পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মামলা – আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বিবাহের সময় নির্ধারিত দেনমোহর (Mahr) পরিশোধ করা স্বামীর জন্য একটি আইনি ও ধর্মীয় ফারজ দায়িত্ব। অনেক সময় স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন বা খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া বন্ধ করে দেন। বাংলাদেশে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত পারিবারিক আদালত রয়েছে। ২০২৩ সালের সংশোধিত পারিবারিক আদালত আইন অনুযায়ী দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মামলা দায়ের, কত দিনের মধ্যে মামলা শেষ হয়, স্বামীর আয়ের ওপর ভিত্তি করে খোরপোষের হিসাব ও মামলা পরিচালনার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

পারিবারিক আদালত (Family Court) এবং এর এখতিয়ার

বাংলাদেশে পারিবারিক বিষয়াবলী নিষ্পত্তির জন্য পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (Family Courts Act, 2023) বহাল রয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সহকারী জজ আদালতসমূহ 'পারিবারিক আদালত' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক আদালতের ৫টি মূল এখতিয়ার হলো: (১) বিবাহবিচ্ছেদ, (২) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of Conjugal Rights), (৩) দেনমোহর, (৪) ভরণপোষণ/খোরপোষ, এবং (৫) সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (Guardianship & Custody)।

দেনমোহর (Mahr) কি এবং কখন আদায়যোগ্য হয়?

দেনমোহর হলো বিবাহের সময় বরের পক্ষ থেকে কনেকে দেওয়া এককালীন অর্থ বা সম্পত্তি। এটি কোনো বকশিশ নয়, স্ত্রীর আইনি অধিকার।

  • মুঅজ্জল (Prompt Mahr): স্ত্রী চাওয়া মাত্রই স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য। পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ত্রী সহবাসে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
  • মুঅজ্জল (Deferred Mahr): বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধযোগ্য, কিংবা চুক্তির নির্ধারিত সময়ে দেওয়াতুল্য।

স্বামী তালাক দিলেও বা স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলেও (যদি না স্বেচ্ছায় দেনমোহর মাফ করেন) স্ত্রী পুরো দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।

খোরপোষ বা ভরণপোষণ (Maintenance) পাওয়ার আইনি অধিকার

স্বামী হিসেবে স্ত্রী ও সন্তানদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার খরচ বহন করা আইনি দায়িত্ব:

  • স্ত্রীর খোরপোষ: বিবাহ বহাল থাকাকালীন এবং তালাকের পর ৩ মাস ১০ দিন (ইদ্দতকাল) পর্যন্ত স্ত্রী খোরপোষ পাওয়ার অধিকারী।
  • সন্তানের খোরপোষ: পুত্র সন্তান ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যাসন্তানের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাবা হিসেবে ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য।

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া (Step-by-Step)

  1. আরজি দায়ের: দেনমোহর ও খোরপোষের দাবি জানিয়ে উপযুক্ত পারিবারিক আদালতে আরজি (Plaint) দাখিল করতে হয়।
  2. সমন ও জবাব: স্বামী বা বিবাদীকে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব (Written Statement) দেওয়ার সমন পাঠানো হয়।
  3. বিচারপূর্ব মধ্যস্থতা (Pre-trial Conciliation): বিচারক উভয় পক্ষকে নিয়ে আপস বা পারিবারিক সমঝোতার চেষ্টা করেন।
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ ও ডিক্রি: আপস না হলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত স্বামী কত টাকা দেনমোহর ও মাসিক কত টাকা খোরপোষ দেবেন তার রায় বা ডিক্রি (Decree) প্রদান করেন।

দেনমোহর ও খোরপোষ না দিলে স্বামীর সম্পত্তি ক্রোক ও কারাদণ্ড

আদালতের ডিক্রি হওয়ার পর স্বামী যদি টাকা না দেন, তবে স্ত্রী জারি মামলা (Execution Suit) দায়ের করতে পারেন। আদালত স্বামীর মালিকানাধীন জমি, বাড়ি বা ব্যাংক একাউন্ট ক্রোক (Attachment) করে নিলামে তুলে স্ত্রীর পাওনা টাকা আদায় করে দেন অথবা স্ত্রীকে টাকা না দেওয়া পর্যন্ত স্বামীকে দেওয়ানি কারাগারে (Civil Jail) পাঠানোর আদেশ দেন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।