লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22 · ১২ মিনিট পড়ুন
বিবাহের সময় নির্ধারিত দেনমোহর (Mahr) পরিশোধ করা স্বামীর জন্য একটি আইনি ও ধর্মীয় ফারজ দায়িত্ব। অনেক সময় স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন বা খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া বন্ধ করে দেন। বাংলাদেশে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত পারিবারিক আদালত রয়েছে। ২০২৩ সালের সংশোধিত পারিবারিক আদালত আইন অনুযায়ী দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মামলা দায়ের, কত দিনের মধ্যে মামলা শেষ হয়, স্বামীর আয়ের ওপর ভিত্তি করে খোরপোষের হিসাব ও মামলা পরিচালনার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা | মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ ও বিধিমালা ২০০৯ (সংশোধিত) |
| প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহর | প্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা) |
| ৪ লাখ টাকার অতিরিক্ত দেনমোহর | পরবর্তী প্রতি ১ লাখ বা অংশবিশেষের জন্য মাত্র ১০০ টাকা |
| সর্বনিম্ন সরকারি নিবন্ধন ফি | ২০০ টাকা (দেনমোহর কম হলেও সর্বনিম্ন ২০০ টাকা প্রযোজ্য) |
| রসিদ ও সনদ যাচাই | কাজী অফিসের সরকারি রসিদ বহি ও নিবন্ধিত নিকাহনামা (ফরম-ডি) |
বাংলাদেশে পারিবারিক বিষয়াবলী নিষ্পত্তির জন্য পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (Family Courts Act, 2023) বহাল রয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সহকারী জজ আদালতসমূহ 'পারিবারিক আদালত' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক আদালতের ৫টি মূল এখতিয়ার হলো: (১) বিবাহবিচ্ছেদ, (২) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of Conjugal Rights), (৩) দেনমোহর, (৪) ভরণপোষণ/খোরপোষ, এবং (৫) সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (Guardianship & Custody)।
দেনমোহর হলো বিবাহের সময় বরের পক্ষ থেকে কনেকে দেওয়া এককালীন অর্থ বা সম্পত্তি। এটি কোনো বকশিশ নয়, স্ত্রীর আইনি অধিকার।
স্বামী তালাক দিলেও বা স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলেও (যদি না স্বেচ্ছায় দেনমোহর মাফ করেন) স্ত্রী পুরো দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।
স্বামী হিসেবে স্ত্রী ও সন্তানদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার খরচ বহন করা আইনি দায়িত্ব:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
আদালতের ডিক্রি হওয়ার পর স্বামী যদি টাকা না দেন, তবে স্ত্রী জারি মামলা (Execution Suit) দায়ের করতে পারেন। আদালত স্বামীর মালিকানাধীন জমি, বাড়ি বা ব্যাংক একাউন্ট ক্রোক (Attachment) করে নিলামে তুলে স্ত্রীর পাওনা টাকা আদায় করে দেন অথবা স্ত্রীকে টাকা না দেওয়া পর্যন্ত স্বামীকে দেওয়ানি কারাগারে (Civil Jail) পাঠানোর আদেশ দেন।
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।
হ্যাঁ। স্ত্রী চাকরিজীবী হলেও বিবাহ বহাল থাকাকালীন ও ইদ্দতকালে স্বামীর কাছ থেকে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের খোরপোষ পাওয়ার অধিকার আইনিভাবে বলবৎ থাকে।
তামাদি আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ বা দাবির তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে দেনমোহর মামলা দায়ের করতে হয়।