কোর্ট ম্যারেজ করার সঠিক নিয়ম ও সরকারি খরচ ২০২৬: এফিডেভিট বনাম কাজী রেজিস্ট্রি

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৭ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে পারিবারিক বা সামাজিক বাধার কারণে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক যুগল 'কোর্ট ম্যারেজ' করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কোর্ট চত্বরে ভুয়া কাজী ও অসাধু মিডলম্যানদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই কেবল ৫০০ বা ১,০০০ টাকার নোটারি এফিডেভিট (হলফনামা) করে মনে করেন বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী কাবিননামা ব্যতীত শুধুমাত্র নোটারি হলফনামায় কোনো বৈধ বিয়ে হয় না। এই ভুলের কারণে স্বামী পরবর্তীতে স্ত্রীকে অস্বীকার করলে আইনি দেনমোহর বা উত্তরাধিকার অধিকার মেলে না। কোর্ট ম্যারেজের সঠিক পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কাজী অফিসের সরকারি ফি এবং মিথ্যা অপহরণ মামলা থেকে সুরক্ষার বাস্তব কোর্টরুম গাইড আলোচনা করা হলো। বিশেষ আইনি সহযোগিতায়: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a>।

⚡ সংক্ষেপে তাৎক্ষণিক আইনি সমাধান: কোর্ট ম্যারেজের বাস্তব নিয়ম
  • শুধুমাত্র নোটারি পাবলিকের এফিডেভিট কোনো বৈধ বিবাহ নয়; সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)-এর রেজিস্ট্রি কাবিননামা আবশ্যিক।
  • বরের বয়স ন্যূনতম ২১ এবং কনের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে (জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ দ্বারা যাচাইযোগ্য)।
  • নোটারি হলফনামা মূলত বর-কনের স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং কোনো প্রকার প্ররোচনা ছাড়া বিবাহে সম্মতি প্রদানের একটি আইনি দলিল।
  • দেনমোহরের প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে ১৪ টাকা এবং পরবর্তী অতিরিক্ত প্রতি লাখে ১০০ টাকা কাজী ফি প্রযোজ্য।
  • বিয়ের পর কনের পরিবার কর্তৃক মিথ্যা অপহরণ (নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ধারা ৭/৮) মামলা ঠেকাতে কোর্ট এফিডেভিট সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. কোর্ট ম্যারেজ আসলে কি? আইনের চোখে এর সংজ্ঞা
  2. ২. নোটারি এফিডেভিট বনাম কাজী রেজিস্ট্রি: সবচেয়ে বড় আইনি বিভ্রান্তি
  3. ৩. কোর্ট ম্যারেজের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্র ও শর্তাবলী
  4. ৪. সরকারি ফি ও খরচের বিস্তারিত তালিকা ২০২৬
  5. ৫. কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন করার ধাপে ধাপে বাস্তব পদ্ধতি
  6. ৬. বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (ভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষের বিয়ে)
  7. ৭. মিথ্যা অপহরণ মামলা ও পারিবারিক হয়রানি থেকে সুরক্ষার উপায়
  8. ৮. সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বার আইনি সেবা

১. কোর্ট ম্যারেজ আসলে কি? আইনের চোখে এর সংজ্ঞা

আমাদের দেশে প্রচলিত 'কোর্ট ম্যারেজ' (Court Marriage) শব্দটির কোনো সংবিধিবদ্ধ আইনি সংজ্ঞা নেই। সাধারণত আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে বিজ্ঞ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সম্মুখে বর-কনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সাবালকত্ব, সজ্ঞানতা এবং পারস্পরিক সম্মতির ঘোষণা দিয়ে যে হলফনামা (Affidavit) সম্পাদন করেন এবং এরপর সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কাবিননামা সম্পাদন করেন—এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াকেই সাধারণ মানুষ 'কোর্ট ম্যারেজ' বলে থাকেন।

২. নোটারি এফিডেভিট বনাম কাজী রেজিস্ট্রি: সবচেয়ে বড় আইনি বিভ্রান্তি

কোর্ট ম্যারেজ করতে গিয়ে সবচেয়ে মারাত্মক যে ভুলটি হয় তা হলো—কেবল নোটারি এফিডেভিট করে বাড়ি ফিরে যাওয়া।

  • নোটারি এফিডেভিটের ভূমিকা: এটি বর ও কনের বয়সের সাবালকত্ব এবং কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ ছাড়া স্বেচ্ছায় বিবাহে সম্মতির লিখিত আইনি ঘোষণা। এটি মূলত ফৌজদারি মিথ্যা অপহরণ মামলা থেকে সুরক্ষার প্রমাণপত্র।
  • কাজী রেজিস্ট্রির আবশ্যকতা: মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪-এর ৫ ধারা অনুযায়ী মুসলিম বিবাহ সরকারি কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি হওয়া বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রি কাবিননামা ছাড়া স্ত্রী কোনো পারিবারিক আদালতে দেনমোহর বা খোরপোষ দাবি করতে পারেন না।

৩. কোর্ট ম্যারেজের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্র ও শর্তাবলী

কোর্ট ম্যারেজের জন্য বর ও কনেকে নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়:

