লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
পারিবারিক আদালতে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেনমোহর বা সন্তানের খোরপোশের পক্ষে আদালত থেকে লাখ লাখ টাকার ডিক্রি বা রায় পাওয়া গেল। কিন্তু রায় ঘোষণার পরও যদি স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করে, টালবাহানা করে কিংবা পালিয়ে বেড়ায়—তখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। অথচ পারিবারিক আদালতের রায় কেবল কাগজের টুকরো নয়, তা সরকারের শক্তি প্রয়োগ করে শতভাগ আদায়ের চূড়ান্ত হাতিয়ার হলো ‘পারিবারিক জারি মামলা’ (Family Execution Case)। বিস্তারিত আইনি বিশ্লেষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
পারিবারিক আদালতে মূল মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে বাদীপক্ষের অনুকূলে দেনমোহর, ভরণপোষণ বা বিয়ের উপহারের টাকা পরিশোধের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি (Decree) হওয়ার পর বিবাদী যদি নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে, তবে সেই ডিক্রি আদালতের প্রশাসনিক শক্তিবলে জোরপূর্বক কার্যকর করার জন্য ‘পারিবারিক জারি মামলা’ দায়ের করা হয়।
নতুন পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এর ১৬ ও ১৭ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক জারি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কঠোর ও গতিশীল করা হয়েছে। এই আইনে ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২১-এর পাশাপাশি সরকারি দাবি আদায় আইন (Public Demands Recovery Act)-এর মতো সার্টিফিকেট কেসের কঠোর ক্ষমতা আদালতকে প্রদান করা হয়েছে।
জারি মামলায় হাজির হয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা গড়িমসি করলে পারিবারিক আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি দেওয়ানী গ্রেফতারি পরোয়ানা (Civil Warrant) জারি করেন। পুলিশ স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে টাকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দেওয়ানি কারাগারে (Civil Prison) আটকে রাখার আদেশ হয়।
স্বামীর নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, দোকান, গাড়ি বা পৈতৃক ভিটার অংশ আদালতের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ক্রোক’ করা হয়। ক্রোকাদেশের পর সরকারি নাজিরের মাধ্যমে স্থানীয় জাতীয় দৈনিকে নিলামের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ্যে নিলাম বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ থেকে স্ত্রীর পুরো দেনমোহরের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়।
স্বামী যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হন, তবে আদালত তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বরাবর অফিসিয়াল রিকুইজিশন পাঠিয়ে মাসিক বেতন থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট কিস্তি কেটে বাদীর অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেন। তাছাড়া স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করার আদেশও জারি হয়।