কোর্ট ম্যারেজ করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নোটারি এফিডেভিট ও নিকাহ রেজিস্ট্রেশন

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-20

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে প্রচলিত ভাষায় যাকে “কোর্ট ম্যারেজ” বলা হয়, আইনের দৃষ্টিতে তা মূলত <strong>১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সম্মুখে হলফনামা (Affidavit)</strong> এবং <strong>মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী কাজী অফিসে নিকাহ রেজিস্ট্রেশন</strong>-এর একটি সমন্বিত আইনি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র নোটারি এফিডেভিট করলে বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ হয় না, এর সাথে কাবিননামা থাকা বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সরাসরি চেম্বার পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a> নাম্বারে।

আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন আদালতে বিচারক বর-কনের বিয়ে পড়িয়ে দেন। কিন্তু আইনি সত্য হলো—আদালতে বিয়ে পড়ানোর কোনো আলাদা বিধান নেই। কোর্ট ম্যারেজ হলো বর ও কনের স্বজ্ঞানে, সাবালকত্ব প্রমাণ সাপেক্ষে এবং কারো প্ররোচনা ছাড়া স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র বা হলফনামা (Affidavit of Marriage) সম্পাদন করা। এরপর সরকারি নিবন্ধিত কাজী দ্বারা কাবিননামা (নিকাহনামা) সম্পন্ন করা হলে বিবাহটি শতভাগ পূর্ণাঙ্গ ও চ্যালেঞ্জহীন হয়।

কোর্ট ম্যারেজ প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বর ও কনেকে নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • বয়সের প্রমাণপত্র: বর ও কনের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট অথবা ডিজিটাল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (English/Bangla 17-digit)।
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি: বরের ৪ কপি এবং কনের ৪ কপি ল্যাব প্রিন্ট ছবি।
  • সাক্ষীদের পরিচয়পত্র: কমপক্ষে ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কের সাক্ষীর এনআইডি কার্ডের কপি (ছেলে বা মেয়ের যে কোনো বন্ধু বা পরিচিতজন হতে পারে)।
  • আগের বিবাহের ক্ষেত্রে: তালাকপ্রাপ্ত হলে পূর্বের তালাক কার্যকরের সার্টিফিকেট বা স্বামী/স্ত্রী মৃত হলে ডেথ সার্টিফিকেট।

কোর্ট ম্যারেজের খরচের মধ্যে রয়েছে স্ট্যাম্প শুল্ক, নোটারি পাবলিক ফি, অ্যাডভোকেট ড্রাফটিং চার্জ এবং সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রেশন ফি। নিচে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

খরচের খাতআনুমানিক খরচ (টাকা)বিবরণ
নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও নোটারি ফি১,৫০০ - ৩,০০০/-৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা ও নোটারি সিল
আইনজীবী ড্রাফটিং ও লিগ্যাল সাপোর্ট২,০০০ - ৫,০০০/-আইনি সুরক্ষা ডকুমেন্টেশন ও পরামর্শ
কাজী রেজিস্ট্রেশন ফি (১ লাখ দেনমোহর পর্যন্ত)১,২৫০/-প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা হারে সরকারি ফি

অনেক দম্পতি অসচেতনতাবশত কোনো দালালের খপ্পরে পড়ে শুধুমাত্র ২০০ বা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে নোটারি করে বাড়ি ফিরে যান এবং ভাবেন বিয়ে হয়ে গেছে। এটি একটি মারাত্মক আইনি ভুল! মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রি না করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু এফিডেভিট দিয়ে পাসপোর্ট সংশোধন, স্ত্রীর ভরণপোষণ বা দেনমোহর দাবি কিংবা সন্তানের বৈধতার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এফিডেভিটের পাশাপাশি অবশ্যই সরকারি কাজী বালামে স্বাক্ষর করে নিকাহনামা সংগ্রহ করতে হবে।

পারিবারিক অমতে বিয়ে হলে কনের পরিবার প্রায়ই বরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৭/৮ ধারায় (অপহরণ ও ধর্ষণ) মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে:

  • ম্যারেজ এফিডেভিটে কনের স্পষ্ট জবানবন্দি লিপিবদ্ধ থাকবে যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে বিবাহ করেছেন।
  • বিয়ের দিনই সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসারকে বিয়ের কাবিননামা ও এফিডেভিটের অনুলিপিসহ অবহিতকরণ আবেদন বা জিডি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
  • মামলা হলেও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ জামিন আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে তাৎক্ষণিক আগাম জামিন (Anticipatory Bail) নেওয়া সম্ভব।

  1. আইনজীবীর চেম্বারে পরামর্শ: জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বয়স ও বৈবাহিক স্ট্যাটাস নিশ্চিত করা।
  2. হলফনামা (Affidavit) প্রস্তুত: সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট কর্তৃক স্পেশাল ম্যারেজ ডিক্লারেশন খসড়া প্রস্তুত।
  3. ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর: বর ও কনে উপস্থিত হয়ে হলফনামায় স্বাক্ষর ও নোটারি সিল গ্রহণ।
  4. নিকাহ রেজিস্ট্রি ও কাবিননামা গ্রহণ: সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রারের বালামে স্বাক্ষর এবং তাৎক্ষণিক ভলিউম কপি ও রসিদ সংগ্রহ।

উত্তরা ও ঢাকা জজ কোর্টে ঝামেলামুক্ত, শতভাগ গোপনীয় ও আইনি সুরক্ষাসহ কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন করতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন। হটলাইন: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।