লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
পারিবারিক আদালতে দেনমোহর বা সন্তানের ভরণপোষণের মামলা হওয়ার আভাস পেলেই অনেক স্বামী চাতুরির আশ্রয় নেন। আদালত থেকে বাঁচার জন্য নিজের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট বা দোকান দ্রুত মা, ভাই বা কোনো আত্মীয়ের নামে হেবা বা নামমাত্র মূল্যে রেজিস্ট্রি করে নিজেকে আদালতে ‘নিঃস্ব ও কপর্দকহীন’ দেখানোর নাটক করেন। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে কোনো পাওনাদার বা স্ত্রীর বৈধ দেনা ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কৃত এমন প্রতারণামূলক দলিল সরাসরি বাতিলের অকাট্য বিধান রয়েছে। আইনি উপায় ব্যাখ্যা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ ধারা (Section 53, Transfer of Property Act)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো ঋণদাতা বা পাওনাদারকে ঠকানোর বা তার পাওনা আদায় বিলম্বিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে যদি কোনো ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পাওনাদারের আবেদনে আদালত উক্ত দলিল সম্পূর্ণ বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করবেন।
মুসলিম আইনে স্ত্রীর দেনমোহর (Mahr) কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি স্বামীর ওপর এক অলঙ্ঘনীয় আর্থিক ঋণ (Debt)। আদালতের দৃষ্টিতে স্ত্রী একজন বৈধ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাওনাদার। তাই দেনমোহর না দিয়ে সম্পত্তি অন্যের নামে হেবা বা সাফ-কবলা করে নিজেকে দেউলিয়া দাবি করার কোনো আইনি ভিত্তি আদালতে টেকে না।
স্বামী যদি গোপনে সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকেন, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ ধারার সমন্বয়ে বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে ‘দলিল বাতিল ও প্রতারণামূলক ঘোষণা’-র মামলা করতে হয়। হস্তান্তরের তারিখ এবং পারিবারিক বিরোধের সময়ক্রম উপস্থাপন করলেই আদালত দলিলটি বাতিল ঘোষণা করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।
পারিবারিক আদালতে মূল দেনমোহরের মামলা চলাকালীন দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ অনুযায়ী স্বামীর সকল স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্ডার ৩৮ রুল ৫ অনুযায়ী ‘রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ’ (Attachment before Judgment)-এর দরখাস্ত দিতে হবে। আদালত ক্রোকাদেশ দিলে স্বামী আর কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি বিক্রি বা দান করতে পারেন না।
ডিক্রি হওয়ার পর জারি মামলায় স্বামী যদি টাকা না দেন, তবে আদালত তাকে দেওয়ানি পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বেনামী হস্তান্তর বাতিল করিয়ে সম্পত্তিটি সরকারি নাজিরের মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিলামে তুলে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা শতভাগ উসুল করে দেন।