লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
বিবাহ বিচ্ছেদ একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের আইনে তালাকের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে এবং প্রতিটি পদ্ধতির আইনি প্রভাব ভিন্ন। সঠিক আইনি পরামর্শ ছাড়া এই প্রক্রিয়া আপনার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী তালাকের প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো:
কোন পদ্ধতি আপনার জন্য প্রযোজ্য তা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। একজন পারিবারিক আইনজীবী সবচেয়ে উপযুক্ত পথ নির্ধারণ করতে সাহায্য করবেন।
মুসলিম আইনে স্বামী তালাক দিতে পারেন — কিন্তু বাংলাদেশে আইনি নিয়ম মেনে দিতে হবে:
গুরুত্বপূর্ণ: সরাসরি মৌখিক তিন তালাক বাংলাদেশের আইনে কার্যকর নয় — এটি একটি তালাক হিসেবে গণ্য হয় এবং উপরের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
খুলা তালাক: স্ত্রী যদি বিচ্ছেদ চান, তিনি দেনমোহর বা অন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন। কাবিনে তালাক-ই-তাওফিজ (স্বামীর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ) না থাকলে সাধারণত পারিবারিক আদালতে যেতে হয়।
মুবারাত: উভয় পক্ষ সম্মত হলে পারস্পরিক সমঝোতায় বিচ্ছেদ হয় — এতে আদালতে যেতে হয় না, তবে আইনি নথিপত্র সম্পন্ন করতে হয়।
কাবিনে তালাক-ই-তাওফিজ থাকলে স্ত্রী স্বামীর মতোই ইউনিয়ন পরিষদে নোটিশ দিয়ে তালাক দিতে পারেন।
স্বামী সম্মত না হলে বা বিভিন্ন কারণে বিচ্ছেদ চাইলে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে তালাকের মামলা করতে পারেন। তালাকের আইনগত কারণ হতে পারে:
পারিবারিক আদালতে মামলা করলে আদালত প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করে। সমঝোতা না হলে বিচারিক তালাকের আদেশ দেন।
বাংলাদেশে তালাক আইনগতভাবে কার্যকর করতে হলে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রক্রিয়া অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা চেয়ারম্যান একটি সালিশি পরিষদ গঠন করে উভয় পক্ষের সমঝোতার চেষ্টা করেন। ৯০ দিনের মধ্যে সমঝোতা না হলে তালাক চূড়ান্ত হয়।
এই নোটিশ প্রক্রিয়া না মানলে তালাক আইনগতভাবে অসম্পূর্ণ থাকে — পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষত সম্পত্তি ও সন্তানের বিষয়ে।
তালাকের পর স্ত্রী কাবিনে নির্ধারিত সম্পূর্ণ দেনমোহর দাবি করার অধিকার রাখেন। দেনমোহরের দুটি অংশ:
দেনমোহর না দিলে পারিবারিক আদালতে মামলা করে আদায় করা যায়। আদালতের আদেশের পর স্বামীর সম্পদ থেকে দেনমোহর আদায় করা সম্ভব।
তালাকের পর ইদ্দতকালীন (তিন মাস) ভরণপোষণ স্বামীকে দিতে হবে। এর বাইরে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে নফকার মামলাও করতে পারেন। আদালত স্বামীর আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে মাসিক ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করেন।
ভরণপোষণ না দিলে আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় — আদালতের আদেশ অমান্য করলে স্বামী আদালত অবমাননার দায়ে পড়েন।
তালাকের পর সন্তানের হেফাজত সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। মুসলিম আইনে মা ছোট সন্তানের হেফাজত পান (হিজানত) — পুত্রের ক্ষেত্রে সাধারণত ৭ বছর, কন্যার ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত।
পিতা সন্তানের আইনগত অভিভাবক এবং ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে পারিবারিক আদালতে মামলা করা যায়।
হেফাজত সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি বিষয়ে অবিলম্বে একজন পারিবারিক আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।