  1. বয়সের প্রমাণপত্র: বর ও কনের ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র (Smart NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (১৮ ডিজিটের ভেরিফায়েড সনদ)। বরের বয়স ২১ এবং কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক (বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭)।
  2. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: বর ও কনের প্রত্যেকের সাম্প্রতিক তোলা ৩ থেকে ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  3. সাক্ষী ও শনাক্তকারী: বরের পক্ষে ও কনের পক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী (২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী) এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

৪. সরকারি ফি ও খরচের বিস্তারিত তালিকা ২০২৬

আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সরকারি ফি ও আদালতের বাস্তব খরচের কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ফি: এফিডেভিটের জন্য ৩০০ টাকার সরকারি স্ট্যাম্প।
  • নোটারি পাবলিক ফি: সরকারি গেজেট অনুযায়ী এফিডেভিট সত্যায়ন ফি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা।
  • কাজী ফি (দেনমোহরের অনুপাত): দেনমোহরের প্রথম ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে ১৪ টাকা (৪ লাখে সর্বোচ্চ ৫,৬০০ টাকা); ৪ লাখের অতিরিক্ত প্রতি লাখের জন্য ১০০ টাকা ফি।
  • নিকাহনামা সার্টিফাইড কপি: কাজী অফিস থেকে মূল কাবিননামার সরকারি সার্টিফাইড নকল তুলতে সরকারি ফি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।

৫. কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন করার ধাপে ধাপে বাস্তব পদ্ধতি

নিরাপদ ও আইনসম্মত কোর্ট ম্যারেজের সঠিক ধাপসমূহ:

  1. আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট প্রস্তুত: অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিবাহের সম্মতি ও সাবালকত্বের হলফনামা টাইপ করুন।
  2. ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর: বর ও কনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের সামনে শপথ গ্রহণপূর্বক হলফনামায় স্বাক্ষর করবেন।
  3. অনুমোদিত কাজী অফিসে নিকাহ রেজিস্ট্রি: হলফনামা সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের অনুমোদিত সরকারি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রারের অফিসে উপস্থিত হয়ে ২৫ কলামের নিকাহনামা বইয়ে স্বাক্ষর ও টিপসই প্রদান করতে হবে।
  4. কলাম ১৮ বিশেষ ক্ষমতা প্রদান: কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে নিঃশর্ত তালাক গ্রহণের ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) নিশ্চিত করুন।

৬. বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (ভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষের বিয়ে)

যদি বর ও কনে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হন (যেমন একজন হিন্দু ও অন্যজন মুসলিম) এবং কেউ নিজ নিজ ধর্ম পরিবর্তন করতে না চান, তবে তারা বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ (Special Marriage Act, 1872)-এর অধীনে আইনগতভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন।

এই ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নির্ধারিত নোটিশ জারির ১৪ দিন পর বিবাহ সম্পন্ন করতে হয়। ধর্ম পরিবর্তন ব্যতিরেকে বিবাহিত যুগলের সন্তানরা উত্তরাধিকার আইনের আওতায় পূর্ণ আইনি অধিকার ভোগ করে।

৭. মিথ্যা অপহরণ মামলা ও পারিবারিক হয়রানি থেকে সুরক্ষার উপায়

কোর্ট ম্যারেজের পর অনেক সময় মেয়ের পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে বরের বিরুদ্ধে থানায় বা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা অপহরণ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ধারা ৭/৮) মামলা দায়ের করে।

সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ:

  • বিয়ের পরপরই রেজিস্ট্রি কাবিননামা ও নোটারি এফিডেভিটের একটি সত্যায়িত সেট স্থানীয় থানায় জিডি আকারে জমা রাখা।
  • মিথ্যা মামলা দায়ের হলে কনে নিজে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারা বা ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি দিয়ে জানাতে পারেন যে তিনি স্বেচ্ছায় ও সাবালক হিসেবে বিবাহ করেছেন।

৮. সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বার আইনি সেবা

⚖️ ঝামেলামুক্ত রেজিস্ট্রি বিবাহ ও আইনি সুরক্ষা সেবা

বৈধ নিকাহ রেজিস্ট্রি, স্পেশাল ম্যারেজ সম্পাদন অথবা পরিবারের মিথ্যা অপহরণ মামলার হাত থেকে দম্পতিদের আগাম জামিন ও পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষার জন্য যোগাযোগ করুন:

অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম
সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ
📞 কল: 01712655546 | WhatsApp: +8801712655546
📍 চেম্বার: সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবন, ঢাকা।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

শুধুমাত্র নোটারি এফিডেভিট করে বিয়ে করলে কি স্বামী বা স্ত্রীকে অস্বীকার করা যায়?

হ্যাঁ, আইনত নোটারি এফিডেভিট কোনো নিকাহনামা নয়। কাজী অফিসে রেজিস্ট্রি না থাকলে স্বামী দেনমোহর দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে এবং সম্পর্কটিকে বেআইনি ঘোষণা করা হতে পারে।

কোর্ট ম্যারেজ করতে মোট কত সময় লাগে?

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষী উপস্থিত থাকলে এফিডেভিট ও কাজী রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ হয়।

অভিভাবকদের উপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়া কি কোর্ট ম্যারেজ বৈধ?

হ্যাঁ, বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক (পুরুষ ২১ ও নারী ১৮ বছর) হলে নিজেদের স্বাধীন সম্মতিতে বিবাহ করার পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার তাদের রয়েছে।

আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০