লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
তালাকের পরে সন্তানের হেফাজত নির্ধারণ পিতামাতা উভয়ের জন্যই কঠিন। বাংলাদেশে শিশু হেফাজত আইন বোঝা — মুসলিম আইনে হিজানত থেকে পারিবারিক আদালতের কল্যাণ পরীক্ষা পর্যন্ত — আইনি লড়াইয়ে আপনাকে প্রস্তুত করে।
বাংলাদেশে শিশু হেফাজত নিয়ন্ত্রণ করে:
যেকোনো হেফাজত মামলায় পারিবারিক আদালত শিশুর সর্বোচ্চ কল্যাণকে সর্বোপরি বিবেচনা করে। একজন পারিবারিক আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
মুসলিম আইনে হিজানত হলো ছোট শিশুর লালনপালনের অধিকার। মা ছেলের ৭ বছর এবং মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত হেফাজতের অধিকারী। মা নিম্নলিখিত কারণে অধিকার হারাতে পারেন:
তবে বর্তমান বাংলাদেশ পারিবারিক আদালত শিশুর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বয়সসীমা নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করে।
মুসলিম আইনে পিতা শিশুর প্রাকৃতিক অভিভাবক — সম্পত্তি এবং শিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে। কিন্তু অভিভাবকত্ব (আইনি কর্তৃত্ব) এবং হেফাজত (শারীরিক যত্ন) আলাদা ধারণা।
মায়ের হিজানতকালীন পিতা হেফাজত পাবেন না, তবে দর্শনাধিকার পাবেন। হিজানত বয়স পার হলে হেফাজত পিতার কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আদালত সর্বদা শিশুর কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
পারিবারিক আদালত হেফাজত সিদ্ধান্তে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মূল্যায়ন করে:
হেফাজত বিরোধ পারিবারিক আদালতে মামলার মাধ্যমে সমাধান হয়। পদক্ষেপ:
জরুরি পরিস্থিতিতে (যেমন শিশু অপহরণের ঝুঁকি) আদালত অন্তর্বর্তী হেফাজত আদেশ দ্রুত দিতে পারে।
যে পিতামাতা হেফাজত পাননি তিনি আদালত-নির্ধারিত দর্শনাধিকারের অধিকারী। দর্শনাধিকারের ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
দর্শনাধিকারের আদেশ লঙ্ঘন আদালত অবমাননার বিষয় হতে পারে।
হেফাজত নির্বিশেষে পিতা শিশু ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। পারিবারিক আদালত এর পরিমাণ নির্ধারণ করে বিবেচনা করে:
ভরণপোষণ আদেশ না মানলে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
অন্য পিতামাতার সম্মতি বা আদালতের আদেশ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে শিশুকে বিদেশে নেওয়া বেআইনি। এটি শিশু অপহরণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে:
আন্তর্জাতিক শিশু হেফাজত বিরোধ অত্যন্ত জটিল। বিদেশে বসবাসরত পিতামাতার জন্য একজন পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ অপরিহার্য।