লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৭ মিনিট
জমি কেনা বা পৈতৃক সূত্রে পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসে নামজারি (Mutation) আবেদন করা হলেও অনেক সময় আবেদনটি কোন টেবিলে আটকে আছে, তহশিলদার প্রতিবেদন দিয়েছেন কিনা কিংবা শুনানির নির্ধারিত তারিখ কবে—তা জানতে আবেদনকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ভূমি মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS)-এর সমন্বিত পোর্টালের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন দিয়ে ২ মিনিটে ই-নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়। আবেদনের ট্র্যাকিং পদ্ধতি ও কোনো কারণে নামজারি নামঞ্জুর হলে কীভাবে আপিল করবেন—তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ জমি বিশেষজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে আলোচনা করা হলো। জমিজমা ও নামজারি বিরোধে আইনি পরামর্শ পেতে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২-৬৫৫৫৪৬</a>।
অনলাইনে ই-নামজারির আবেদন করার সাথে সাথেই সিস্টেমে একটি স্বয়ংক্রিয় আবেদন আইডি (Application Tracking ID) জেনারেট হয় এবং আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস আসে।
আবেদন ট্র্যাকিং করার মাধ্যমে জানা যায়—আবেদনটি বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার), কানুনগো নাকি এসিল্যান্ড সাহেবের টেবিলে রয়েছে, কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি আছে কিনা এবং শুনানির দিন ধার্য হয়েছে কিনা। এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়।
যেকোনো স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজেই ট্র্যাকিং করুন:
সাথে সাথেই আপনার আবেদনের ফাইলটি কোন তারিখে কার কাছে গেছে, কোনো আপত্তি পড়েছে কিনা এবং চূড়ান্ত আদেশের কপি স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।
একটি ই-নামজারি ফাইল সাধারণত ৪টি মূল ধাপ অতিক্রম করে:
শুনানির তারিখ নির্ধারণ হলে মোবাইলে এসএমএস আসবে এবং পোর্টালে শুনানির নোটিশ পাওয়া যাবে। শুনানির দিন আবেদনকারীকে মূল দলিলপত্র সাথে নিয়ে এসিল্যান্ডের সামনে উপস্থিত হতে হবে:
আবেদন মঞ্জুর হলে মোবাইলে ১,১০০ টাকা সরকারি ডিসিআর ফি পরিশোধের লিঙ্ক আসে। বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করার সাথে সাথে কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত ডিজিটাল ডিসিআর (Duplicate Carbon Receipt) এবং অনলাইন খতিয়ান তৈরি হয়। এটি সরাসরি পিডিএফ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নেওয়া যায়। এই অনলাইন খতিয়ানের জন্য আর এসিল্যান্ড অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না।
যদি এসিল্যান্ড সাহেব ভিত্তিহীন কারণে বা প্রতিপক্ষের মিথ্যা আপত্তির ভিত্তিতে আপনার নামজারি আবেদন নামঞ্জুর (Rejected) করেন, তবে হতাশ হবেন না। স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০ (SAT Act)-এর ১৫০ ধারা অনুযায়ী:
আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি রাজস্ব / ADC Revenue) বরাবরে 'নামজারি মিস আপিল' দায়ের করতে হবে। একজন অভিজ্ঞ জমি আইনজীবীর মাধ্যমে সঠিক আরজি ও পিট দলিল উপস্থাপন করলে এডিসি রাজস্ব এসিল্যান্ডের ভুল আদেশ বাতিল করে আপনার পক্ষে নামজারির নির্দেশ দেন।
যৌথ খতিয়ানের জমি আলাদা নামজারি করতে গেলে অন্যান্য শরিকরা অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে আপত্তি দাখিল করে। আপত্তি দাখিল হলে এসিল্যান্ড উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে দলিলপত্র নিরীক্ষা করেন। যদি আবেদনকারীর দখল ও দলিলের বৈধতা থাকে, তবে কারও অন্যায় আপত্তির কারণে নামজারি আটকে রাখা যায় না।
নামজারি খতিয়ান ছাড়া জমি বিক্রি করা, ব্যাংক ঋণ নেওয়া বা সরকারকে খাজনা দেওয়া সম্ভব নয়। কোনো জটিল খতিয়ান, ভুয়া পর্চা বা এসিল্যান্ড অফিসে আটকে থাকা নামজারি ফাইলে সঠিক আইনি সমাধান পেতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর পরামর্শ অত্যন্ত ফলপ্রসূ। নামজারি মিস আপিল ও জমিজমা সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
ই-নামজারিতে সরকার নির্ধারিত সর্বমোট ফি ১,১৭০ টাকা (আবেদন ফি ২০ টাকা + নোটিশ ফি ৫০ টাকা + রেকর্ড সংশোধন ও ডিসিআর ফি ১,০০০ টাকা + খতিয়ান ফি ১০০ টাকা)। এর বাইরে কোনো বাড়তি টাকা সরকারিভাবে লাগে না।
পোর্টালে আবেদন ট্র্যাকিং করে দেখুন ফাইলটি কার কাছে আটকে আছে। এরপর সরাসরি এসিল্যান্ড সাহেবের গণশুনানি বা সাপ্তাহিক অভিযোগ দিবসে গিয়ে ট্র্যাকিং নম্বর দেখিয়ে কারণ জানতে চান।
না। বর্তমানে অনলাইনে ইস্যু করা কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ান ও ডিসিআর শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল দলিল। এতে কোনো ম্যানুয়াল স্বাক্ষর বা সিলের প্রয়োজন হয় না; কিউআর কোড স্ক্যান করেই এর সত্যতা যাচাই করা যায়।
এডিসি রাজস্বের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের (Divisional Commissioner) আদালতে আপিল এবং তার আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডে (Land Appeal Board) যাওয়া যায়।