লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13
জীবনের সর্বস্ব সঞ্চয় দিয়ে কিস্তিতে একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার পর দেখা যায়—চুক্তির ৩ বা ৪ বছর পার হয়ে গেলেও বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়নি, ডেভেলপার শুধু সময় বাড়িয়ে যাচ্ছে এবং নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আইনি অধিকার সুরক্ষায় রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বিস্তারিত আইনি সমাধান তুলে ধরেছেন দেওয়ানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (Real Estate Development and Management Act, 2010)-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী—চুক্তিতে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে অনুমোদিত নকশা মোতাবেক ফ্ল্যাট বা প্লট ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া ডেভেলপারের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক। কোনো ডেভেলপার একক সিদ্ধান্তে ফ্ল্যাটের নকশা পরিবর্তন করতে পারবে না কিংবা অন্যায্য অতিরিক্ত নির্মাণ খরচ দাবি করতে পারবে না।
আইনের ১৫(১) ধারা অনুসারে—ডেভেলপার যদি যথাসময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়, তবে বিলম্বিত প্রতি মাসের জন্য চুক্তিতে নির্ধারিত হারে অথবা স্থানীয় প্রচলিত ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ মাসিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্রেতাকে প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। ক্রেতা কিস্তির টাকা যথাযোগ্য সময়ে পরিশোধ করা সত্ত্বেও যদি ফ্ল্যাট বিলম্বিত হয়, তবে ক্রেতা সমুদয় টাকা ব্যাংক মুনাফাসহ ফেরত চেয়ে চুক্তি বাতিলের দাবিও জানাতে পারেন।
ক্রেতা যখন বকেয়া ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, তখন অনেক ডেভেলপার বেআইনিভাবে ক্রেতার অ্যালটমেন্ট বাতিল (Cancellation) করার নোটিশ পাঠিয়ে অন্য কারও কাছে ফ্ল্যাট বিক্রির পাঁয়তারা করে। এমন নোটিশ পাওয়া মাত্রই সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করে ওই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটটির ওপর জরুরি ‘অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ নিতে হবে, যাতে ডেভেলপার ফ্ল্যাটটি আর কারও কাছে হস্তান্তর করতে না পারে।
ডেভেলপার যদি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (REHAB)-এর সদস্য হয়, তবে আইনের ৩৬ ধারা অনুযায়ী প্রথমে একটি আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে রিহ্যাব সালিশি বোর্ডে অভিযোগ দাখিল করা যায়। রিহ্যাব সমাধান করতে ব্যর্থ হলে সরাসরি প্রথম শ্রেণির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বা দেওয়ানি আদালতে মামলা পরিচালনা করা যায়।
অনেক সময় দেখা যায় ১৪০০ স্কয়ার ফিট বলে বুকিং নিয়ে হস্তান্তরের সময় মেপে দেখা যায় কমন স্পেস বাদে ফ্ল্যাট মাত্র ৯৫০ স্কয়ার ফিট! আইনের ১৩ ধারা মতে—প্রতিশ্রুত পরিমাপের চেয়ে কম আয়তনের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলে ঘাটতি অংশের সম্পূর্ণ টাকা ব্যাংকিং সুদের হারসহ ক্রেতাকে ফেরত দিতে হবে।
রিয়েল এস্টেট আইনের ৩০ ও ৩১ ধারা অত্যন্ত কঠোর। নকশা বহির্ভূত নির্মাণ, নির্ধারিত সময়ে দলিল রেজিস্ট্রি না দেওয়া কিংবা ক্রেতার সাথে প্রতারণা করার অপরাধে ডেভেলপারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
চুক্তিপত্রে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত রাখুন: