দ্বিতীয় বিবাহ আইন বাংলাদেশ – স্বামীর ২য় বিয়ে ঠেকানোর উপায় ও স্ত্রীর আইনি অধিকার
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22 · ১২ মিনিট পড়ুন
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এবং তার সম্মতি না নিয়েই স্বামী গোপনে বা প্রকাশ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করে বসেন। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বহুবিবাহের কথা বলা হলেও, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি পরিষদের অনুমোদন ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। স্বামীর প্রথম স্ত্রী হিসেবে আপনার কি কি আইনি অধিকার রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে কীভাবে ঠেকাবেন এবং অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে কীভাবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন—তা ২০২৬ সালের আইনের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিন
হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাই
supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিবাহের আইনি ভিত্তি (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১)
বাংলাদেশে মুসলমানদের পারিবারিক বিষয়াবলী মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনের ৬ ধারা (Section 6) অনুযায়ী কোনো পুরুষ প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালে অন্য কোনো বিবাহে আবদ্ধ হতে পারবেন না, যদি না তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বাহ্নে লিখিত অনুমতি লাভ করেন।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা হলে সেই বিবাহ রেজিস্ট্রি করা কাজীর জন্যও আইনত অপরাধ।
প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ও সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) অনুমতি বাধ্যতামূলক
আইন অনুযায়ী স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই দুটি স্তরের অনুমতি নিতে হবে:
প্রথম স্ত্রীর লিখিত সম্মতি: প্রথম স্ত্রী কি দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি আছেন কি না।
সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) মঞ্জুরি: চেয়ারম্যান (ইউপি/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন)-এর নেতৃত্বে গঠিত সালিশি পরিষদে স্বামীকে লিখিত আবেদন করতে হবে এবং যুক্তি দেখাতে হবে (যেমন: প্রথম স্ত্রী বন্ধ্যা কি না, মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা আছে কি না বা স্ত্রীর মানসিক অবস্থা)।
যদি সালিশি পরিষদ বিবেচনা করে মনে করে যে দ্বিতীয় বিয়ে করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কেবল তখনই তারা অনুমতিপত্র দেবে। প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া সালিশি পরিষদ সচরাচর অনুমতি দেয় না।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্বামীর জন্য নির্ধারিত আইনি সাজা ও জরিমানা
যদি কোনো স্বামী প্রথম স্ত্রীর সম্মতি এবং সালিশি পরিষদের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী স্বামী নিম্নলিখিত শাস্তির মুখোমুখি হবেন:
১ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড; এবং/অথবা
১০,০০০০০ (দশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড।
তাত্ক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা: প্রথম স্ত্রীর দেনমোহর (Mahr) তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য (Immediately Payable) হয়ে যাবে, তা মুঅজ্জল (Prompt) বা মুঅজ্জল (Deferred) যাই হোক না কেন।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকানোর জন্য স্ত্রীর করণীয় (জরুরি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ)
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন এমন খবর বা সন্দেহ পেলে স্ত্রী নিম্নলিখিত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন:
চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরকে লিখিত অবহিতকরণ: স্বামী যে এলাকার অধিবাসী, সেই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেয়রের নিকট লিখিত আবেদন জমা দিন যে আপনি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মত নন এবং আপনার সম্মতি ছাড়া যেন কোনো সালিশি অনুমতি না দেওয়া হয়।
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া করা দ্বিতীয় বিয়ে কি অবৈধ হয়ে যাবে?
ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিয়ে টিকে থাকলেও, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া করা দ্বিতীয় বিয়ে একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। স্বামী জেলে যাবেন এবং প্রথম স্ত্রীকে পুরো দেনমোহর দিতে বাধ্য থাকবেন।
দ্বিতীয় বিয়ের কথা লুকিয়ে প্রথম স্ত্রীর সাথে থাকা কি অপরাধ?
হ্যাঁ। প্রথম স্ত্রীর কাছে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করা প্রতারণা এবং দণ্ডবিধির ৪১৫/৪১৭ ধারায় ফৌজদারি অপরাধ।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০