দ্বিতীয় বিবাহ আইন বাংলাদেশ – স্বামীর ২য় বিয়ে ঠেকানোর উপায় ও স্ত্রীর আইনি অধিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এবং তার সম্মতি না নিয়েই স্বামী গোপনে বা প্রকাশ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করে বসেন। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বহুবিবাহের কথা বলা হলেও, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি পরিষদের অনুমোদন ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। স্বামীর প্রথম স্ত্রী হিসেবে আপনার কি কি আইনি অধিকার রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে কীভাবে ঠেকাবেন এবং অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে কীভাবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন—তা ২০২৬ সালের আইনের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিবাহের আইনি ভিত্তি (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১)

বাংলাদেশে মুসলমানদের পারিবারিক বিষয়াবলী মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনের ৬ ধারা (Section 6) অনুযায়ী কোনো পুরুষ প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালে অন্য কোনো বিবাহে আবদ্ধ হতে পারবেন না, যদি না তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বাহ্নে লিখিত অনুমতি লাভ করেন।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা হলে সেই বিবাহ রেজিস্ট্রি করা কাজীর জন্যও আইনত অপরাধ।

প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ও সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) অনুমতি বাধ্যতামূলক

আইন অনুযায়ী স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই দুটি স্তরের অনুমতি নিতে হবে:

  1. প্রথম স্ত্রীর লিখিত সম্মতি: প্রথম স্ত্রী কি দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি আছেন কি না।
  2. সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) মঞ্জুরি: চেয়ারম্যান (ইউপি/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন)-এর নেতৃত্বে গঠিত সালিশি পরিষদে স্বামীকে লিখিত আবেদন করতে হবে এবং যুক্তি দেখাতে হবে (যেমন: প্রথম স্ত্রী বন্ধ্যা কি না, মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা আছে কি না বা স্ত্রীর মানসিক অবস্থা)।

যদি সালিশি পরিষদ বিবেচনা করে মনে করে যে দ্বিতীয় বিয়ে করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কেবল তখনই তারা অনুমতিপত্র দেবে। প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া সালিশি পরিষদ সচরাচর অনুমতি দেয় না।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্বামীর জন্য নির্ধারিত আইনি সাজা ও জরিমানা

যদি কোনো স্বামী প্রথম স্ত্রীর সম্মতি এবং সালিশি পরিষদের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী স্বামী নিম্নলিখিত শাস্তির মুখোমুখি হবেন:

  • ১ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড; এবং/অথবা
  • ১০,০০০০০ (দশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড।
  • তাত্ক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা: প্রথম স্ত্রীর দেনমোহর (Mahr) তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য (Immediately Payable) হয়ে যাবে, তা মুঅজ্জল (Prompt) বা মুঅজ্জল (Deferred) যাই হোক না কেন।

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকানোর জন্য স্ত্রীর করণীয় (জরুরি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ)

স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন এমন খবর বা সন্দেহ পেলে স্ত্রী নিম্নলিখিত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন:

  1. চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরকে লিখিত অবহিতকরণ: স্বামী যে এলাকার অধিবাসী, সেই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেয়রের নিকট লিখিত আবেদন জমা দিন যে আপনি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মত নন এবং আপনার সম্মতি ছাড়া যেন কোনো সালিশি অনুমতি না দেওয়া হয়।
  2. পারিবারিক আদালতে নিষেধাজ্ঞা (Injunction): পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ অনুযায়ী সহকারি জজ/পারিবারিক আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আবেদন করে স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়।
  3. কাজী সমিতিতে লিখিত নোটিশ: সংশ্লিষ্ট এলাকার নিকাহ নিবন্ধক (কাজী) সমিতিতে লিখিত নোটিশ দিয়ে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন না করার অনুরোধ জানানো।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে ১ম স্ত্রীর ৪টি সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার

স্বামী গোপনে বা বেআইনিভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেললে প্রথম স্ত্রী ৪টি কার্যকর আইনি প্রতিকার পাবেন:

  • ১. ফৌজদারি মামলা দায়ের: ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৯৬১ সালের আইনের ৬(৫) ধারায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে সাজা প্রদান করানো।
  • ২. দেনমোহর আদায়ের মামলা: পারিবারিক আদালতে সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য মামলা করা।
  • ৩. খোরপোষ ও ভরণপোষণ দাবি: ১ম স্ত্রী হিসেবে নিজের ও সন্তানদের মাসিক খোরপোষের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা।
  • ৪. তালাক প্রদান (তালাকে তফউইজ): স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে কাবিনের ১৮ নং ঘরের ক্ষমতাবলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার লাভ করা।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।