লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১০ মিনিট পড়ুন
হঠাৎ দেখলেন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি লগআউট হয়ে গেছেন, পাসওয়ার্ড আর মিলছে না এবং আপনার বন্ধু-বান্ধবের কাছে টাকা চেয়ে বা আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কার্যকর আইনি পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
অ্যাকাউন্ট হাতছাড়া হওয়ার সাথে সাথে ফেসবুকের অফিসিয়াল রিকভারি লিংক facebook.com/hacked-এ প্রবেশ করে ‘My account is compromised’ সিলেক্ট করুন। পূর্বে যুক্ত থাকা পুরনো ইমেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে সিকিউরিটি আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন (এনআইডি বা পাসপোর্ট আপলোড) সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন। একই সাথে লিংক করা জিমেইল বা ইয়াহু মেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন অন করুন।
হ্যাকার যদি আপনার আইডি থেকে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেয়, কাউকে হুমকি দেয় বা আর্থিক প্রতারণা করে, তবে ফৌজদারি দায় আপনার ওপর চাপতে পারে। তাই নিকটস্থ থানায় গিয়ে অবিলম্বে একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন। জিডিতে স্পষ্ট উল্লেখ রাখুন—আইডিটি ঠিক কত তারিখ ও সময়ে আপনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই জিডির কপি ভবিষ্যতে আপনার সবচেয়ে বড় আইনি ঢাল হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ ও ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সরাসরি হটলাইনে যোগাযোগ করা যায়:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
হ্যাকার যদি মেসেঞ্জারে টাকা দাবি করে কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ফাঁসের হুমকি দেয়, তবে কখনোই কোনো টাকা পাঠাবেন না। কারণ একবার টাকা দিলে দাবির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। সমস্ত চ্যাট, বিকাশ/নগদ নম্বর এবং প্রোফাইল লিংকের স্ক্রিনশট ও লিঙ্ক আলাদা মেমোরিতে সংরক্ষণ করে সরাসরি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা থানায় প্রমাণ দিন।
সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী অন্যের ডিজিটাল পরিচয় চুরি করা, অননুমোদিত অ্যাক্সেস নেওয়া এবং ব্ল্যাকমেইল করা জামিনহীন আমলযোগ্য অপরাধ। পুলিশ অপরাধীর আইপি অ্যাড্রেস ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে ডিভাইসসহ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারে এবং অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।