লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-07
তালাক বা বিচ্ছেদ একটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে মানসিক চাপ কিছুটা কমে। বাংলাদেশে তালাকের খরচ নির্ভর করে তালাকের ধরন, এলাকা এবং মামলার জটিলতার উপর। এই গাইডে আমরা ২০২৬ সালে বাংলাদেশে তালাকের সম্পূর্ণ খরচ বিস্তারিত আলোচনা করব।
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক বা বৈবাহিক বিচ্ছেদ বিভিন্নভাবে হতে পারে। তালাকের ধরন অনুযায়ী খরচ ও প্রক্রিয়া আলাদা:
স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী:
স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ চান, তাহলে খুলার মাধ্যমে স্বামীকে মহর (বা অংশ) ফেরত দিয়ে তালাক নিতে পারেন। স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন।
স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করে বিচ্ছেদ আদায় করতে পারেন। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ আছে:
উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ। এটি সবচেয়ে কম ঝামেলার এবং খরচও তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশে তালাক কার্যকর করতে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভুল প্রক্রিয়ায় তালাক আইনত অকার্যকর হতে পারে।
পারিবারিক আদালতে তালাক সংক্রান্ত মামলায় বিভিন্ন ধরনের কোর্ট ফি দিতে হয়।
| মামলার ধরন | আনুমানিক কোর্ট ফি | বিবরণ |
|---|---|---|
| বিচারিক বিচ্ছেদ মামলা | ৫০০ - ২,০০০ টাকা | আরজি দাখিল ফি |
| মহর আদায়ের মামলা | দাবির পরিমাণের উপর নির্ভরশীল | নির্দিষ্ট হারে কোর্ট ফি |
| ভরণপোষণ মামলা | ২০০ - ১,০০০ টাকা | পারিবারিক আদালতে কম ফি |
| সন্তানের হেফাজত | ৫০০ - ২,০০০ টাকা | পারিবারিক আদালত |
| প্রসেস ফি | ৫০ - ২০০ টাকা (প্রতি সমন) | সমন জারির জন্য |
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে কোর্ট ফি তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে, বিশেষত অভাবগ্রস্তদের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে নিঃস্ব মহিলার জন্য বিনা ফিতে মামলা করার সুযোগ আছে।
ইউনিয়ন পরিষদে তালাক নোটিশ দাখিলের জন্য সাধারণত ৫০-২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। সালিশি পরিষদ গঠনে আলাদা কোনো ফি নেই।
তালাক মামলায় সবচেয়ে বড় খরচ সাধারণত আইনজীবীর ফি। এই ফি মামলার জটিলতা, আইনজীবীর অভিজ্ঞতা এবং এলাকাভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়।
| সেবা | ঢাকা (আনুমানিক) | জেলা শহর (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| প্রাথমিক পরামর্শ | ১,০০০ - ৫,০০০ টাকা | ৫০০ - ২,০০০ টাকা |
| সহজ তালাক (মুবারাত) | ১৫,০০০ - ৫০,০০০ টাকা | ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা |
| বিচারিক বিচ্ছেদ (মামলা) | ৩০,০০০ - ২,০০,০০০ টাকা | ১৫,০০০ - ৭৫,০০০ টাকা |
| খুলা তালাক | ২০,০০০ - ৮০,০০০ টাকা | ১০,০০০ - ৪০,০০০ টাকা |
| মহর আদায় মামলা | ২৫,০০০ - ১,৫০,০০০ টাকা | ১০,০০০ - ৫০,০০০ টাকা |
| সন্তানের হেফাজত মামলা | ৩০,০০০ - ২,০০,০০০ টাকা | ১০,০০০ - ৭৫,০০০ টাকা |
মনে রাখবেন: এই পরিমাণ আনুমানিক এবং পরিবর্তনশীল। জটিল মামলায় আপিল পর্যায়ে খরচ আরও বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
| সেবা | আনুমানিক ফি |
|---|---|
| ইউনিয়ন পরিষদে তালাক নোটিশ দাখিল | ৫০ - ২০০ টাকা |
| তালাক নিবন্ধন সনদ | ২০০ - ৫০০ টাকা |
| বিবাহ নিবন্ধন সার্টিফিকেটের কপি | ১০০ - ৩০০ টাকা |
| কাবিননামার সত্যায়িত কপি | ১০০ - ৫০০ টাকা |
তালাক কার্যকর হওয়ার পর নিম্নলিখিত কাগজপত্র সংগ্রহ করুন:
