লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17 · ১২ মিনিট পড়ুন
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্ষোভে বা আক্রোশে প্রেমিকা বা স্ত্রীর গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, কিংবা সিসিটিভি বা ডিপফেক প্রযুক্তিতে বিকৃত ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে সম্মানহানির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। অনেকেই লোকলজ্জায় আত্মহত্যা বা আত্মগোপনের পথ বেছে নেন। অথচ ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাইবার আইনে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতার এবং কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভিকটিমদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষার উপায় বিশ্লেষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারা অনুযায়ী—কোনো নারী বা পুরুষের অনুমতি ছাড়া তার একান্ত ব্যক্তিগত বা যৌনদৃশ্য ধারণ করা, কোনো মাধ্যমে প্রচার করা বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ।
আতঙ্কিত হয়ে নিজের আইডি ডিলিট করবেন না। অপরাধীর ফেসবুক প্রোফাইল লিংক, যে পেজ বা গ্রুপে ভিডিও পোস্ট হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ইউআরএল (URL), এবং কমেন্ট ও পোস্টের স্পষ্ট স্ক্রিনশট ও স্ক্রিন রেকর্ডিং সংগ্রহ করুন। এরপর ফেসবুকের ‘Report Post -> Non-consensual sexual content / Harassment’ অপশনে গিয়ে রিপোর্ট দিন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (BGD e-GOV CIRT) সরাসরি মেটা ও গুগলের এমার্জেন্সি টেকডাউন চ্যানেলের সাথে যুক্ত। থানায় একটি জিডি করে সেই জিডি নম্বরসহ বিটিআরসির ইমেইলে btrc@btrc.gov.bd বা হটলাইন ১০০-এ আবেদন করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভিডিওর লিংক বাংলাদেশ থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
সিআইডির বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ সেন্টার এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম সাইবার ক্রাইম ডিভিশন অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ভিকটিমদের পরিচয় গোপন রেখে তদন্ত চালায়। পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামির ডিভাইস, মেমোরি কার্ড ও ক্লাউড অ্যাকাউন্ট জব্দ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায়।
থানা যদি কোনো কারণে মামলা নিতে গড়িমসি করে, তবে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি সিআর পিটিশন মামলা দায়ের করা যায়। বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি গ্রহণ করে সিআইডি বা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনে আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।