বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিবাহ: আইনি অধিকার ও পরিণতি
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-20
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
ইসলামি আইনে চারটি পর্যন্ত বিবাহের অনুমতি থাকলেও বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ (MFLO) দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছে। অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা ফৌজদারি অপরাধ।
MFLO ১৯৬১: অনুমতির বাধ্যবাধকতা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ (MFLO) অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো মুসলিম পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করতে হলে আগে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে:
- স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
- আবেদনে দ্বিতীয় বিবাহের কারণ ও প্রথম স্ত্রীর লিখিত সম্মতির কথা উল্লেখ থাকতে হবে।
- চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।
- পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে দ্বিতীয় বিবাহ ন্যায়সংগত কিনা।
- অনুমতিপত্র পাওয়ার পরেই দ্বিতীয় নিকাহ হতে পারবে।
নিজের পরিস্থিতিতে আইনি পরামর্শের জন্য একজন পারিবারিক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অনুমতি ছাড়া বিবাহের পরিণতি
সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে MFLO ১৯৬১ অনুযায়ী কঠোর পরিণতি:
- ফৌজদারি অপরাধ: সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড, ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়।
- দেনমোহর তাৎক্ষণিক প্রদেয়: প্রথম স্ত্রীর সম্পূর্ণ বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য হবে।
- বিবাহ বাতিল নয়: দ্বিতীয় বিবাহটি বাতিল হয় না — তবে স্বামী উপরোক্ত শাস্তির সম্মুখীন হন।
প্রথম স্ত্রীর অধিকারসমূহ
প্রথম স্ত্রীর আইনি সুরক্ষা:
- সালিশি পরিষদে অংশগ্রহণের অধিকার: তাকে অবশ্যই নোটিশ দিতে হবে এবং প্রতিনিধি মনোনয়নের সুযোগ দিতে হবে।
- আপত্তির অধিকার: তার আপত্তি পরিষদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
- তাৎক্ষণিক তালাকের অধিকার: কাবিননামায় তালাক-ই-তাফউইজ থাকলে দ্বিতীয় বিবাহের সাথে সাথেই প্রয়োগ করতে পারবেন।
- সম্পূর্ণ দেনমোহরের দাবি।
- ভরণপোষণের অধিকার।
প্রথম স্ত্রী হিসেবে আপনার অধিকার রক্ষায় তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য ঢাকার পারিবারিক আইনজীবী যোগাযোগ করুন।