লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
পরিবারের অমতে বিয়ে করতে গিয়ে বহু তরুণ-তরুণী জজ কোর্ট চত্বরে দালালদের খপ্পরে পড়েন এবং মনে করেন ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিক দিয়ে 'কোর্ট ম্যারেজ' করলেই বিয়ে সম্পূর্ণ পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ বা পারিবারিক মামলায় যখন মেয়ে পক্ষ অপহরণ বা ধর্ষণের অভিযোগ আনে, তখন দেখা যায় ওই এফিডেভিটের আদালতে কোনো দামই নেই। বাস্তব আইনি সত্যতা তুলে ধরেছেন প্রবীণ পারিবারিক আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
আমাদের দেশের আইনে 'কোর্ট ম্যারেজ' (Court Marriage) বলে কোনো স্বতন্ত্র বিয়ের বিধান নেই। প্রচলিত অর্থে যাকে কোর্ট ম্যারেজ বলা হয়, তা হলো নোটারি পাবলিক বা ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বামী-স্ত্রীর একটি হলফনামা (Declaration of Marriage), যেখানে তারা ঘোষণা করেন যে তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু এই হলফনামা কখনোই মূল বিয়ের বিকল্প নয়।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী—মুসলিম রীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নিকাহ রেজিস্টার (কাজী)-এর বালাম বইয়ে যথাযথভাবে রেজিস্ট্রি হওয়া আইনত বাধ্যতামূলক। নোটারি পাবলিক কোনো কাজী নন এবং তার কোনো বিয়ের নিবন্ধন করার ক্ষমতা নেই। নিকাহনামা ছাড়া শুধুমাত্র নোটারি এফিডেভিট দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্কের দাবি আদালতে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও ভিত্তিহীন বলে গণ্য হতে পারে।
পরিবারের অমতে গিয়ে শুধু নোটারি করিয়ে ছেলে-মেয়ে যখন সংসার শুরু করে, তখন মেয়ের অভিভাবকরা প্রায়ই থানায় এসে মেয়ের বয়স কম দেখিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯ ধারায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। আদালতে যখন পুলিশ হাজির করে, তখন যদি রেজিস্ট্রিকৃত সরকারি কাবিননামা না থাকে, তবে ছেলে সরাসরি জেলের ঝুঁকিতে পড়ে।
কোর্টের আশেপাশে বহু দালাল চক্র রয়েছে যারা ভুয়া প্যাড ও জাল সিল দিয়ে নিকাহনামা বানিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আসল কাজীর নিকাহনামার ওপরে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নম্বর, নির্দিষ্ট ওয়ার্ড/ইউনিয়ন বা ভলিউম নম্বর খোদাই করা থাকে এবং সরকারি বালাম বইয়ে উভয় পক্ষ ও সাক্ষীদের স্পষ্ট স্বাক্ষর সংরক্ষিত থাকে।
নিরাপদে ও শতভাগ আইনসঙ্গতভাবে বিয়ে করতে হলে:
মুসলিম আইন অনুসারে কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ পুরুষ সাক্ষী (অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী) এবং একজন উকিল বাবার উপস্থিতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। দেনমোহরের ঘর ফাঁকা রেখে বা সাক্ষী ছাড়া হওয়া কোনো বিয়ে আদালতে টিকবে না।
ভবিষ্যৎ মামলা থেকে বাঁচতে নিজের কাছে রাখবেন: