ডিভোর্সের পর শিশুর জিম্মাদারি (Custody) – ১০+ টি শর্তে মা বা বাবার সন্তানের আইনি অধিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বিবাহবিচ্ছেদের পর নাবালক শিশুর হিযানত (Hizanat) বা কাস্টডি নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট ১৮৯০ অনুযায়ী আদালতের কাছে শিশুর সর্বাঙ্গীন কল্যাণই (Welfare of the Minor) মূল বিবেচ্য। ১০+ আইনি শর্তাবলী নিবন্ধে জানুন। পরামর্শে <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট ১৮৯০ (Guardians and Wards Act) ও মুসলিম আইন

বাংলাদেশে ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন এবং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ অনুযায়ী শিশু জিম্মাদারি নির্ধারণ করা হয়।

সন্তানের হিযানত (Hizanat) বা জিম্মাদারি বনাম অভিভাবকত্ব (Guardianship)

মুসলিম আইন অনুযায়ী পিতা সর্বদা সন্তানের প্রাকৃতিক ও আইনি অভিভাবক (Natural Guardian)। কিন্তু মাতা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সন্তানের কাস্টডি বা হিযানত রাখার অধিকার পান।

১০+ টি শক্ত শর্তে সন্তানের জিম্মাদারি মা বা বাবার পক্ষে যাওয়ার নিয়ম

  1. শিশুর বয়স (ছেলে ৭ বছর পর্যন্ত, মেয়ে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের অগ্রাধিকার)।
  2. মায়ের নীতি-নৈতিকতা ও চরিত্র।
  3. দ্বিতীয় বিবাহ সম্পাদন (অনাত্মীয়ের সাথে বিয়ে হলে মায়ের অধিকার শিথিল হতে পারে)।
  4. মা বা বাবার আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশ।
  5. শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ সুবিধা।
  6. শিশুর নিজের মতামত (যদি শিশু বুঝতে শেখার বয়সে পৌঁছায়)।
  7. বাবার মাদকাসক্তি বা মানসিক অসুস্থতা।
  8. মায়ের মানসিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা।
  9. অভিভাবকের অবহেলা ও নির্যাতনের অতীত রেকর্ড।
  10. আদালতের দৃষ্টিতে শিশুর মানসিক বিকাশ বজায় থাকা।

ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর ও মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের অধিকার

হানাফি আইন মতে ছেলে সন্তান ৭ বছর এবং মেয়ে সন্তান বয়ঃসন্ধি (Puberty) পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। তবে আদালতের আদেশে কল্যাণের প্রয়োজনে এই বয়স বাড়ানো যায়।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে বা চারিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগে জিম্মাদারি হারানোর ঝুঁকি

মা অ-রক্তের কোনো পুরুষকে বিয়ে করলে বাবা কাস্টডির আবেদন করতে পারেন। তবে শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে আদালত মায়ের কাছেও রাখতে পারেন।

বাবার সাথে সন্তানের সাক্ষাতের অধিকার (Visiting Rights) ও আদালতের শিডিউল

কাস্টডি মায়ের কাছে থাকলেও পিতা মাসে বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে সন্তানের সাথে দেখা (Visiting Rights) করার অধিকার পাবেন।

জিম্মাদারি থাকা সত্ত্বেও সন্তানের সকল খরচের আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার

সন্তান মায়ের কাস্টডিতে থাকলেও সন্তানের পড়াশোনা, পোশাক, খাদ্য ও চিকিৎসা খরচ বহনে বাবা আইনিভাবে বাধ্য।

পারিবারিক আদালতে শিশু জিম্মাদারি মামলা দায়ের ও শুনানির কৌশল

পারিবারিক বিচারকের আদালতে কাস্টডির পিটিশন ফাইল করে অন্তর্বর্তীকালীন কাস্টডি নেওয়া যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: বাবা কি জোর করে সন্তান ছিনিয়ে নিতে পারে?

উত্তর: জোর করে নিয়ে যাওয়া বেআইনি। মা তাৎক্ষণিক হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) রিট করে সন্তান পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

শিশু জিম্মাদারি মামলায় উচ্চ আদালতের অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা

কাস্টডি মামলা ও আইনি পরামর্শ পেতে ক্লিক করুন। যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।