কোর্ট ম্যারেজের কাগজপত্র ২০২৬: কী কী লাগে, খরচ কত ও ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10 · ১৫ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

কোর্ট ম্যারেজ নিয়ে অনেকের মনেই বিভ্রান্তি আছে — কী কী কাগজ লাগে, কোথায় করতে হয়, খরচ কত? বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ আসলে একটি নোটারি অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সম্পন্ন বিবাহ, যা সম্পূর্ণ আইনত বৈধ। ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা নিয়ে এই গাইডটি তৈরি। আরও বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।

⚡ কোর্ট ম্যারেজে যা যা লাগবে (Quick List)
  • বর ও কনে উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদ
  • উভয়ের পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৪ কপি করে)
  • ২ জন সাক্ষীর NID ও স্বাক্ষর
  • বর ও কনের পিতামাতার তথ্য
  • অবিবাহিত মর্মে শপথনামা (অ্যাফিডেভিট)
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিবাহ নিবন্ধন ফর্ম
  • কাজীর মাধ্যমে মুসলিম বিবাহ হলে কাবিননামা
📋 সূচিপত্র
  1. ১. কোর্ট ম্যারেজ কী এবং এটি কি আইনত বৈধ?
  2. ২. কোর্ট ম্যারেজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা
  3. ৩. কোর্ট ম্যারেজের খরচ ২০২৬
  4. ৪. ধাপে ধাপে কোর্ট ম্যারেজের পদ্ধতি
  5. ৫. মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান কোর্ট ম্যারেজের পার্থক্য
  6. ৬. পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোর্ট ম্যারেজ কি সম্ভব?
  7. ৭. কোর্ট ম্যারেজের পর কী করবেন?
  8. ৮. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কোর্ট ম্যারেজ কী এবং এটি কি আইনত বৈধ?

"কোর্ট ম্যারেজ" বলতে বোঝায় একটি শপথনামা অ্যাফিডেভিট (Affidavit) এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা যা নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সম্পাদিত হয়। এটি সম্পূর্ণ আইনত বৈধ।

বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হওয়ার পরও কাজীর মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক (মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী)। শুধু অ্যাফিডেভিট থাকলেই সরকারি বিবাহ সনদ পাওয়া যায় না।

⚠️ মনে রাখুন: কোর্ট ম্যারেজে নোটারি অ্যাফিডেভিট + কাজী কার্যালয়ে নিবন্ধন — দুটোই লাগবে। শুধু অ্যাফিডেভিটকে সম্পূর্ণ বিবাহ বলা যায় না।

২. কোর্ট ম্যারেজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা

📋 বরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — মূল ও ফটোকপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি — ৪ কপি
  • জন্ম সনদ (১৮+ বয়স প্রমাণের জন্য)
  • অবিবাহিত মর্মে শপথনামা (নোটারি থেকে)
  • পেশা ও আয়ের প্রমাণপত্র (ঐচ্ছিক)

📋 কনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদ
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি — ৪ কপি
  • অবিবাহিত মর্মে শপথনামা (নোটারি থেকে)
  • বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে

📋 সাক্ষীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ২ জন সাক্ষী লাগবে
  • প্রত্যেক সাক্ষীর NID
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি — ২ কপি
  • সাক্ষীরা সাবালক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে

৩. কোর্ট ম্যারেজের খরচ ২০২৬

খরচের ধরন আনুমানিক খরচ
নোটারি অ্যাফিডেভিট (দুজনের) ৫০০-১,৫০০ টাকা
কাজী অফিসে নিবন্ধন ফি ২০০-৫০০ টাকা
কাবিননামার সরকারি স্ট্যাম্প ৩০০-৮০০ টাকা
আইনজীবী ফি (যদি নেন) ২,০০০-৫,০০০ টাকা
বিবাহ সনদ (Marriage Certificate) ১০০-৩০০ টাকা
মোট আনুমানিক খরচ ৩,০০০-৮,০০০ টাকা

আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া নিজেরা করলে খরচ কমানো সম্ভব। তবে প্রথমবার হলে আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া সুবিধাজনক।

