বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা আইন: অধিকার, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02 · ৭ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পারিবারিক সহিংসতা একটি গুরুতর অপরাধ — ঘরের মধ্যে ঘটলেও এটি আইনের বাইরে নয়। বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ নির্যাতিত নারীকে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা দেয়। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

📋 সূচিপত্র
  1. পারিবারিক সহিংসতা কী?
  2. পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০: মূল বিধান
  3. সুরক্ষা আদেশ: তাৎক্ষণিক প্রতিকার
  4. বাসস্থানের আদেশ
  5. ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণের আদেশ
  6. কোথায় অভিযোগ করবেন
  7. নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা

পারিবারিক সহিংসতা কী?

আইনের আওতায় পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে রয়েছে:

  • শারীরিক নির্যাতন: মারধর, আঘাত, চুল টানা, পোড়ানো
  • মানসিক নির্যাতন: হুমকি, ভয় দেখানো, অপমান, নিয়ন্ত্রণ
  • যৌন নির্যাতন: বৈবাহিক ধর্ষণসহ যেকোনো অবাঞ্ছিত যৌন কার্য
  • আর্থিক নির্যাতন: সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা, কর্মসংস্থানে বাধা দেওয়া

শুধু স্বামী নয় — পরিবারের যেকোনো সদস্য (শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর, ননদ) দ্বারা নির্যাতন হলেও আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায়।

পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০: মূল বিধান

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এর মূল বৈশিষ্ট্য:

  • স্থানীয় আদালতে (জেলা জজ আদালত) দ্রুত বিচারের বিধান
  • আদেশ প্রদানে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানি
  • সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা
  • এফআইআর ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ
  • নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক ধরনের আদেশ

সুরক্ষা আদেশ: তাৎক্ষণিক প্রতিকার

সুরক্ষা আদেশের মাধ্যমে আদালত নির্যাতনকারীকে নির্দেশ দিতে পারেন:

  • আবেদনকারীর কাছে না যাওয়া
  • আবেদনকারীর কর্মস্থল বা সন্তানের স্কুলে না যাওয়া
  • নির্যাতন বন্ধ করা
  • নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা

এই আদেশ লঙ্ঘন করলে নির্যাতনকারীকে গ্রেফতার করা যায়। একজন পারিবারিক আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে এই আদেশ পেতে সহায়তা করতে পারেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

বাসস্থানের আদেশ

আদালত বাসস্থান আদেশের মাধ্যমে নির্যাতনকারীকে বাড়ি থেকে বের করতে বা আবেদনকারীকে বাড়িতে থাকার অধিকার দিতে পারেন — এমনকি বাড়িটি স্বামীর নামে থাকলেও।

নির্যাতনের কারণে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে আশ্রয় নেওয়া যায়।

কোথায় অভিযোগ করবেন

পারিবারিক সহিংসতার শিকার হলে:

  • স্থানীয় থানা: প্রাথমিক সাধারণ ডায়েরি বা এফআইআর করুন
  • জেলা জজ আদালত: পারিবারিক সহিংসতা আইনে সরাসরি আবেদন করুন
  • ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC): ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ সারা দেশে — চিকিৎসা, আশ্রয় ও আইনি সহায়তা একসাথে
  • জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা: বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য

অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — ঢাকা ও উত্তরার পারিবারিক আইনজীবী — পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের জরুরি আইনি সহায়তা প্রদান করেন।

নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা

পারিবারিক সহিংসতার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও করা যায়:

  • শারীরিক নির্যাতনের জন্য কারাদণ্ড
  • যৌতুকের কারণে নির্যাতনে কঠোর শাস্তি
  • এসিড নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ: নির্যাতনের শারীরিক প্রমাণ (চিকিৎসকের সার্টিফিকেট, ছবি) যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করুন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

স্বামী মারলে থানায় মামলা করলে কি স্বামীকে গ্রেফতার করা হবে?

মামলার ধরন অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গুরুতর নির্যাতনে সরাসরি গ্রেফতার হতে পারে।

মামলা করলে কি সংসার ভেঙে যাবে?

মামলা করলেই সংসার ভাঙবে না। সুরক্ষা আদেশ পেলেও দাম্পত্য সম্পর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। আইন সুরক্ষা দেয়, বিচ্ছেদ বাধ্য করে না।

আর্থিক নির্যাতনের প্রমাণ কীভাবে সংগ্রহ করবো?

ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পদের কাগজপত্র এবং সাক্ষীর বক্তব্য সংগ্রহ করুন। একজন আইনজীবী আপনাকে কোন প্রমাণ কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে তা গাইড করবেন।

গ্রামীণ এলাকায় পারিবারিক সহিংসতার শিকার হলে কী করবো?

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানে অভিযোগ করুন, থানায় যান এবং জেলা আইনি সহায়তা কমিটির সাথে যোগাযোগ করুন। বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০