দেনমোহর ফাঁকি দিতে সম্পত্তি স্থানান্তর করলে প্রতিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17 · ১১ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পারিবারিক আদালতে দেনমোহর বা সন্তানের ভরণপোষণের মামলা হওয়ার আভাস পেলেই অনেক স্বামী চাতুরির আশ্রয় নেন। আদালত থেকে বাঁচার জন্য নিজের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট বা দোকান দ্রুত মা, ভাই বা কোনো আত্মীয়ের নামে হেবা বা নামমাত্র মূল্যে রেজিস্ট্রি করে নিজেকে আদালতে ‘নিঃস্ব ও কপর্দকহীন’ দেখানোর নাটক করেন। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে কোনো পাওনাদার বা স্ত্রীর বৈধ দেনা ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কৃত এমন প্রতারণামূলক দলিল সরাসরি বাতিলের অকাট্য বিধান রয়েছে। আইনি উপায় ব্যাখ্যা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

: · পারিবারিক ও বিবাহ আইনজীবী ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালামুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ ও বিধিমালা ২০০৯ (সংশোধিত)
প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরপ্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা)
৪ লাখ টাকার অতিরিক্ত দেনমোহরপরবর্তী প্রতি ১ লাখ বা অংশবিশেষের জন্য মাত্র ১০০ টাকা
সর্বনিম্ন সরকারি নিবন্ধন ফি২০০ টাকা (দেনমোহর কম হলেও সর্বনিম্ন ২০০ টাকা প্রযোজ্য)
রসিদ ও সনদ যাচাইকাজী অফিসের সরকারি রসিদ বহি ও নিবন্ধিত নিকাহনামা (ফরম-ডি)
📋 সূচিপত্র
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২-এর ৫৩ ধারা: প্রতারণামূলক হস্তান্তর (Fraudulent Transfer)
  2. স্ত্রীর দেনমোহরের আইনি মর্যাদা: অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাওনাদার (Priority Creditor)
  3. দেনমোহর ফাঁকির উদ্দেশ্যে কৃত হেবা বা সাফ-কবলা দলিল বাতিলের মামলা
  4. পারিবারিক আদালতের রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ ও ইনজাংশন আবেদন
  5. স্বামীকে দেওয়ানি কারাগারে পাঠানো ও সম্পত্তি নিলামে বিক্রি
  6. স্বামীর গোপন সম্পত্তি শনাক্ত ও উদ্ধারের প্র্যাকটিক্যাল চেকলিস্ট
  7. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২-এর ৫৩ ধারা: প্রতারণামূলক হস্তান্তর (Fraudulent Transfer)

১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ ধারা (Section 53, Transfer of Property Act)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো ঋণদাতা বা পাওনাদারকে ঠকানোর বা তার পাওনা আদায় বিলম্বিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে যদি কোনো ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পাওনাদারের আবেদনে আদালত উক্ত দলিল সম্পূর্ণ বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করবেন।

স্ত্রীর দেনমোহরের আইনি মর্যাদা: অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাওনাদার (Priority Creditor)

মুসলিম আইনে স্ত্রীর দেনমোহর (Mahr) কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি স্বামীর ওপর এক অলঙ্ঘনীয় আর্থিক ঋণ (Debt)। আদালতের দৃষ্টিতে স্ত্রী একজন বৈধ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাওনাদার। তাই দেনমোহর না দিয়ে সম্পত্তি অন্যের নামে হেবা বা সাফ-কবলা করে নিজেকে দেউলিয়া দাবি করার কোনো আইনি ভিত্তি আদালতে টেকে না।

দেনমোহর ফাঁকির উদ্দেশ্যে কৃত হেবা বা সাফ-কবলা দলিল বাতিলের মামলা

স্বামী যদি গোপনে সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকেন, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ ধারার সমন্বয়ে বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে ‘দলিল বাতিল ও প্রতারণামূলক ঘোষণা’-র মামলা করতে হয়। হস্তান্তরের তারিখ এবং পারিবারিক বিরোধের সময়ক্রম উপস্থাপন করলেই আদালত দলিলটি বাতিল ঘোষণা করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

পারিবারিক আদালতের রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ ও ইনজাংশন আবেদন

পারিবারিক আদালতে মূল দেনমোহরের মামলা চলাকালীন দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ অনুযায়ী স্বামীর সকল স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্ডার ৩৮ রুল ৫ অনুযায়ী ‘রায়পূর্ব ক্রোকাদেশ’ (Attachment before Judgment)-এর দরখাস্ত দিতে হবে। আদালত ক্রোকাদেশ দিলে স্বামী আর কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি বিক্রি বা দান করতে পারেন না।

স্বামীকে দেওয়ানি কারাগারে পাঠানো ও সম্পত্তি নিলামে বিক্রি

ডিক্রি হওয়ার পর জারি মামলায় স্বামী যদি টাকা না দেন, তবে আদালত তাকে দেওয়ানি পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বেনামী হস্তান্তর বাতিল করিয়ে সম্পত্তিটি সরকারি নাজিরের মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিলামে তুলে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা শতভাগ উসুল করে দেন।

স্বামীর গোপন সম্পত্তি শনাক্ত ও উদ্ধারের প্র্যাকটিক্যাল চেকলিস্ট

  1. স্বামীর পৈতৃক ও স্ব-অর্জিত জমির মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বর আগেই সংগ্রহ করে রাখুন।
  2. মামলা শুরুর সাথে সাথেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো নতুন দলিল হচ্ছে কি না খোঁজ রাখুন।
  3. পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের দিনই সম্পত্তি ক্রোকের জরুরি আবেদন দিন।
  4. অন্যের নামে হস্তান্তরিত দলিলের সার্টিফায়েড নকল তুলে ৫৩ ধারায় বাতিলের মোকদ্দমা করুন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০