৪. ধাপে ধাপে কোর্ট ম্যারেজের পদ্ধতি

  1. নোটারি অ্যাফিডেভিট তৈরি করুন: বর ও কনে উভয়ে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে অবিবাহিত মর্মে শপথনামা দেন।
  2. কাজী নির্বাচন করুন: নিজের এলাকার নিবন্ধিত কাজীর কাছে যান। কাজী বিবাহ পড়াবেন ও কাবিননামায় স্বাক্ষর নেবেন।
  3. সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন করুন: বর, কনে ও ২ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে।
  4. কাবিননামা পূরণ করুন: দেনমোহর, শর্ত ইত্যাদি উল্লেখ করে কাবিননামা পূরণ করুন।
  5. কাজীর অফিসে নিবন্ধন করুন: কাজী অফিসের নিবন্ধন বইতে এন্ট্রি হবে এবং বিবাহ সনদ পাবেন।
  6. বিবাহ সনদ সংগ্রহ করুন: সনদটি পরে পাসপোর্ট, ভিসা ইত্যাদিতে কাজে লাগবে।

৫. মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান কোর্ট ম্যারেজের পার্থক্য

মুসলিম বিবাহ: কাজীর মাধ্যমে ইজাব-কবুল ও কাবিননামা বাধ্যতামূলক। মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন ১৯৭৪ মেনে চলতে হবে।

হিন্দু বিবাহ: বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন আলাদা। হিন্দু ধর্মীয় আচার মেনে বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে। নোটারি অ্যাফিডেভিট সাহায্যকারী হতে পারে।

খ্রিস্টান বিবাহ: Christian Marriage Act 1872 অনুযায়ী চার্চে বা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিবাহ হতে পারে। নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

৬. পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোর্ট ম্যারেজ কি সম্ভব?

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক (বর ২১ বছর, কনে ১৮ বছর বা তার বেশি) ব্যক্তিরা পরিবারের অনুমতি ছাড়াও বিবাহ করতে পারেন। এটি আইনত বৈধ।

তবে পরিবারের বিরুদ্ধে বিবাহ করলে সামাজিক জটিলতা হতে পারে। এক্ষেত্রে নোটারি অ্যাফিডেভিট ও আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া বিজ্ঞ।

💡 গুরুত্বপূর্ণ: পরিবারের হুমকি বা চাপ থেকে রক্ষার জন্য পুলিশ প্রটেকশন নেওয়ার সুযোগ আছে। আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।

৭. কোর্ট ম্যারেজের পর কী করবেন?

কোর্ট ম্যারেজের পর নিম্নলিখিত কাজগুলো করুন:

  1. বিবাহ সনদের কপি সংরক্ষণ করুন — পরে ভিসা, পাসপোর্ট, উত্তরাধিকার মামলায় কাজে লাগবে।
  2. NID তে ঠিকানা আপডেট করুন — বিবাহিত হলে NID-এর বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন করুন।
  3. স্বামীর NID তে স্ত্রীর নাম যোগ করুন — এটি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় হতে পারে।
  4. কাবিননামার সত্যায়িত কপি নিন — কোর্টে দাখিলের জন্য সত্যায়িত কপি কাজীর অফিস থেকে নিন।

৮. আইনজীবীর সাহায্য নিন

⚖️ কোর্ট ম্যারেজ ও পারিবারিক আইনে সহায়তা

কোর্ট ম্যারেজ, নোটারি অ্যাফিডেভিট বা বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সহায়তা নিন।

📞 কল করুন: 01712655546 💬 WhatsApp 📍 চেম্বার ঠিকানা

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

কোর্ট ম্যারেজ কি কাজীর বিবাহের বিকল্প?

না, কোর্ট ম্যারেজ আলাদা কিছু নয়। এটি একটি অ্যাফিডেভিট প্রক্রিয়া, কিন্তু সম্পূর্ণ বিবাহের জন্য কাজীর মাধ্যমে নিবন্ধন করাও প্রয়োজন।

কোর্ট ম্যারেজ কি ধর্মীয়ভাবে বৈধ?

ইসলাম অনুযায়ী বিয়ে হলো ইজাব-কবুল ও সাক্ষীর উপস্থিতি। কোর্টে এই শর্তগুলো পূরণ করলে ধর্মীয়ভাবেও বৈধ।

কোর্ট ম্যারেজ কতদিনে সম্পন্ন হয়?

সাধারণত একই দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব, যদি সব কাগজপত্র প্রস্তুত থাকে।

মা-বাবার বিরুদ্ধে বিয়ে করলে আইনত কোনো সমস্যা হবে?

না, প্রাপ্তবয়স্করা স্বেচ্ছায় বিয়ে করতে পারেন। তবে সামাজিক সমস্যা এড়াতে পরিবারকে রাজি করানোর চেষ্টা করুন।

আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০