লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগই সবচেয়ে বড় আবেগীয় ও আইনি প্রশ্ন। বাংলাদেশের আইন মায়ের হিজানত অধিকার এবং পিতার অভিভাবকত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সর্বদা সন্তানের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।
বাংলাদেশের আদালত — ইসলামি ব্যক্তিগত আইন এবং অভিভাবক ও ওয়ার্ডস আইন ১৮৯০ প্রয়োগ করে — সন্তানের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে হেফাজতের সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো পিতামাতার নিঃশর্ত অধিকার নেই যা সন্তানের স্বার্থের উপরে।
এই কল্যাণ নীতি বিবেচনা করে: শারীরিক নিরাপত্তা, মানসিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং ধর্মীয় পালন। হেফাজত বিরোধে একজন পারিবারিক আইনজীবী আপনার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পথ নির্ধারণ করবেন।
মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আলোকে বাংলাদেশে মা ছোট সন্তানের শারীরিক হেফাজত (হিজানত) পান:
তালাকের পর মা হিজানত হারান না — সন্তান উপরোক্ত বয়স পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকে, যদি না আদালত অন্যভাবে আদেশ করেন।
মুসলিম আইনে পিতা সন্তানের আইনগত অভিভাবক। এর মানে পিতা:
মায়ের হিজানত অধিকার হারাতে পারে যদি তিনি:
মা হিজানত হারালেও সন্তানের কল্যাণ দেখে নিটে। পিতার কাছে যদি সন্তানের কল্যাণ না হয়, দাদা-দাদি বা অন্য আত্মীয়দের বিবেচনা করা হতে পারে।
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এ হেফাজতের মামলা বিচার হয়। আদালত যা বিবেচনা করেন:
মামলা চলাকালীন যেকোনো পক্ষ অস্থায়ী হেফাজতের আদেশ চাইতে পারেন। এই আদেশ নির্ধারণ করে মামলার চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত সন্তান কার কাছে থাকবে।
হেফাজতের মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী আদেশের জন্য আবেদন করুন — দীর্ঘদিনের বর্তমান অবস্থান চূড়ান্ত রায়কে প্রভাবিত করে।
যে পিতামাতার কাছে সন্তান থাকে না তিনি দর্শনাধিকার পান। আদালতের নির্দেশিত দর্শনাধিকার ভাঙা আদালত অবমাননা। সাধারণত:
অপর পিতামাতার লিখিত সম্মতি বা আদালতের আদেশ ছাড়া সন্তানকে বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরুরিভাবে পারিবারিক আদালতে আবেদন করুন — আদালত ঘন্টার মধ্যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারেন।
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — ঢাকা ও উত্তরার পারিবারিক আইনজীবী — হেফাজতের যেকোনো জরুরি আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।