লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10
<p>ব্যাংক লোন পরিশোধ করা সত্ত্বেও অথবা অন্য কারো ঋণের জামিনদার (Guarantor) হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (CIB) আপনার নাম ঋণখেলাপি বা ক্লাসিফাইড দেখিয়ে নতুন ঋণ বা এলসি (LC) বন্ধ করে দিয়েছে? <strong>বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার এবং অর্থঋণ আদালত আইনের আওতায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে অন্যায় সিআইবি স্ট্যাটাস তাৎক্ষণিক স্থগিত ও নাম অবমুক্ত করা সম্ভব।</strong> ব্যাংকিং ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজে প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সমস্ত ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও জামিনদারিত্বের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুসারে ঋণ খেলাপির বিভিন্ন ধাপ রয়েছে:
| শ্রেণিবিভাগ | বিলম্বের সময়কাল | ব্যবসায়িক প্রভাব |
|---|---|---|
| এসএমএ (Special Mention Account - SMA) | ২ থেকে ৩ মাস বকেয়া | সতর্কবার্তা; নতুন ঋণ প্রক্রিয়া ধীর হয় |
| সাব-স্ট্যান্ডার্ড (Sub-Standard - SS) | ৩ মাসের অধিক বকেয়া | নিম্নমান ঋণ হিসেবে চিহ্নিত |
| সন্দেহজনক (Doubtful - DF) | ৬ মাসের অধিক বকেয়া | সিআইবি রিপোর্টে লাল দাগ; ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত ঋণ বন্ধ |
| মন্দ/ক্ষতিজনক (Bad/Loss - BL) | ৯ থেকে ১২ মাসের অধিক বকেয়া | চূড়ান্ত ঋণখেলাপি; দেশত্যাগ ও কোম্পানির এলসি বন্ধের ঝুঁকি |
আমাদের দেশে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যখন বন্ধু বা আত্মীয়ের ব্যবসায় সরল বিশ্বাসে জামিনদার হয়ে নিজেই খেলাপি হয়ে পড়েন:
আইনি বিধান: চুক্তি আইনের ১২৮ ধারা অনুসারে মূল ঋণগ্রহীতা ও জামিনদারের দায় সমপর্যায়ের (Co-extensive)। তবে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে—মূল ঋণগ্রহীতার পর্যাপ্ত বন্ধকী সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও জামিনদারকে অহেতুক সিআইবি ব্ল্যাকলিস্ট করে হয়রানি করা আইনত চ্যালেঞ্জযোগ্য।
সিআইবিতে কোনো ভুল তথ্য থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া:
যদি প্রকৃত আর্থিক সংকটের কারণে ঋণ খেলাপি হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি (BRPD) মাস্টার সার্কুলার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট (সাধারণত ২% থেকে ৪%) জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করা যায়। পুনঃতফসিল অনুমোদন হওয়ার সাথে সাথেই সিআইবি স্ট্যাটাস 'Unclassified' হয়ে যায়।
যদি ব্যাংক বেআইনিভাবে বা অতিরিক্ত সুদ চাপিয়ে অন্যায়ভাবে নাম সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত রাখে, তবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করা সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর উপায়:
সিআইবি ব্ল্যাকলিস্টের কারণে আপনার ব্যবসা ধ্বংস হতে দেবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক লিগ্যাল নোটিশ, অর্থঋণ মামলা মোকাবেলা এবং হাইকোর্টে রিট পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।