দেনমোহরের রায় কার্যকর করার জারি মামলা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১১ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পারিবারিক আদালতে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেনমোহর বা সন্তানের খোরপোশের পক্ষে আদালত থেকে লাখ লাখ টাকার ডিক্রি বা রায় পাওয়া গেল। কিন্তু রায় ঘোষণার পরও যদি স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করে, টালবাহানা করে কিংবা পালিয়ে বেড়ায়—তখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। অথচ পারিবারিক আদালতের রায় কেবল কাগজের টুকরো নয়, তা সরকারের শক্তি প্রয়োগ করে শতভাগ আদায়ের চূড়ান্ত হাতিয়ার হলো ‘পারিবারিক জারি মামলা’ (Family Execution Case)। বিস্তারিত আইনি বিশ্লেষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

: · পারিবারিক ও বিবাহ আইনজীবী ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালামুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ ও বিধিমালা ২০০৯ (সংশোধিত)
প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরপ্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা)
৪ লাখ টাকার অতিরিক্ত দেনমোহরপরবর্তী প্রতি ১ লাখ বা অংশবিশেষের জন্য মাত্র ১০০ টাকা
সর্বনিম্ন সরকারি নিবন্ধন ফি২০০ টাকা (দেনমোহর কম হলেও সর্বনিম্ন ২০০ টাকা প্রযোজ্য)
রসিদ ও সনদ যাচাইকাজী অফিসের সরকারি রসিদ বহি ও নিবন্ধিত নিকাহনামা (ফরম-ডি)
📋 সূচিপত্র
  1. পারিবারিক জারি মামলা (Execution Case) কী এবং কখন করতে হয়?
  2. পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩: জারি মামলার সহজতর বিধান
  3. স্বামীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি গ্রেফতারি পরোয়ানা (Civil Arrest Warrant) ও জেল
  4. স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) ও প্রকাশ্যে নিলাম বিক্রয়
  5. স্বামীর চাকরি থেকে বেতন কর্তন ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আইনি আদেশ
  6. দেনমোহরের রায় কার্যকর করার ধাপে ধাপে আইনি চেকলিস্ট
  7. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

পারিবারিক জারি মামলা (Execution Case) কী এবং কখন করতে হয়?

পারিবারিক আদালতে মূল মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে বাদীপক্ষের অনুকূলে দেনমোহর, ভরণপোষণ বা বিয়ের উপহারের টাকা পরিশোধের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি (Decree) হওয়ার পর বিবাদী যদি নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে, তবে সেই ডিক্রি আদালতের প্রশাসনিক শক্তিবলে জোরপূর্বক কার্যকর করার জন্য ‘পারিবারিক জারি মামলা’ দায়ের করা হয়।

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩: জারি মামলার সহজতর বিধান

নতুন পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এর ১৬ ও ১৭ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক জারি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কঠোর ও গতিশীল করা হয়েছে। এই আইনে ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২১-এর পাশাপাশি সরকারি দাবি আদায় আইন (Public Demands Recovery Act)-এর মতো সার্টিফিকেট কেসের কঠোর ক্ষমতা আদালতকে প্রদান করা হয়েছে।

স্বামীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি গ্রেফতারি পরোয়ানা (Civil Arrest Warrant) ও জেল

জারি মামলায় হাজির হয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা গড়িমসি করলে পারিবারিক আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি দেওয়ানী গ্রেফতারি পরোয়ানা (Civil Warrant) জারি করেন। পুলিশ স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে টাকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দেওয়ানি কারাগারে (Civil Prison) আটকে রাখার আদেশ হয়।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) ও প্রকাশ্যে নিলাম বিক্রয়

স্বামীর নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, দোকান, গাড়ি বা পৈতৃক ভিটার অংশ আদালতের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ক্রোক’ করা হয়। ক্রোকাদেশের পর সরকারি নাজিরের মাধ্যমে স্থানীয় জাতীয় দৈনিকে নিলামের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ্যে নিলাম বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ থেকে স্ত্রীর পুরো দেনমোহরের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়।

স্বামীর চাকরি থেকে বেতন কর্তন ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আইনি আদেশ

স্বামী যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হন, তবে আদালত তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বরাবর অফিসিয়াল রিকুইজিশন পাঠিয়ে মাসিক বেতন থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট কিস্তি কেটে বাদীর অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেন। তাছাড়া স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করার আদেশও জারি হয়।

দেনমোহরের রায় কার্যকর করার ধাপে ধাপে আইনি চেকলিস্ট

  1. মূল পারিবারিক মামলার রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড নকল সংগ্রহ করুন।
  2. তামাদি আইনের বিধান মেনে ৩ বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে জারি মামলা দায়ের করুন।
  3. স্বামীর কর্মস্থল, ব্যাংকের তথ্য এবং স্থাবর সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট তফসিল আদালতে দিন।
  4. পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট থানার সহায়তায় পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করুন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০