কোর্ট ম্যারেজ বাংলাদেশ — আদালতে বিবাহের নিয়ম, খরচ ও প্রক্রিয়া ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট বিবাহ একটি আইনিভাবে স্বীকৃত বিবাহ পদ্ধতি। পরিবারের সম্মতি ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তি নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিবাহ করতে পারেন।

কোর্ট ম্যারেজ কী

কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট বিবাহ হলো নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলফনামা (এফিডেভিট) দিয়ে বিবাহ। এটি মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন বা বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী হয়।

  • পরিবারের অনুমতি ছাড়াও করা যায়
  • আন্তঃধর্মীয় বিবাহেও প্রযোজ্য
  • আইনত সম্পূর্ণ বৈধ

কে করতে পারবেন

কোর্ট ম্যারেজ করতে পারবেন যদি:

  • বর ১৮+ বছর বয়সী হন
  • কনে ১৮+ বছর বয়সী হন
  • কেউই বিবাহিত না থাকেন (বা বৈধভাবে তালাকপ্রাপ্ত/বিধবা/বিপত্নীক)
  • উভয় পক্ষ স্বেচ্ছায় রাজি হন

বয়সের প্রমাণ না থাকলে ডাক্তারি সনদ বা শপথপত্র দেওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

কোর্ট ম্যারেজের জন্য লাগবে:

  • উভয় পক্ষের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৪ কপি করে)
  • দুজন সাক্ষীর এনআইডি ও ছবি
  • আগে বিবাহ হয়ে থাকলে তালাকনামা বা মৃত্যু সনদ
  • মুসলিমদের ক্ষেত্রে কাবিননামা ফর্ম

কোথায় করবেন ও খরচ কত

কোর্ট ম্যারেজ করতে পারবেন:

  • নোটারি পাবলিক অফিসে: এফিডেভিট সম্পন্ন করুন
  • কাজী অফিসে: কাবিননামা রেজিস্ট্রেশন করুন
  • বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রার অফিসে: আন্তঃধর্মীয় বিবাহের জন্য

মোট খরচ সাধারণত ৩,০০০-১০,০০০ টাকার মধ্যে — আইনজীবীর ফি আলাদা।

বিবাহ নিবন্ধনের পরবর্তী ধাপ

কোর্ট ম্যারেজের পরে:

  1. কাবিননামা কাজী অফিসে নিবন্ধন করুন
  2. উভয় পক্ষ নিবন্ধিত কাবিননামার কপি সংগ্রহ করুন
  3. প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা পরিবর্তন করুন

নিবন্ধিত কাবিননামা পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য আইনি কাজে ব্যবহার করা যাবে।

সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:

  • দ্রুত ও সাশ্রয়ী
  • পারিবারিক জটিলতা এড়ানো যায়
  • আইনত সম্পূর্ণ বৈধ

অসুবিধা:

  • পরিবারের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন হতে পারে
  • কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সমস্যা

পরামর্শের জন্য পারিবারিক আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।