিন
চেক ডিজঅনার নোটিশ পাঠানো, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা বা ওয়ারেন্ট জারির বিষয়ে সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে কথা বলুন:
চেক ডিজঅনার হলে কি সরাসরি থানায় গিয়ে মামলা করা যায়?
না, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলা থানায় হয় না; এটি উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিগ্যাল নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর নালিশি মামলা (C.R. Case) হিসেবে দায়ের করতে হয়।
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর ৩০ দিন সময় পার হয়ে গেলে কি মামলা করা সম্ভব?
যদি চেকের ৬ মাসের মেয়াদ বাকি থাকে, তবে পুনরায় চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করে নতুন ডিজঅনার স্লিপ তুলে আবার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠিয়ে মামলা করা যায়। তবে মেয়াদ শেষ হলে তখন দেওয়ানি অর্থ জারি বা দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় যেতে হয়।
আসামি যদি নোটিশ গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায় তবে কী হবে?
সঠিক ঠিকানায় রেজিস্টার্ড এডি যোগে প্রেরিত চিঠি 'গ্রহণে অস্বীকৃত' হয়ে ফেরত আসলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আইনত 'নোটিশ জারি হয়েছে' (Valid Service) বলেই গণ্য হয়।
কোম্পানির নামে চেক বাউন্স হলে কার বিরুদ্ধে মামলা হবে?
এনআই অ্যাক্টের ১৪১ ধারা অনুযায়ী কোম্পানি এবং কোম্পানির যিনি চেকে স্বাক্ষর করেছেন বা যিনি দৈনন্দিন কার্যাবলী পরিচালনার দায়িত্বে আছেন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক) উভয়ের বিরুদ্ধেই যৌথভাবে মামলা হবে।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০