কোম্পানিতে ডিরেক্টর অপসারণ ও শেয়ার বিরোধ প্রতিকার ২০২৬ — কোম্পানি আদালত ও আরজেএসসি নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে আপনার পার্টনার বা সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডাররা আপনাকে না জানিয়ে গোপনে আরজেএসসি (RJSC)-তে ফরম-১২ জমা দিয়ে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করেছে অথবা আপনার শেয়ার কমিয়ে দিয়েছে? <strong>কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৪৩ ও ২৩৩ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগে অবস্থিত বিজ্ঞ কোম্পানি আদালতে মামলা দায়ের করে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।</strong> কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

কোম্পানি আইন (Companies Act, 1994)-এর ১০৬ ধারা এবং আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA) অনুসারে কোনো পরিচালককে অপসারণ করতে হলে কঠোর নিয়ম মানতে হয়:

  • বিশেষ নোটিশ (Special Notice): সাধারণ সভা (EGM) অনুষ্ঠানের অন্তত ২১ দিন পূর্বে অপসারণের প্রস্তাব সম্বলিত নোটিশ সংশ্লিষ্ট পরিচালককে দিতে হবে।
  • লিখিত জবাব ও আত্মপক্ষ সমর্থন: অভিযুক্ত পরিচালককে সভায় বক্তব্য রাখার এবং শেয়ারহোল্ডারদের সামনে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
  • সাধারণ সভায় ভোটাভুটি: কেবল পরিচালনা পর্ষদের (Board of Directors) সভায় একজন নির্বাচিত পরিচালককে সরানো যায় না; সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তা পাস হতে হয়।

বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রচলিত কোম্পানি জালিয়াতি হলো ভুয়া মিটিংয়ের রেজুলেশন তৈরি করে আরজেএসসিতে ফরম-১২ (Form XII) দাখিল করা:

যদি কোনো পরিচালককে না জানিয়ে ভুয়া পদত্যাগপত্র (Forged Resignation Letter) বা জাল মিটিং দেখিয়ে ফরম-১২ জমা দেওয়া হয়, তবে আরজেএসসি রেজিস্ট্রারের কাছে অবিলম্বে লিখিত আপত্তি দাখিল করতে হবে এবং দণ্ডবিধির ৪৬৮/৪৭১ ধারায় জালিয়াতির ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়।

কোম্পানি আইনের ২৩৩ ধারা হলো সংখ্যালঘু অংশীদারদের ওপর স্বৈরাচারী আচরণ ও নিপীড়ন (Oppression and Mismanagement) বন্ধের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র:

  • যেকোনো শেয়ারহোল্ডার বা গ্রুপ যাদের অন্তত ১০% পেইড-আপ ক্যাপিটাল বা শেয়ার রয়েছে, তারা কোম্পানি আদালতে পিটিশন করতে পারেন।
  • আদালত অনুসন্ধান করে অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টনারকে সংখ্যালঘুর শেয়ার ন্যায্য মূল্যে কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
  • প্রয়োজনে আদালত কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন।

যদি কোনো পরিচালকের শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে হস্তান্তর (Share Transfer) দেখানো হয়, তবে কোম্পানি আইনের ৪৩ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে Rectification of Share Register মামলা করতে হয়:

আদালত ফরম ১১৭ এবং শেয়ার হস্তান্তর দলিলের সত্যতা যাচাই করে অবৈধ হস্তান্তর বাতিল করেন এবং মূল শেয়ারহোল্ডারের নাম শেয়ার রেজিস্টারে পুনঃস্থাপনের আদেশ দেন।

কোম্পানি মামলার প্রাথমিক শুনানিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Injunction) চাওয়া যায়, যাতে বিবাদীরা কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করতে না পারে অথবা স্থাবর ফ্যাক্টরি ও সম্পদ বিক্রি না করতে পারে। জটিল বিরোধে আদালত স্বাধীন রিসিভার (Court Receiver) নিয়োগ করে কোম্পানির চাবি আদালতের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

⚖️ করপোরেট ও কোম্পানি বিরোধে শীর্ষ আইনি নেতৃত্ব

কোম্পানিতে আপনার শেয়ার ও ডিরেক্টরশিপের অধিকার সুরক্ষা করতে সময়মতো কোম্পানি আদালতে পিটিশন ফাইল করা জরুরি। আরজেএসসি ও হাইকোর্ট কোম্পানি বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