খুলা হলো স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে মহর (বা অন্য ক্ষতিপূরণ) ফেরত দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ নেওয়া। এতে স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন।
স্বামী যদি খুলায় সম্মত না হন, তাহলে স্ত্রীকে পারিবারিক আদালতে বিচারিক বিচ্ছেদের মামলা করতে হবে। এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
উভয় পক্ষ সম্মত হলে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া অনেক সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হয়।
| খরচের ধরন | ঢাকায় | জেলায় |
|---|---|---|
| আইনজীবীর ফি | ১৫,০০০ - ৫০,০০০ টাকা | ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা |
| কোর্ট/নোটিশ ফি | ৫০০ - ২,০০০ টাকা | ২০০ - ১,০০০ টাকা |
| নিবন্ধন ফি | ৫০০ - ২,০০০ টাকা | ২০০ - ১,০০০ টাকা |
| অন্যান্য | ১,০০০ - ৫,০০০ টাকা | ৫০০ - ২,০০০ টাকা |
| আনুমানিক মোট | ১৭,০০০ - ৫৯,০০০ টাকা | ৫,৯০০ - ২৪,০০০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: মহর ফেরত বা ভরণপোষণের পরিমাণ এর বাইরে।
তালাকের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক দিকগুলো সঠিকভাবে বোঝা প্রয়োজন:
তালাকের পর স্বামীকে স্ত্রীর ইদ্দতকাল (প্রায় ৩ মাস) পর্যন্ত ভরণপোষণ দিতে হবে। তালাকের ধরন অনুযায়ী ইদ্দত কাল পরিবর্তিত হয়।
| বিষয় | আইনি বিধান |
|---|---|
| সন্তানের হেফাজত | ছেলে ৭ বছর, মেয়ে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের কাছে |
| সন্তানের ভরণপোষণ | বাবার দায়িত্ব (আয় অনুযায়ী) |
| শিক্ষা খরচ | বাবার দায়িত্ব |
| চিকিৎসা খরচ | বাবার দায়িত্ব |
স্বামী যদি ভরণপোষণ না দেন, তাহলে পারিবারিক আদালতে মামলা করে ভরণপোষণ আদায় করা যায়। আদালত স্বামীর আয় অনুযায়ী ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
উত্তর: না। বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ লিখিতভাবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে দিতে হয়। SMS বা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া তালাক আইনত বৈধ নয়।
উত্তর: নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয় (যদি ইতিমধ্যে মিলন না হয়)। বিচারিক বিচ্ছেদে আদালতের রায়ের পর কার্যকর হয়।
উত্তর: হ্যাঁ। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিস (BLAS) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মহিলাদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়।
উত্তর: হিন্দু আইনে মুসলিম আইনের মতো তালাকের ব্যবস্থা নেই। হিন্দু নারী শুধু আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
উত্তর: তালাকের সনদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসে NID সংশোধন করুন। পাসপোর্টের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে যান।
উত্তর: বাবার নামেই সন্তানের পরিচয় থাকে। হেফাজত মায়ের কাছে থাকলেও সন্তান বাবার নামেই পরিচিত হবে।
তালাক বা বৈবাহিক বিচ্ছেদ মানসিকভাবে কঠিন সময়। এই কঠিন সময়ে আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের অভিজ্ঞ পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ টিম আপনার পাশে থাকবে।
আমাদের চেম্বার উত্তরা, ঢাকাতে অবস্থিত। প্রথম পরামর্শ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। আজই যোগাযোগ করুন।
বিনামূল্যে পরামর্শের জন্য এখানে ক্লিক করুন →
📍 ঠিকানা: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ
🌐 ওয়েবসাইট: advmdshahalam.me
🕐 অফিস সময়: শনি-বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা - বিকাল ৫টা
⚖️ বিশেষ সুবিধা: প্রথম পরামর্শ বিনামূল্যে